আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৪২৪ বার

চৌগাছায় বাণিজ্যিক ভাবে ছাগল পালন করে স্বালম্বী হয়েছে আবু তালেব

যশোরের চৌগাছায় বাণিজ্যিক ভাবে ছাগল পালন করে ব্যাপক সফলতা অর্জন ও স্বালম্বী হয়েছে বেলেমাঠ গ্রামের আবু তালেব। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে ছাগল পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলার অনেক বেকার যুবক ছাগল পালনে ঝুঁকে পড়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের হট-কারিতার ফলে ঈদ-কোরবানিকে সামনে রেখে ভারত থেকে বানের পানির মত গরু এ দেশে আসে। পাশাপাশি ঈদ-কোরবানিকে সামনে রেখে ছাগলের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও ভারত থেকে একটিও ছাগল এদেশে আসে না। তাই গরুর ফার্মতুলে দিয়ে আর্থিক স্বালম্বী হয়ে উঠতে ছাগলের ফার্মের দিকে ঝুঁকে পড়েছে উপজেলার অনেক যুবক। উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানাযায় এ উপজেলায় ছাগলের কোন ফার্ম না থাকলেও ২০১২-১৩ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় ব্লাকবেঙ্গল দেশীয় উন্নয়ত জাতের ছাগল পালণ করা হয় ৭৭ হাজার ৫’শ ২০টি, বিদেশী ও পাহাড়ী জাতের বড়ান জাতের ছাগল রয়েছে ২০ হাজার ৩শ ৫২টি, ভেড়া পালণ করা হয় ১ হাজার ৩’শ ৭৭ টি, গাড়ল জাতের ভেড়া প্রায় ৩ হাজার। বর্তমানে ছাগল পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলার অনেক বেকার যুবক ছাগল পালন কাজ শুরু করেছে। উপজেলা পশুপালন অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায় উপজেলায় ছাগল পালনের উল্লেখ যোগ্য কোন ফার্ম না থাকলেও দেশী ব্লাকবেঙ্গল, সাদা পাহাড়ী, মৎসরাঙ্গা, হরিণবেটা ও বিদেশী কান লম্বা যার বৈজ্ঞানী নাম ডুলি জাতের ছাগল পালনে ঝুকে পড়েছে বেকার যুবকরা। বিশেষ করে সখের বসে উপজেলার প্রায় সবকটি গ্রামে গড়ে উঠেছে ছাগল পালনের ছোট ছোট ফার্ম। এসব ফার্ম থেকে প্রতিনিয়ত প্রায় শত শত ছাগল ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এ উপজেলার ছাগল রাজধানী ঢাকা, খুলনা, চিটাগাং, বরিশাল, রাজবাড়ী সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার স্বরুপদহ, বেলেমাঠ, পেটভরা, হাজরাখানা, পাতিবিলা, সিংহঝুলী, গরীবপুর, পাঁচনামনা, ইছাপুর, সলুয়া চাঁদপাড়া, আন্দুলীয়া, টেঙ্গুরপুর, তারনিবাস গ্রামে ছাগল বেশী পালন করা হয়। এ সমস্ত ছাগল চৌগাছা, পুড়াপাড়া, বারোবাজার, ছুটিপুর ও শিয়ালমারীর হাটে বিক্রি করা হয়। এ সকল ছাগল হাট থেকে রাজধানী ঢাকা, খুলনা, চিটাগাং, বরিশাল, রাজবাড়ী সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা ক্রয় করে ট্রাক যোগে নিয়ে যায়। বেলেমাঠ গ্রামের ছাগল প্রেমী আবু তালেবের ছাগলের ফার্ম এলাকায় সকল স্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার প্রায় সকল গ্রামে বাড়ীতে বাড়ীতে সখের বসে উন্নত জাতের কানলম্বা পাহাড়ী জাতের সাদা, ধুষর, কালো, লাল ও চাকরা-ফাকরা রংয়ের ছাগল পালন করছে যুবকরা যা দেখে চোখ ও মন জুড়িয়ে যায়। ছাগলের মালিক যুবক স্বরুপদহ গ্রামের উজ্জল হোসেন জানায় গত বছর ৮ হাজার টাকা দিয়ে দুটি ছাগল কিনে ছিলাম এ বছর কুরবানীতে বিক্রি করব। উপজেলার উল্লেখযোগ্য ছাগল পালন করা যুবকরা হলো উপজেলার সলুয়া গ্রামের আমিন, টেঙ্গুরপুরের সাব্বির হোসেন, ইছাপুর গ্রামের দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, বাটিকামারী গ্রামের শওকত আলী, স্বরুপদহ গ্রামের মনিরুল ইসলাম, লিটন হোসেন, এ ছাড়া উপজেলার চাঁদপাড়া, নারায়নপুর, মাঠচাকলা, পাতিবিলা, মাসিলা, রাজাপুর, হাকিমপুর, পৌর এলাকার ইছাপুর, মাঠপাড়া, হিন্দুপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অনেক যুবক ছাগল পালন করছে।

আবু তালেব জানান ছাগল পালনে উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর তেমন কোন সহযোগীতা করে না। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন করার ফলে বেশী ঔষধ ব্যবহার করা লাগেনা। ছাগল পালন করে বছরে ১/দেড় লাখ টাকা বাড়তি আয় করা সম্ভব। চৌগাছার প্রথম সফল ছাগল পালনকারী আবু তালেব বলেন, তার ৭০/৮০ টি বকরি ছাগল রয়েছে। যার জন্য থাকার ঘর, নিরাপত্তা প্রাচির ও ঘাস, গোমের ভূসি, বেগুন, কপি, ভাত ইত্যাদি খাদ্যে চলতি বছর খরচ হয়েছে প্রায় ২০/২৫ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত বিক্রি করেছি ৪০/৫০ টি ছাগলা। যার বাজার মূল্য ৮০/৯০ হাজার টাকা। তিনি জানান তার এ ছাগল পালনে বাড়তী সময় ব্যায় করতে হয় না। সকালে একবেলা খেতে-খামারে কাজ করি বিকেল বেলা ছাগল চরায়। তবে যদি কোন যুবক চাকুরির পিছনে না হেটে ছাগলের ফার্ম করে স্বালম্বী হওয়া সম্ভব। তিনি বলেন সরকারি পৃষ্টপোষকতা ও এ খাতে বিনা সুদে লোন প্রদান করলে বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আবার ছাগল পালনের পাশাপাশি কৃষিকাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য করে বাড়তি আয় করা সম্ভব। উপজেলায় ছাগল পালন করে বদলে গেছে অনেক বেকার যুবকদের অর্থনৈতিক অবস্থা। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা ডা. তপনেশ্বর রায় জানান ছাগল পালনের জন্য তেমন কোন ফার্ম এ এলাকায় নেই। তবে ছাগল পালন করে কম সময়ে স্বালম্বী হওয়া যায়।

তথ্যসূত্রঃ