আপডেট: জানুয়ারী ২৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭০ বার

সাগরদাঁড়ির মধুমেলা অসাম্প্রদায়িক সব বাঙ্গালীর মেলা : মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

মোতাহার হোসাইন, কেশবপুর : সাগরদাঁড়ির মধুমেলা অসাম্প্রদায়িক সব বাঙ্গালীর মেলা : মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরবাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, মধুমেলা অসাম্প্রদায়িক সব বাঙ্গালীর মেলা। কালে কালে সাগরদাঁড়ির মধুমেলা হয়ে উঠবে বিশ্ব বাঙ্গালীর মেলা। মাইকেলের আলোক স্বত্ত্বা ভবিষ্যতে আমাদেরকে আলোকিত করবে। মাইকেলকে অনুসরণ করে অ¯প্রদায়িক শক্তির উত্থান এবং জঙ্গীবাদের বিনাশ ঘটুক সেটাই হোক আমাদের শপথ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একদিন অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির উত্থান হবে। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পর্ব। মাইকেলের বঙ্গভাষা কবিতা ভাষা আন্দোলন সফল করতে উৎসাহিত করেন। তাই আজ যেখানে বাঙ্গালী, সেখানেই বাংলা ভাষা, সেখানেই বাংলাদেশ। মহাকবি মধুসূদন পদক প্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির সদস্য করায় তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির সাথে সংলাপ করে খুশি হন। আবার তারা সার্চ কমিটি হওয়ার পরে অখুশি হন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মধুমেলার সমাপনী ও মহাকবি মাইকেল মধুসূদন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মধুসূদন জন্মজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক এমপি। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জাতীয় সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্য, জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ হাদিউজ্জামান, কবি নির্মলেন্দু গুণ, কবি মারুফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সারওয়ার প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যের আগে কবি নির্মলেন্দু গুণের হাতে ২০১৭ সালের মহাকবি মধুসূদন পদক তুলে দেন। এ ছাড়া তিনি পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কথাসাহিত্যিক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে তার পদক কবি মারুফুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। পদকের সাথে সনদপত্র ও ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পদক গ্রহণ করে কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তার বক্তব্যে বলেন, আমি গত ষাট বছরে বহু পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু মহাকবি মধুসূদন দত্তের নাম খচিত এ পুরস্কার আমার কাছে মহা মূল্যধন। দুপুর ১২ টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে মন্ত্রী সাগরদাঁড়ি পৌঁছান। মধুমঞ্চে পৌঁছে তিনি মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতিকৃতির ফলক উন্মোচন করেন।
এ দিকে সাগরদাঁড়িতে একটি সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন কমিটির নেতৃবৃন্দ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৩ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় যশোর জেলা প্রশাসন সপ্তাহব্যাপি মধুমেলার আয়োজন করে। ২১ জানুয়ারি থেকে কবির জন্মস্থান সাগদাঁড়ি ওই মেলা শুরু হয়।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj