আপডেট: মার্চ ২৭, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭৮ বার

ঝিনাইদহে কৃষি বিভাগ কতৃক ৪টি গ্রামকে সজিনা প্রযুক্তির গ্রাম ঘোষণা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৪টি গ্রামকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছে কৃষি বিভাগ। সজিনার পুষ্টি ও ওষুধী গুনের কথা ভেবেই প্রত্যেক বাড়িতে কমপক্ষে ১/২টি করে সজিনা গাছ থাকবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। ইতিমধ্যে সজিনার গাছ লাগানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায় ক্রমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় আরো ১৫ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। সজিনা নিজের পরিবারের চাহিদা পুরণ করে অতিরিক্তটুকু বিক্রি করে আর্থিক ভাবেও স্বাবলম্বী হতে পারে গ্রামবাসী। বাড়ির আশে পাশে, রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত জায়গায় এ গাছগুলো লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, মুজিবনগর সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪টি গ্রামকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের মহাদেবপুর ও ভাটপাড়া, নিয়ামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম, পৌরসভার বলিদাপাড়া/মোচিক কলোনী এলাকাকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম ঘোষণা করে সজিনা গাছ লাগানো শুরু হয়েছে।

কমপেক্ষ প্রত্যেক বাড়িতে ১/২টি করে সজিনা গাছ থাকাবে সেই লক্ষ্যে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় এই গাছ গুলো লাগানো হচ্ছে। বিভিন্ন বাড়ি থেকে সজিনার ডাল সংগ্রহ করে কাটিং পদ্ধতিতে ডালগুলো লাগানো হচ্ছে। ঐ চারটি গ্রামে মার্চ-এপ্রিল মাসে কমপক্ষে ২ হাজার ডাল লাগানো হবে। কৃষি অফিস আরো জানান, পর্যায় ক্রমে উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার সজিনা গাছ লাগনো হবে। মার্চ এপ্রিল মাসে সজিনা গাছ লাগানোর উপযুক্ত সময়। এ সময় বিভিন্ন গাছ থেকে কাটিং পদ্ধতিতে ডালগুলো সংগ্রহ করে সেগুলোকে লাগানো হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম জানান, সজিনাতে রয়েছে পুষ্টি ও ওষুধী গুনাগুন। উপজেলার জনগনের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার কথা ভেবে মুজিবনগর সমন্বিত কৃষিউন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৪টি গ্রামকে সজিনা প্রযুক্তি গ্রাম ও পুরো উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার সজিনা গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে কৃষিবিভাগ। তিনি আরো জানান, আয়ুর্বেদ শ্বাস্ত্রে সজিনায় প্রায় ৩শ প্রকার ব্যাধীর প্রতিষোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

শরীরের প্রয়োজনীয় সব সাথে আবশ্যকীয় প্রায় সবগুলি এমাইনো এসিড সজিনা পাতায় বিদ্যমান বলে বিজ্ঞানীরা একে পুষ্টির ডিনামাইট হিসেবে আখ্যাতি করেছেন। সজিনা পাতা,ফুল ও সজিনা খাওয়া যায়। এ্যানিমিয়া জয়েন্ট পেইন, ব্লাড পেশার, কিডনিতে পাথর,মায়ের দুধ বৃদ্ধিকরা,ক্যান্সার কোষ্টকাঠিন্য,ডায়াবেটিস, ডায়রিয়াম হার্ড পেইনসহ বিভিন্ন ওষধি গুনাগুন রযেছে বলে পুষ্টি বিশেজ্ঞরা মনে করেন। কৃষি অফিসার জাহিদুল করিম আরো জানান, সজিনা সাধারণত ধরে ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসে।

স্থানীয় ভেদে এক কেজি সজিনা ৫০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করে। এছাড়াও সজিনার ফুল ও পাতাও বিক্রি হয়। অনেকে আবার একটি সজিনার ডাল ১০/২০ টাকায় বিক্রিও করে। যদি কেউ সজিনার বাগান করতে চাই তাহলে কৃষি অফিস থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

তথ্যসূত্রঃ From Email