আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১০২ বার

নবগঙ্গার বুকজুড়ে এখন ফসলের ঢেউ

এস আর এ হান্নান : নবগঙ্গার বুকজুড়ে এখন ফসলের ঢেউএখন আর উথাল-পাথাল ঢেউ ওঠেনা নবগঙ্গায়। নেই তর্জন-গর্জনও। দূর থেকে শোনা যায়না পাড় ভাঙ্গার শব্দ। টগবগে সেই যৌবনদীপ্ত নবগঙ্গা নদীটি এখন ফসলের মাঠে পরিণত হয়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত নবগঙ্গার বুকজুড়ে বোরো ধানের সমারোহ। নদী পাড়ের কৃষকরা নদীবক্ষে বোরো আবাদে নিরন্তর পরিশ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। মরনাপন্ন নবগঙ্গা এখন শান্ত, নিথর এবং শীর্ণকায় খালে পরিণত হয়েছে। যার বুকজুড়ে বোরো ধানের চাষ হচ্ছে। মাগুরার মহম্মদপুরের বিনোদপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপ্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা এখন আর মুর্তিমান আতঙ্ক নয়; বরং এটি এখন নদী পাড়ের শত শত কৃষকের কাছে আর্শিবাদ স্বরূপ।
উপজেলার খরস্রোতা নবগঙ্গা এক সময় নদী পাড়ের মানুষের কাছে ছিল মূর্তিমান আতংক। কিন্তু বর্তমানে নদীটি নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় বর্ষাকালেও আর ভয়াল রূপ আর চোখ পড়েনা। প্রমত্তা নবগঙ্গার ঢেউয়ের বাধভাঙ্গা স্রোতের মাতম এখন শুধুই স্মৃতি। নবগঙ্গা নদীর বুকে পলি জমে জেগে উঠেছে বিশাল চর। জরাজীর্ণ খালে পরিণত হয়েছে নদী। নৌকায় পাল তুলে মাছ ধরার দৃশ্য অথবা বড়ো বড়ো নৌকায় পণ্য বোঝাই দিয়ে গুন টেনে চলাচলের সেসব দৃশ্য কেবলই অতীত। নবগঙ্গার বুকজুড়ে এখন ফসলের ঢেউ।
উপজেলার সীমান্তবর্তী বিনোদপুর ও মাগুরা শহরের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীটি এখন পরিণত হয়েছে কৃষকের ফসলের ক্ষেতে। যে নদী এক সময় ভেঙ্গে চুরে গ্রাস করেছে রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মন্দির ক্ষেত-খামার ও গাছপালা; সেই রাক্ষুসী নবগঙ্গা এখন নদী পাড়ের মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে পরিবর্তনের ছোঁয়া।
নদীপাড়ের ভাবনপাড়া এলাকার কৃষক হাশেম আলী বলেন, নদীডা আগে রাক্কস ছেলো। হ্যান্নে সেইরম পহোলান নাই। নদী মরে শুহোয় গেচে। নদীর বুহি আবাদ করে ম্যালা ধান ঘরে উঠোই।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj