আপডেট: মার্চ ১৯, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭৬ বার

অতিরিক্ত ফি গুনতে গুনতে অতিষ্ঠ যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউটের ছাত্রীরা

সরকারি ফি’র অতিরিক্ত টাকা গুনতে গুনতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউটের ছাত্রী সেবিকারা। ভর্তিসহ বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে এ টাকা। চলতি বছরের শুরুতে ১শ’ ৫ জন ছাত্রী সেবিকা ভর্তি করা হয়েছে যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউটে। এর ভেতর ডিপ্লোমা ইন নার্সিং ১ম বর্ষে  ৮০ জন এবং মিডওয়াই ফারিতে ২৫ জন ছাত্রী সেবিকা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে দু’মাসের খাবার বাবদ ২ হাজার ৪শ’ টাকা করে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা, পোশাক (ইউনিফর্ম) বাবদ ২ হাজার ৫শ’ টাকা করে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫শ’ টাকা এবং মেডিকেল ফি বাবদ ২শ’ টাকা করে ২১ হাজার টাকা নেয়ার কথা। এ হিসেবে একজন ছাত্রীর কাছ থেকে ৫ হাজার ১শ’ টাকা এবং ১শ’ ৫ জন ছাত্রীর কাছ থেকে সর্বমোট ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫শ’ টাকা নেয়ার কথা। কিন্তু সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে প্রত্যেকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, মেডিকেল ফি ২শ’ টাকার স্থলে ১ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে। অন্যান্য ফি মিলিয়ে তাদের ১০ হাজার ৫শ’ টাকা করে দিতে হয়েছে। অর্থাৎ ১শ’ ৫ জন ছাত্রীর কাছ থেকে ১১ লাখ ৮৬ হাজার ৫শ’ টাকা নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে জুতা, বেল্ট, ক্যাপ ইত্যাদি কেনার কথা বলে আরো ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এভাবে ১৩ লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয়েছে ছাত্রী সেবিকাদের কাছ থেকে।
জানা গেছে, যশোর সিভিল সার্জন অফিস থেকে ছাত্রীদের মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে হয়। এর ফি মাত্র ২শ’ টাকা। অথচ তাদের কাছ থেকে  নেয়া হয়েছে ১ হাজার টাকা করে। আবার ভর্তি হওয়ার পর সেমিস্টার পরীক্ষার জন্যে দিতে হয় ৫শ’ টাকা করে। এছাড়াও বিভিন্ন খাতে চাঁদা দিতে দিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ছাত্রী সেবিকারা। অভিযোগে আরও জানা গেছে, ভর্তির সময় নানা ত্রুটি দেখিয়ে ছাত্রীদের মানসিকভাবে দুর্বল করে ফেলা হয়। ফলে ছাত্রীরা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের চাহিদা পূরণ করতে বাধ্য হয়। কোন ঝামেলায় না গিয়ে মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অভিভাবকরা এ টাকা দিয়ে থাকেন। কিন্তু ইনচার্জের রোষানলে পড়ার কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির হোতা ওই অফিসের হিসাব রক্ষক গোলাম কাদের। তিনি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে একটি অংশ ইনচার্জের হাতে তুলে দেন। তারা যোগসাজস করে ছাত্রী সেবিকাদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের সহযোগী গোলাম কাদের বলেন, ছাত্রী সেবিকাদের ভর্তি হতে টাকা লাগে না। মেডিকেল ফি বাবদ ৫শ’ টাকা করে নেয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন অফিসে ছাত্রী সেবিকারা নিজ হাতে ২শ’ টাকা করে দিয়েছেন। মেডিকেল ফি’র ব্যাপারে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, ছাত্রী সেবিকাদের মেডিকেল ফি ২শ’ টাকা। ১ হাজার টাকা বা অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছে এ সংবাদ জানতে পেরে তিনি তা বন্ধ করে দেন। এ ব্যাপারে ইনচার্জ সেলিনা ইয়াসমিনের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ  করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সূত্র জানিয়েছে, ইনচার্জের দুর্নীতির কারণে যশোর নার্সিং ইন্সটিটিউটে ইতোপূর্বে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রীরাও বিক্ষোভ করেছেন। অথচ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে অভিযুক্ত সেলিনা ইয়াসমিন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কখনো যথাযথভাবে তদন্ত হয় না। অভিযোগ রয়েছে, সেবা পরিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ তদন্তের নামে যশোরে এসে ইনচার্জের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ফিরে যান।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj