আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ২৯০ বার

যবিপ্রবির উপাচার্য নিজ বাসায় ‘ভাড়াটিয়া’!

যশোর শহরের পালবাড়ী এলাকায় নিজ বাসভবনে ‘ভাড়াটিয়া’ হিসেবে বসবাস করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার। অথচ গত তিন বছর খাতা-কলমে দেখানো হয়েছে ওই বাসা ভাড়া নেয়া হয়েছে। আর বাসার মালিক হিসেবে উপাচার্যের স্ত্রী নাসিমা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ভাড়াবাবদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ির তিনটি মিটারের বিদ্যুৎ বিল, আসবাবপত্রও কেনা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়। বৃহস্পতিবার ৬ এপ্রিল উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মার্চে বাসা ভাড়ার চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত সোয়া কোটি টাকার ‘ভিসির বাসভবন’ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অব্যবহৃত রয়েছে। সেটি কখনও বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। এ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নিজ বাসা ভাড়া নেয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড.আবদুস সাত্তার প্রথমে বলেন, আমি নিজের বাসায় থাকি। বাসা ভাড়া নেব কেন। আমি বাসা ভাড়া নিই না। আর ক্যাম্পাসের বাসভবন অসম্পন্ন। এজন্য শহরের বাসায় থাকি। একটু পরে তিনি বলেন, যে বাসা ভাড়া নেয়া হয়েছে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেস্ট হাউস কাম আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে।

কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাড়া নেয়া বাসাটি ড. আবদুস সাত্তারের নিজেরই। এটি তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘ভিসির বাসভবন’ হিসেবেই ভাড়া নিয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উত্তর-পূর্ব পাশে প্রাচীর ঘেরা নান্দনিক একটি ভবনের অবস্থান। একতলা বিশিষ্ট ভবনটির নাম ‘ভিসির বাসভবন’। ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ভবনের নির্মাণ শেষ হয়েছে ২০১৪ সালের জুনে। তবে যার জন্য ভবনটি নির্মাণ, সেই উপাচার্য একদিনও বসবাস করেননি এখানে। দরজায় একটি তালা ঝুলছে। তালার গায়ে মরিচা। দেখলেই বোঝা যায়, দীর্ঘদিন ঘরটির প্রধান দরজা খোলা হয়নি। তিন বছর ধরে ড. আবদুস সাত্তার শহরের পালবাড়ী মোড়ের নিজস্ব বাসভবনে বসবাস করছেন, এটা সবাই জানেন। কিন্তু খাতা-কলমে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। আর ভাড়া বাসার মালিক তার স্ত্রী নাসিমা খাতুন জুঁই। তিন বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ট্রেজারার ও উপাচার্যের একান্ত সচিব বাসার মালিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজস্ব খাত থেকে বাসা ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ওই বাসার বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় খাত থেকে। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারিতে ৪ হাজার ১০২ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়। ভাড়া বাসার জন্য প্রতি বছর কমপক্ষে ২ লাখ টাকার নতুন ক্রোকারিজ, আসবাবপত্র, লেপ-তোশক কেনা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বাসভবনটি ব্যবহার না করে নিজের বাসায় থেকেছেন ভিসি। নিজের বাসাকে ভাড়া দেখিয়ে টাকা উত্তোলনকে অনৈতিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, সবাই জানেন ভিসি নিজ বাসভবনে থাকেন। কিন্তু খাতা-কলমে তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন। এটি গোপন করার সুযোগ নেই। খাতা-কলমে তার প্রমাণ রয়েছে। এটি করা উচিত হয়নি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপাচার্যের একান্ত সচিব এটিএম কামরুল হাসান মুঠোফোনে বলেন, উপাচার্যের স্ত্রী নাসিমা আক্তার জুঁইয়ের সঙ্গে বাসা ভাড়ার চুক্তি হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। ওই চুক্তিপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আমি ও ট্রেজারার স্যার স্বাক্ষর করেছিলাম। ৬ এপ্রিল উপাচার্য স্যারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মার্চে বাতিল করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ২০১৪ সালের জুনে উপাচার্যের বাসভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু উপাচার্য স্যার সেখানে কোনো দিন বসবাস করেননি।

তথ্যসূত্রঃ Jugantor