আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ১৮৩ বার

যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছায় ফুৃল চাষে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার ভাগ্য বদলে দিচ্ছে রোজক্যাপ

গোলাপ চাষে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও ঝিকরগাছায় ফুলচাষিরা। গোলাপের কুঁড়িতে রোজক্যাপ পরিয়ে ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন তারা। উপজেলা দুটি’র বিস্তৃর্ণ মাঠ রোজক্যাপে ভরে গেছে। এই চীনা প্রযুক্তির গোলাপ ভাগ্য বদলে গেছে শত শত ফুল চাষীর। পোকা মাকড় মুক্ত ও সাইজে বড় দীর্ঘস্থায়ী সৌরভের ফুল রোজক্যাপ গোলাপের বাজার দামও চড়া। বেশী দাম পেয়ে খুশি আদি ফুলচাষী পানিসারা গ্রামের শের আলী। তিনি জানান, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে গোলাপের আশানুরূপ দাম পেয়ে তারা বেজায় খুশী। এরআগে যে গোলাপের দাম ছিল মাত্র এক থেকে দুই টাকা এখন চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম বেড়ে হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। ফুলের বিদেশে রপ্তানীও বেড়েছে। চাহিদা বাড়ছে আশানুরূপভাবে। অথচ এই প্রযুক্তি ব্যবহারে মাত্র ৫০ পয়সা খচর হচ্ছে চাষিদের। এক বিঘা জমিতে রোজক্যাপ করা ফুল বিক্রি করে বছরে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাখ পাওয়া যায় সম্ভব বলে জানিয়েছেন গোলাপচাষী আব্দুল আজিজ ও জামাল হোসেন। তারা জানান দু’বছর আগে থেকে শুরু হওযা রোজক্যাপের ব্যবহার ও চাহিদা এখন বিশ্ব জুড়ে।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, ফুল চাষের ওপর অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি চীনে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে দেখেন এই রোজক্যাপ প্রযুক্তি। ফিরে এসে বাংলাদেশে উন্নতমানের গোলাপ উৎপাদনের জন্য রোজক্যাপ নামে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি ফুল চাষীদের জানান। এরআগে চাষীরা এই প্রযুক্তির ব্যবহার জানতেন না। তাছাড়া দেশে এই ক্যাপ তৈরি হয় না, বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয়। শার্শা উপজেলা কুষি অফিসার হিরক কুমার সরকার জানান, যশোরের গদখালি ও শার্শায় ব্যাপকহারে রোজক্যাপের চাষ হচ্ছে। কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। রোজক্যাপ হলো স্থিতিস্থাপকতা গুণ সম্পন্ন চীনের প্রযুক্তি। গোলাপ কুঁড়িতে রোজক্যাপ ব্যবহার করে যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও ঝিকরগাছায় ফুলচাষে ব্যাপক সাফল্য এসেছে। এই প্রযুক্তির ফুল বিদেশেও যাচ্ছে। মানের দিক দিয়েও অন্য ফুলের চেয়ে বিকল্প নেই ফুলের। রোজক্যাপ হলো স্থিতিস্থাপকতা গুণ সম্পন্ন প্লাষ্টিকের এক ধরনের ক্যাপ। গোলাপের যখন কুঁড়ি হয় তখন ক্যাপটি ঐ কুড়িতে পরিয়ে দিলে কুঁড়িটি রক্ষা পায় পোকামাকড়ের উপদ্রব আর প্রাকৃতিক সকল ধরনের বিপর্যয় থেকে। যার কারণে ক্যাপের ভিতর কুঁড়িটি একটি উন্নতমানের পূর্ণাঙ্গ গোলাপ হিসাবে প্রস্ফুটিত হয়। প্রথমে নমুনা হিসেবে চীন থেকে কিছু ক্যাপ এনে ব্যবহার করে শতভাগ সুফল পান নেতা আব্দুর রহিম। ফ্লাওয়ার সোসাইটি ও ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালি ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে ফুলচাষীদের প্রশিক্ষণ দেন। সুফল পেয়ে অনেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রোজক্যাপ ব্যবহার করে গোলাপ চাষে লাভবান হচ্ছেন গদখালির সরদার নার্সারি মালিক শের আলী। নার্সারির মালিক রুস্তম সরদার ও ফরিদগাজি জানান, ২৮ বছর ধরে ফুল চাষ করছি। কিন্তু এ প্রযুক্তির কথা জানা ছিল না। সমিতির মাধ্যমে বিষয়টি জেনে আজ প্রযুক্তি নির্ভর চাষ করে যথেষ্ট লাভ হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে যে ফুল ফুটতো সেগুলো প্রতিটি বিক্রি হতো দুই টাকায়। এখন সেই ফুল এত উন্নত মানের হচ্ছে যে তার দাম উঠেছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। শুধু তাই না’ এ ফুলের সবটায় রফতানি মানের। লাভের কথা জানান হাড়িয়া গ্রামের মনির হোসেন ও পানিসারা গ্রামের রফিকুল ইসলামও। তবে এই ক্যাপ প্রথম অবস্থায় আমদানি না হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছিল না। বর্তমানে আমদানী হওয়াতে এ ক্যাপ এখন সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। রোজক্যাপ আকাশ পথের চেয়ে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ করে দিতে তারা সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্রঃ