আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০১৬   ||   ||   মোট পঠিত ২৬৮ বার

চৌগাছায় টার্কি মুরগি পালনে আর্থিকভাবে লাভবান সোহরাব

যশোরের চৌগাছায় এক ব্যক্তি শখের বশে টার্কি জাতের মুরগি পালন করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। মাত্র তিন বছরে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা ঘরে তুলেছেন। তিনি এখন বাণিজ্যিকভাবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃষি প্রধান বিশেষ করে ধান উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত পাশাপোল ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের বুড়িন্দিয়া গ্রামের মৃত গোলাম আলীর ছেলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী যাদব ওরফে সোহরাব হোসেন। তিনি স্থানীয় বাজারে সাইকেল ম্যকানিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভাব অনটনের সংসারে স্ত্রী সন্তান নিয়ে তার বসবাস। গ্রামে বসবাস করার সুবাদে হাঁস মুরগি, গরু ছাগল কমবেশি পালন করেন তিনি। গ্যারেজের আয় রোজগার আর বাড়িতে পালন কার হাঁস মুরগি বিক্রি করে মোটামুটিভাবে চলে তার সংসার। এরই মধ্যে শখের বশে তিনি মাত্র তিনটি টার্কি জাতের মুরগি পালন শুরু করেন। গত তিন বছরে এই মুরগি থেকে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করেছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত ভিন্ন জাতের এই মুরগি পালনকারী যাদব বলেন, আজ থেকে তিন বছর আগে তিনি গোপালগঞ্জে এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় তিনি ওই এলাকার একটি বাড়িতে এই মুরগি দেখতে পেয়ে সেখান থেকে ৩টি বাচ্চা সংগ্রহ করেন। বাড়িতে আনার পর তা যতœ সহকারে লালন পালন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ওই মুরগি বড় হয়ে ডিম দিতে থাকে। তারা যখন ডিম দিতে শুরু করে তখন একাধারে দুই থেকে আড়াইশটি ডিম দেয়। একজোড়া ডিম ৫শ টাকা দরে তিনি বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এই জাতের মুরগির বাচ্চার বাজারে ব্যাপক চাহিদা আছে। বাচ্চা উঠার পর ৭ দিনের এক জোড়া বাচ্চা ১৫ শ টাকায় বিক্রি হয়। একটি মুরগি ডিম দেয়া শুরু করলে ৫/৬ মাস একাধারে ডিম দিতে থাকে। টার্কি মুরগির ডিম দেশী মুরগির তা দিয়ে বাচ্চা ফুটানো হয়। তিনি শখ করেই এই মুরগি পালন শুরু করেন। এর ডিম ও মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু বলে তিনি জানান। দেশী মুরগির মতই এদের পালন করা হয়, এরজন্য বাড়তি কোন খাবার বা ওষুধ এমনকি ঘরও লাগে না। বাড়ির আঙিনায় তারা একতাবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। তিনি বলেন, টার্কি মুরগি পালনে বেশ লাভজনক হওয়ায় অচিরেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এই মুরগি পালন শুরু করবেন তিনি।

তথ্যসূত্রঃ