আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৬৫ বার

মনুষ্যত্বের আলোককে রাঙাতে যশোরে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপি লোকসংস্কৃতি উৎসব

স্বপ্না দেবনাথ : মনুষ্যত্বের আলোককে রাঙাতে যশোরে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপি লোকসংস্কৃতি উৎসবলোক রং-এ মনুষ্যত্বের আলোককে রাঙাতে যশোরে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপি লোকসংস্কৃতি উৎসব। আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন আর প্রলোভনের যুগে বাঙালী সংস্কৃতির সেই মূল প্রাণ লোক সংস্কৃতির স্বরূপ আর আবেদন সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে উদীচী যশোর জেলা সংসদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এ উৎসব। ‘ফিরে চল মাটির টানে’ এ মূলমন্ত্রে প্রতিবারের মত এবারো উৎসব আয়োজন করেছে উদীচী। বুধবার বিকেলে টাউনহল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হলেও সন্ধ্যার পর উদীচী সংগীত এবং মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বালনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক শুভারম্ভ হয়। শুভারম্ভ ঘোষণা করেন উদীচীর উপদেষ্টা বিশিষ্ট সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডাক্তার কাজী রবিউল হক। উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন যশোর জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন। আরো উপস্থিত ছিলেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমান মুফিজ, যশোর উদীচী সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান শাহিদ, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, উৎসব উদযাপন পর্ষদ আহবায়ক মাহবুবুর রহমান মজনু, উদীচীর উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা এড. আব্দুস শহীদ লাল, সা¤প্রদায়িক সন্ত্রাস নির্মূল কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক সন্তোষ হালদার, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম রন্টু, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক এড. মাহমুদ হাসান বুলু, সিপিবি নেতা এলাহদাদ খান, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফারাজী সাঈদ আহমেদ বুলবুল সহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ূন কবীর বলেন, বাঙালীর লোকসংস্কৃতির ঐতিহাসিক ভিত্তি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সা¤প্রদায়িকতা, জঙ্গীবাদ, ধর্মীয় মৌলবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীল চক্রান্ত বাঙালীর লোকসংস্কৃতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সংস্কৃতির প্রতি আসা এ আগ্রাসনকে ঠেকাতে উদীচীর এ আয়োজন প্রশংসার দাবিদার। নিজস্ব শেকড়ের সাথে সম্পৃক্ত এ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে এবং তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দিতে এ লোকসংস্কৃতি উৎসব বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে যশোরের গানের পাখী শিরিন সুলতানার মৃত্যু সংবাদ পৌছালে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। এ সময় শিল্পীর প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
উৎসবের ঘোষণা পত্র পাঠ করেন উদীচীর সহ সাধারণ সম্পাদক নবনিতা সাহা তপু এবং স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব উদযাপন পর্ষদের সদস্য সচিব মারুফ হাসান। কাজী শাহেদ নওয়াজের সঞ্চালনায় প্রথম দিনের উৎসবে উদীচীর নির্বাচিত শিল্পীদের পরিবেশনায় পাশাপাশি লালন, হাসন, রাধারমন, শাহ আব্দুল করিম, দুধু শাহ, পঞ্জু শাহ, বিজয় সরকারের গান পরিবেশন করেন যশোরের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকশিল্পীরা। নতুন করে স্বাদ পেয়েছে বাঙালীর মাটির সুরের। যে সুর মানব সেবার ব্রত জোগায়। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে সকলকে একই সাথে হাতে হাত মিলিয়ে চলতে অনুপ্রেরণা দেয়। এ আয়োজনে ফকির শাহবুদ্দিনের সাথে অতিথি শিল্পী হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের শিল্পী আতাউর রহমান আতাব। স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে সঙ্গীত পরিবেশন করেন পরিতোষ বাউল, মাসুম বাউল, বাউল মজিদ সাই, পপি সরকার, মকবুল হোসেন, ওসমান ক্ষ্যাপা, বাবুল বাউল, নিতু শীল প্রমুখ। মনুষ্যত্বের আলোককে রাঙাতে যশোরে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপি লোকসংস্কৃতি উৎসব
এ উৎসব আয়োজন সম্পর্কে উদীচী যশোর জেলা সভাপতি ডিএম শাহিদুজ্জামান বলেন, যথাযথ ভাবে যদি লোক সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক যদি তুলে ধরা হয়, তাহলে লোক-সংস্কৃতির পক্ষে জনমানসে এক ধরনের প্রণোদনা তৈরি হবে, যা এই সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে বিশেষ সহায়তা করবে। সেই বিশ্বাস থেকেই এ আয়োজন। কেননা লোক সংস্কৃতির ধারা শিক্ষিত ও নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলে। সচেতন ও নিজস্ব গৌরববোধে এটি নিজেদের কাছে যেন গুরুত্বহীন হয়ে না যায় সকলের কাছে এটিই চাওয়া। নিজের মাটির সুরকে অবজ্ঞা করলে একদিন আমাদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।
লোকসংস্কৃতি উৎসব উদযাপন পর্ষদ ১৪২৪ এর আহবায়ক মাহবুবুর রহমান মজনু বলেন, স্থান সংকটে আমরা এবার পাঁচ দিনের বদলে টাউনহল মাঠে দু’দিনের উৎসব উদযাপন করছি। তবে এবারের উৎসবের ব্যাপ্তি ঘটবে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও। উদীচীর লোকসংস্কৃতি উৎসব পাঁচদিনেরই হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার টাউনহলের অনুষ্ঠান শেষ হলেও আগামী তিনদিন ঝিকরগাছার গদখালি, কেশবপুর এবং অভয়নগরের শাখা উদীচী স্ব স্ব আয়োজনে উৎসব করবে।
উল্লেখ্য আজকের সমাপনি আয়োজনও শুরু হবে বিকেল ৫টায় অন্যান্য জেলার অতিথি শিল্পীদের পাশাপাশি আজও স্থানীয় শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করবেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj