আপডেট: মার্চ ১৯, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭১ বার

বেনাপোল কাস্টম হাউসে অর্ধেক পদ শূন্য, বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত

মনিরুল ইসলাম মনি, শার্শা (যশোর): দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ থাকায় বেনাপোল কাস্টম হাউসে অর্ধেকেরও বেশি পদ শূন্য রয়েছে। ফলে জোড়াতালি দিয়ে চলছে দেশের সবচেয়ে বড় বেনাপোল স্থল বন্দরের কার্যক্রম। কমিশনার থেকে শুরু করে ৪র্থ শ্রেণির ৩২টি ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ৩৪১টি। আর বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৬৫ জন। বেনাপোল কাস্টম হাউসের কাজের পরিধি অনেক  বেড়েছে। সেই অনুপাতে কাস্টম হাউসের লোকবল বৃদ্ধি পায়নি। বেশ কিছুদিন আগে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও তার কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। এ ক্যাটাগরির ১৬৫ জন কর্মকর্তার মঞ্জুরিকৃত পদ রয়েছে এ কাস্টম হাউসে। বেনাপোলে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন।
শূন্যপদ রয়েছে অতিরিক্ত কমিশনারের ২ জন, সহকারী কমিশনার ৮ জন, রাজস্ব কর্মকর্তা ৫ জন এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ৭৩ জন। ইতিমধ্যে ১০ জন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়ে রাজস্ব কর্মকর্তা হলেও তারা এখনো কোনো দায়িত্ব পাননি। ফলে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। বছরে ২৫ লাখ টনের বেশি আমদানি-রফতানিকৃত পণ্য হ্যান্ডলিং হচ্ছে এ বন্দরে। ২০০০ সালের ১৩ নভেম্বর বেনাপোলে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস কমিশনারেট স্থাপিত হয়েছে। পরিধি অনুযায়ী লোকবল নিয়োগ হয়নি। দেশের সবচেয়ে বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে চারশ‘ ট্রাক পণ্য আমদানি ও ২৫০ ট্রাক পণ্য রফতানি হয়। সব মিলিয়ে বছরে এ বন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
এদিকে কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তারা একাধিকবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। কাস্টম সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এত বেশি জনবল ঘাটতির কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যের শুল্কায়ন, মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যের পরীক্ষা, অভিযোগের শুনানি, বিরোধ নিষ্পত্তি, রাসায়নিক পরীক্ষা, লাইসেন্স, বন্ড, নিলামসহ আনুসঙ্গিক কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি কাস্টম হাউজের সেবা গ্রহণকারী স্টকহোল্ডাররাও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
কাস্টম সূত্র জানিয়েছে, সর্বাধিক সংখ্যক পদ শূন্য রয়েছে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার। ১২০টি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২ জন মহিলাসহ ৩৭ জন। শূন্য রয়েছে ৮৩টি পদ। এডিশনাল কমিশনারের দুইটি পদই শূন্য রয়েছে। প্রোগ্রামারের একটি পদই শূন্য। সহকারী কমিশনারের ১৩ পদের মধ্যে ৮ টি শূন্য, আছেন মাত্র ৫ জন। রাসায়নিক পরীক্ষক আছেন একজন। রাজস্ব কর্মকর্তার ২৩ পদের মধ্যে আছেন ১৮ জন। একজন করে আইন কর্মকর্তা, সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক, অডিটর ও সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। তৃতীয় শ্রেণির স্টাফের ১৫১ পদের বিপরীতে আছেন ৭১ জন, বাকি ৮০টি পদ শূন্য। চতুর্থ শ্রেণির ১৮ টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৯ জন। পদ খালি রয়েছে ৯টি। ফলে বেনাপোল কাস্টম হাউসে প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। বন্দর থেকে সময়মত মালামাল খালাস করতে না পারায় মোটা অংকের লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ফলে বিলম্বিত হচ্ছে রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া। আমদানিকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, পরীক্ষণ গ্রুপে লোকবল কম থাকায় সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক লতা জানান, জনবল ঘাটতির কারণে পণ্য ছাড় করতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, কাস্টমসের জনবল ঘাটতি কাম্য নয়। এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউসের কমিশনার মো. শওকাত হোসেন জানান, জনবল ঘাটতির কারণে আমাদের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj