আপডেট: ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১১৩ বার

যশোরের কৃষকের উৎপাদিত ধান উন্নত বীজ হিসেবে গেলো ভুটানে

দেওয়ান মোর্শেদ আলম : যশোরের কৃষকের উৎপাদিত ধান উন্নত বীজ হিসেবে গেলো ভুটানে এই প্রথম দেশ থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ধানবীজ রপ্তানি করা হল। তাও আবার শুরু হলো যশোর থেকেই। যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের সার্বিক তত্বাবধানে এ অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদিত ধান উন্নত বীজ হিসেবে চলে গেল ভুটানে। দেশের বর্তমান ধানবীজের মূল্য থেকে আরও ২০ টাকা বেশি দরে রপ্তানি চুক্তি হয়েছে। এধারা অব্যাহত থাকবে, আর আগামিতে আরও ধান বীজ যাবে বলেও বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাথে ভুটান কৃষি মন্ত্রণালয়ের চুক্তি হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের বিশেষ উদ্যোগ আপদকালীন মজুদ প্রকল্পের আওতায় যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক ও কৃষি জমিকে নির্দিষ্ট নির্দেশনায় চাষাবাদের আওতায় আনা হয়। রুটিন কাজের মধ্যে এই কাজ চলে। নব্বইয়ের দশকে ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট ব্রি ২৮- ও বিআর ২৬ আবিস্কার করে দেশে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়। আর সেই থেকে এ প্রজাতির ধান দেশে যতেœর সাথে চাষ করা হয়। আর ফলনও ভাল হতে থাকে। তবে বীজ তৈরীর জন্য কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন কাজ করে আপদকালীন চাহিদা মেটানোর জন্য। বাংলাদেশের ব্রি ২৮ ও বিআর ২৬ ধানবীজের সুনাম বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ে। আর এই ধানবীজ আমদানি করতে ভুটান সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবগত করে জানুয়ারির মাঝামাঝিতে। এরপর যশোরে আপদকালীন প্রকল্পের বিআর-২৬ ও ব্রি ২৮ মজুদ তথ্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে গেলে ভুটান কৃষি মন্ত্রণালয়কে তাদের চাহিদাতে সম্মতি প্রকাশ করে। দেশীয় বর্তমান বীজ মূল্য ৩৪ টাকা হলেও ভুটানের সাথে প্রতি ২১ টাকা বেশি, অর্থাৎ ৫৫ টাকা কেজি দরে চুক্তি হয়। যশোরের বীজ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ কেন্দ্র ১০ কেজির প্যাকেটে ৫শ’ প্যাকেট প্রস্তুত করে। আর দু’দিন আগে এই বীজ যশোর থেকে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ট্রাকে চলে গেল লাল মনিরহাটের বুড়িমারি সীমান্তে। সেখান থেকে ভারতের টেংরাবান্দা হয়ে তা চলে গেল ভুটানে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিৎ করেছে।
যশোরাঞ্চলের কৃষকরা স্বতষ্ফূর্ত অংশগ্রহন করে প্রস্তাবিত ক্যটাগরিতে বীজ উৎপাদন করে সহায়তা করে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনকে। প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সাফল্যকে ছাপিয়ে বড় সুখবর এখন রপ্তানি। তা আবার উচ্চ মূল্যের বীজ হিসেবে ব্রি ২৮ ও বিআর ২৬ হৈচৈ ফেলে দিয়েছে গোটা বিএডিসি সেক্টরে। কৃষকের নির্দিষ্ট জমি বিশেষ চুক্তিতে নেয়া হয় প্রজেক্টের আওতায়। সেখানে সরকারি বিধি মোতাবেক ধান উৎপাদন করা হয়। এই বীজ রপ্তানি ধারা অব্যাহত থাকলে লাখ লাখ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে কৃষি বিভাগের তথ্য।
এ ব্যাপারে বীজ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের উপ পরিচালক একরামুল হক গ্রামের কাগজকে জানান, এ সাফল্য মূলতঃ যশোরাঞ্চলের কৃষকের। আপদকালীন বীজ মজুদ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য শতভাগ সফল করার পর তা আবার বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। বীজ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ কেন্দ্র যশোর-এর প্রতিনিধিত্ব করেছে, আর ভিন্নমাত্রা যুগিয়েছে। এটাই দেশের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ধান বীজ রপ্তানি।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj