আপডেট: মার্চ ১৪, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৯০ বার

 সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয়ে পরিবার

সুষ্ঠু বিচার নিয়ে সংশয়ে পরিবারযশোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক এড়েন্দার রিপন হোসেন ওরফে দাদা রিপনের সপ্তম হত্যাবার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় এলাকার চিহ্নিত দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংভাবে খুন হন তিনি। এ হত্যা মামলায় চার্জশিট হলেও বিচার নিয়ে রয়েছে সংশয়।
ত্যাগী ছাত্র নেতা দাদা রিপনের হত্যাবার্ষিকীতে দলীয় কোন কর্মসূচি না থাকলেও পরিবারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কবর জিয়ারত ও মিলাদ মাহফিল কর্মসূচি। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী অনেকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় দাদা রিপনের পরিবারের সদস্যরা হতাশা-উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত পলাতকদের আটক দাবি করেছেন।
২০১০ সালের ১৪ মার্চ জেলা ছাত্রলীগের কাউন্সিলের আগের দিন খুন হন দাদা রিপন। ওই দিন পড়ন্ত বেলায় বাড়ি থেকে বের হয়ে ভেকুটিয়া এলাকায় পৌঁছালে প্রকাশ্যে তাকে হত্যা করে এলাকার দুর্বৃত্তরা বীরদর্পে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে তার পিতা শহিদুল ইসলাম থানায় মামলা করেন। আসামি হয় ওই এলাকার আবু জাহিদের ছেলে ইকবাল হোসেন, আব্দুল হাইয়ের ছেলে হাফিজ, শফিয়ার রহমানের ছেলে মিকাইল, সোলাইমানের ছেলে শামীম হোসেন ও আব্দুল করিমের ছেলে শাহাজাহান আলী। এদের মধ্যে দু’আসামি জামিনে আসে। বাকিরা জামিন না নিয়ে কখনও পলাতক, আবার কখনও প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি শুরু করে। দীর্ঘ সাত বছরে আসামিদের বেশিরভাগ আটক না হওয়ায় পারিবারের লোকজন হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এদিকে দাদা রিপন হত্যায় এজাহার নামীয় কয়েক আসামি ছাড়াও এলাকার এক রাজনীতিকের নাম উল্লেখ করে ও হাসান নামে আরও একজনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় থানা পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে পলাতক হিসেবে দীর্ঘ ৭ বছর আটক এড়িয়ে চলছে অভিযুক্ত হাফিজ। বাকীরা জামিনে থেকে প্রকাশ্যে ঘুরাঘুরি করায় উদ্বেগে রয়েছে নিহতের পরিবার।
আজ দাদা রিপনের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পরিবারের লোকজন পারিবারিক নানা অনুষ্ঠান হাতে নিয়েছে। তবে দলীয়ভাবে কোন কর্মসূচি গ্রহনের খবর আসেনি পত্রিকা দপ্তরে। এ ব্যাপারে দাদা রিপনের বাবা শহিদুল ইসলাম গ্রামের কাগজকে জানান, চার্জশিটে তার পরিবার সন্তুষ্ট। তবে তাদের কষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও সাত বছরেও ঘাতকরা সবাই আটক হল না। সুষ্ঠু বিচার নিয়েও তাদের শংকা কম নয়। তিনি দ্রুত দাদা রিপনের খুনীদের আটকসহ আইনে সোপর্দ করে বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করার দাবি জানিয়েছেন। যারা জামিনে রয়েছে তারা এফিডেভিট করে মামলা শেষ করে দেয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তথ্যসূত্রঃ From Email