আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ২২৮ বার

চৌগাছায় বাণিজ্যিকভাবে নেপিয়ার ঘাস চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেক বেকার যুবক

যশোরের চৌগাছায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে নেপিয়ার ঘাস চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক বেকার যুবক। অন্যদিকে গরুর ফার্ম মালিকদের গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। নেপিয়ার ঘাস চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন ও স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক চাষি। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে নেপিয়ার ঘাস চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলার অনেক বেকার যুবক এ ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় গত কয়েক বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক দুগ্ধ ও গরুর খামার গড়ে উঠেছে। আর এ সকল ফার্মে পালন করা গরুর খাদ্যের চাহিদা পূরণ করতে বিদেশী ঘাস নেপিয়ার চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খামারিরা জানান, বছরের বর্ষা মৌসুমে (আষাঢ়-শ্রাবণ) মাসে গো-খাদ্যের ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। সে সংকট মোকাবিলায় গো-খাদ্য হিসেবে নেপিয়ার ঘাস বেশ চাহিদা পূরণ করে থাকে। নেপিয়ার ঘাস গো-খাদ্যের তালিকায় প্রথম রয়েছে বলে জানান তারা।

এ ঘাস খেলে গাভীর বাছুর অন্ধত্ব, খোড়া, মাজা পড়া, পুষ্টিহীনতা রোগ থেকে রেহাই পেয়ে থাকে। দুগ্ধজাত গাভীকে খাওয়ালে দুধ বেশি পাওয়া যায়, মোটাতাজাকরণ ফার্মের গরুকে খাওয়ালে দিগুণ ফল পাওয়া যায়। এ কারণে নেপিয়ার ঘাসের চাষ ও চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলার অনেক বেকার যুবক বাণিজ্যকভিত্তিতে এ ঘাসের চাষ করে অর্থনৈতি ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ঘাস চাষি আরমান হোসেন জানান, দু-বছর আগে পরীক্ষামূলক ভাবে ১০ কাঠা জমিতে ঘাস চাষ করি। ঘাসে ভাল লাভ হওয়ায় বর্তমানে ৫ বিঘা জমিতে নেপিয়ারের চাষ করেছি। তিনি জানান, ১ বিঘা জমি থেকে বছরে ১ লাখ টাকার ঘাঁস বিক্রি করা যায়। প্রতিবিঘা ঘাস চাষ করতে ঘাসের চারা, সার, সেচ, শ্রমিক ও জমির লিজ বাবদ খরচ হয় ২০/২৫ হাজার টাকা।

কথা হয় ঘাস বিক্রি করতে আসা ভ্যানচালক আজিবর রহমানের সাথে। তিনি জানান, ক্ষেত থেকে প্রতি আটি ঘাস ক্রয় করি ৬/৭ টাকা, বাড়ি গিয়ে ৯/১০ টাকায় তা বিক্রি করি। সকাল ৬ থেকে ১০ টা পর্যন্ত ২শ আটি ঘাস বিক্রি করা যায়। এতে ৫/৬শ টাকা লাভ থাকে। আওয়ামীলীগ সরকার ঘরে-ঘরে চাকরি ও ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়ার পতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতার আসনে বসলেও তার সত্যতা মেলেনি এক বিন্দুও। তাই চাকরির পিছনে সময় ব্যয় না করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে গরুর ফার্ম ও নেপিয়ার ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন উপজেলার অনেক যুবক। উপজেলা পশুপালন অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় নেপিয়ার ঘাস চাষের উল্লেখযোগ্য কোন ব্লক না থাকলেও বিদেশী জাতের এ ঘাস চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন বেকার যুবকরা। বিশেষ করে বাণিজ্যিকভাবে উপজেলার প্রায় সবকটি গ্রামের মাঠে এ ঘাসের চাষ শুরু হয়েছে।

এসব মাঠ থেকে প্রতিনিয়ত আলমসাধু, নছিমন, করিমন ও শ শ ভ্যান ঘাস ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। চাষ করা এ ঘাস স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উপজেলার শহর এলাকায় বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে উপজেলার স্বরুপদহ, মাঠচাকলা, দেবীপুর, পেটভরা, হাজরাখানা, পাতিবিলা, সিংহঝুলী, গরীবপুর, সলুয়া, পুড়াপাড়া, মশিলা, আন্দুলিয়া ও টেঙ্গুরপুর গ্রামের মাঠে ব্যাপকভাবে এ ঘাসের চাষ করা হয়েছে। নেপিয়ার ঘাস চাষি যুবক দুলালপুর গ্রামের পলাশ হোসেন জানান, গত বছর ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই বিঘা জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চাষ করেছিলাম এ বছর গত কোরবানির ঈদে এক লাখ টাকার ঘাস বিক্রি করেছি।

উপজেলায় উল্লেখযোগ্য নেপিয়ার ঘাস চাষিরা হলো উপজেলার সলুয়া গ্রামের আমিন, টেঙ্গুরপুরের সাব্বির হোসেন, ইছাপুর গ্রামের দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, বাটিকামারী গ্রামের শওকত আলী, স্বরুপদহ গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও লিটন হোসেন। এছাড়া গুয়াতলী, বাদেখানপুর, চাঁদপাড়া, নারায়ণপুর, তাহেরপুর, নিয়ামতপুর, বকসিপুর, রাজাপুর, হাকিমপুর, পৌর এলাকার ইছাপুর, চাঁদপুর, তারনিবাস, কদমতলা, বেলেমাঠ, পাঁচনামনা ও বেড়বাড়িসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে মাঠে অনেক যুবক নেপিয়ার ঘাস চাষ করছেন। ঘাস চাষি আবুল হোসেন জানান, ঘাস চাষে উপজেলা প্রাণীসম্পদ দফতর ও কৃষি বিভাগ তেমন কোন সহযোগিতা করে না। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে নেপিয়ার চাষ করার ফলে বেশি ওষুধ ও জৈবসার ব্যবহার করা লাগে না। এ ঘাস চাষ করে বছরে এক/দেড় লাখ টাকা বাড়তি আয় করা সম্ভব। তিনি জানান, ঘাসচাষে বাড়তি সময় ব্যয় করতে হয় না। যুবকদের চাকরির পিছনে না হেঁটে নেপিয়ার ঘাস চাষ করলে তাদের স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তথ্যসূত্রঃ