আপডেট: জানুয়ারী ৪, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৮৩ বার

কেঁচো সারেই ভাগ্য ঘুরলো মণিরামপুরের রোজিনার

সানোয়ার হোসেন তিতু, নেহালপুর (মণিরামপুর): কেঁচো সারেই ভাগ্য ঘুরলো মণিরামপুরের রোজিনার অভাব অনটনই ছিল যার নিত্যসঙ্গী। দিন মজুর স্বামীর সংসারে খেয়ে পরে চলা ছিল তার দু:স্বপ্নের মত। তাই পরিবারে স্বচ্ছলতা আনতে কেঁচো সার তৈরিতে নেমে পড়েন যশোর মণিরামপুরের রোজিনা খাতুন। আর তাতেই ভাগ্য বদলে গেছে তার।
রোজিনা কেঁচোচাষের পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন কারুকার্য হস্ত শিল্পের কাজ করেও তিনি রোজগার করেন বেশ। এখন তিনি স্বাবলম্বি নিজেই হয়েছেন। রোজিনার দেখাদেখি এলাকার অনেকে এ পেশা বেছে নিয়েছেন। তারাও প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন রোজিনার কাছ থেকে।কেঁচো সারেই ভাগ্য ঘুরলো মণিরামপুরের রোজিনার
শনিবার রোজিনার বাড়িতে তার সাথে বলে জানা যায় দিনমজুর স্বামীর সংসারে অভাব-অনটন ছিল তার নিত্যসঙ্গী। বিয়ের ২ বছরের মধ্যে সংসারে আল মামুন ও আল-আরাফাত নামে দু’টি সন্তান জন্ম নেয়ার পর খরচ বেড়ে যায়। সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রতিবেশী এক নারীর কাছ থেকে সেলাইয়ের কাজ শিখতেন তিনি। এনজিও থেকে ঋন নিয়ে একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করেন। এরই মধ্যে তার স্বামী কিডনী জনিত রোগে আক্রান্ত হয়। এ জন সেলাই মেশিনটি বিক্রি করে দিয়ে স্বামীর চিকিৎসা করাতে হয়। দিনমজুর স্বামী রোজগারে অক্ষম হয়ে পড়লে ২ সন্তানসহ সংসারের ভবিষ্যত নিয়ে দু:চিন্তায় পড়ে যান রোজনা।
২০১২ সালে রোজিনা দি হাঙ্গার প্রজেক্টের দীপক রায় নামে কর্মকর্তার মাধ্যমে ৩ দিনের প্রশিক্ষণে নেন। ২০১৪ সালে কেঁচো (ভার্মি ) কম্পোস্ট সার উৎপাদনের উপর ৩ দিনের প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাকে ৫ টি কেঁচো দেয়া হয়। এরপর প্রশিক্ষনের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কেঁচো সার উৎপাদনে আত্মনিয়োগ করেন তিনি। সেই থেকে আর তাকে পিছনে ফিরতে হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, রোজিনার কেঁচো সার বাজারজাতকরণে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মশালায় এই সারের কার্যকারিতা নিয়ে কৃষদের উদ্বুদ্ধ করা হয়।

 

 

 

 

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj