আপডেট: জানুয়ারী ১৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৪৩ বার

যশোরে পোণা বিক্রেতা টুটুল পাঙ্গাস মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী

যশোরে পোণা বিক্রেতা টুটুল পাঙ্গাস মাছ চাষ করে স্বাবলম্বীমাত্র ১৫ বছর আগেও যশোর শহরতলীর চাঁচড়ার বাসিন্দা আতিয়ার রহমান টুটুল হাড়িতে করে মাছের বিভিন্ন জাতের পোনা নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করতেন। দুই হাজার পাঁচ শত টাকার পুঁজি নিয়ে মাছের ব্যবসা শুরু করেন। কয়েক বছর পর তার ব্যবসা কিছুটা লাভজনক হওয়ার ২০০০ সালের দিকে জেলার শার্শার জনৈক মেহেদি হাসান আলীর কাছ থেকে ৭ বিঘা জমির ওপর নির্মিত পুকুর নাম মাত্র টাকায় লিজ নিয়ে বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা চাষ শুরু করেন। তবে প্রথম বছর লিজের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় টুটুল। তবে তাকে হতাশ করেননি মেহেদি হাসান। এ সুয়োগকে কাছে লাগাতে ব্যথ হয়নি তিনি। পেয়ে যান দ্বিতীয় বছরে সফলতা। ভাগ্যের চাকা সচল হয় টুটুলের।জমির মালিক মেহেদি হাসানের টাকা পরিশোধ করে দেন তিনি। এরপর থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি মৎস্য চাষী আতিয়ার রহমান টুটুলকে। বর্তমান তিনি ১৯৫ বিঘা পুকুরে পাঙ্গাসের পোনা চাষ করে সাফল্যর দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। জ্বলের সোনা মৎস্য প্রজেক্ট নামে মৎস্য খামার থেকে ২০১৬ সালে ৫ কোটি টাকার পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন করেছেন। উৎপাদিত এসব পোনা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্যে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। পাঙ্গাস মাছ চাষে নিরব বিপ্লব সৃষ্টি করেছে মৎস্য চাষী আতিয়ার রহমান টুটুল। ২৬ হেক্টর জ্বলাশয়ে বছরে প্রায় ৫ কোটি পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন করে নজীর স্থাপন করেছেন। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই এখন পাঙ্গাস মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
মৎস্য চাষী আতিয়ার রহমান টুটুল বলেন, তিনি এর আগে রুই, কাতল, মৃগেলসহ অন্যান্য দেশি জাতের মাছের পোনারচাষ করতেন। ৭ বছর আগে তিনি পাঙ্গাস মাছের পোনা চাষ করেন। পাঙ্গাস মাছের চাহিদা স্থানীয় বাজারে বেশি হওয়ায় তিনি লাভের মুখ দেখতে পান। মাছ চাষের সফলতার জন্য তিনি ২০১০, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে জেলা মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক শ্রেষ্ট মৎস্য চাষীর স্বীকৃতি পান।
আতিয়ার রহমান টুটুল বলেন, তার খামারের উৎপাদিত পাঙ্গাসের পোনা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ময়মনসিংহ, বরিশাল, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ভোলাসহ অন্তত ৩০টি জেলায় সরবরাহ করা হয়। এসব এলাকার মৎস্য চাষী ও ব্যবসায়ীরা ট্রাক-পিকআপসহ বিভিন্ন পরিবহণের ছাদে করে নিয়ে যান। আগামী আশ্বিন মাস পর্যন্ত এসব মাছের পোনা বিকিকিনি চলবে।
মৎস্য চাষী আতিয়ার রহমান টুটুলের এ সফলতা দেখে জেলার অন্যান্য মাছ চাষীরাও এখন পাঙ্গাস চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন। চাঁচড়ার মৎস্য চাষী এসকে রাব্বুন আপ্পি বলেন, তিনি কই, শিঙ, মাগুরসহ অন্যান্য মাছের চাষ করতেন। পাঙ্গাস মাছ অনেকটা লাভজনক হওয়া তিনি এ মাছের চাষ শুরু করেছন।
চাঁচড়ার স্বর্ণপদক মৎস্য চাষী আনোয়ারুল করীম আনু। তিনি বলেন, যশোর হচ্ছে মাছ চাষের জন্য একটি উদ্বৃত্ত এলাকা। দেশের মাছের মোট চাহিদার ৬০ ভাগই মাছ যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। তবে এসব মাছের মধ্যে সিংহভাগই ছিলো দেশি জাতের বিভিন্ন মাছ। বর্তমানে সেখানে পাঙ্গাস মাছ উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন,আতিয়ার রহমান টুটুলসহ এভাবে আরও অনেকেই বর্তমান পাঙ্গাস চাষ শুরু করেছেন।
এবিষয়ে যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান, যশোর জেলায় প্রতিবছর দুই লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন হয় ৪৫ হাজার ৭ শত ১২ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে এ জেলায় পাঙ্গাসের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের অন্যান্য জেলায় পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদন হলেও গুনগত মানের দিক থেকে যশোরের মাছের চাহিদা বেশি। যেকারণে দিন দিন এ মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, পাঙ্গাস চাষী আতিয়ার রহমান টুটুলের জ্বলের সোনা মৎস্য প্রজেক্টটি পাঙ্গাসের পোনা উৎপাদনে দৃষ্ঠান্ত স্থাপন করেছেন। জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হয়ে থাকে।

 

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj