আপডেট: জানুয়ারী ২৬, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১০৩ বার

চৌগাছায় আবারও মশুর চাষে ঝুঁকে পড়েছে কৃষকেরা: বাম্পার ফলনের আশাবাদী

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু,চৌগাছা (যশোর): যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে মশুরের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভাল ফলনের আশায় তারা বুক বেধেছেন। এক সময় এ জনপদে মশুর চাষ ব্যাপক দেখা গেলেও বর্তমানে বহুলাংশে কমে গেছে। সে সময় কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় চাষিরা এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বলে অনেকের অভিমত। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে মশুর চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় এই চাষে আবারও মনোযোগী হয়ে উঠেছেন কৃষক।
মশুর একটি ডালজাত পণ্য, গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের পরিবারেগুলোতে মশুর ডাল একটি পরিচিত খাবার। খাবারের টেবিলে মশুর ডাল না থাকলে যেন খাবারের পরিপূর্ণতা আসে না। প্রতিটি বাঙালি পরিবারে এ নিয়ম যুগযুগ ধরে চলে আসছে। আধুনিকতার ছোঁয়া আর বেশি লাভের আশায় দেশে মশুর চাষ এক প্রকার বিলুপ্তি হতে বসেছে। মশুর চাষের জায়গাটি দখল করে নেয় সবজি, ভুট্টা, গম ধানসহ অন্যান্য ফসলে। এ সময় দেশে মশুরের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে লাখ লাখ টন মশুর আমদানি করেন ব্যবসায়ীরা। সূত্র জানায় দেশি মশুর ডালের চাহিদা ব্যাপক থাকায় এই চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ মশুর চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা বেশ সফলতাও পান বলে জানা যায়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১ হাজার ৪শ ৮০ হেক্টর জমিতে জমিতে মশুর চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কম বেশি মশুরের চাষ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নারায়ণপুর, পেটভরা, হাকিমপুর, হাজরাখানা, আন্দারকোটা, জগদীশপুর, মির্জাপুর, কান্দি, স্বর্পরাজপুর, মাড়–য়া, সাদিপুর. দক্ষিণসাগর, পুড়াহুদা, তেঘরী, মুক্তদাহ গ্রামাঞ্চলের মাঠে ব্যাপকভাবে চাষ হয়েছে মশুরের। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত যে আবহাওয়া বিরাজমান তাতে মশুর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। মশুর চাষি উপজেলার কবির হোসেন বাবলু জানান, আশির দশকে উপজেলার মাঠের পর মাঠ ধান পাটের পাশাপাশি ছোলা ও মশুরের ব্যাপক চাষ হত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই চাষ বিলুপ্তি হতে বসে। অধিক মুনাফার আশায় চাষিরা চাষে পরিবর্তন এনে মশুরের জায়গায় ইরি বোরো ধানসহ হরেক রকম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ে। পরিশ্রম কম ফলন ভাল সর্বোপরি বাজার দর ভাল হওয়ায় কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মশুরের চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মশুর চাষিরা জানান, এক বিঘা জমিতে মশুরের চাষ করতে হলে কৃষকের সব মিলিয়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা ব্যয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক বিঘা জমিতে ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত এমনকি এলাকা বিশেষ ১০ মণ করে মশুর পাওয়া যায়। বিঘা প্রতি ১৫/২০ হাজার টাকার মশুর বিক্রি করা যায়। চাষিরা জানান, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মশুরের এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দিন আহমদ জানান, চৌগাছায় মশুর বহুলাংশে কমে যায় কিন্তু বর্তমান সময়ে এই চাষে কৃষকেরা বেশ মনোনিবেশ করেছেন। আবাহাওয়া ভাল থাকায় এ বছর মশুরের ফলন ভাল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj