আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ২০১ বার

চৌগাছায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেয়ারা চাষ, চাষিরা লাভবান

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর)

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পেয়ারা চাষ হচ্ছে। অন্য যে কোন ফসলের তুলনায় পেয়ারা চাষে লাভ বেশি, পরিশ্রম কম। তাই দিন দিন চাষিরা পেয়ারা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলি মাঠের দিকে তাকালে চোখ পড়বে বিশাল বিশাল পেয়ারা বাগান। কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ৮৫ হেক্টর জমিতে উন্নত থাই হাইব্রিড জাতের পেয়ারা চাষ হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চৌগাছা একটি কৃষিবান্ধব উপজেলা। এখানকার অধিকাংশ মানুষই সরাসরি কৃষি কাজের সাথে জড়িত। আধুনিকতার যুগে কৃষক কীভাবে লাভবান হবেন তা নিয়ে প্রত্যেক কৃষকের মাঝে দিন রাত নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে চলে আলোচনা-সমালোচনা। তেমনই এক আলোচনার মধ্য দিয়ে এখানকার কৃষকরা পেয়ারাকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার মনস্থির করেন। দু’ হাজার সালের দিকে উপজেলার কতিপয় কৃষক স্থানীয় জাতের পেয়ারা স্বল্প আকারে চাষ করে তাতেই বেশ সফলতা অর্জন করেন। মূলত এর পরই শুরু হয় উন্নত জাতের পেয়ারার চাষের। সেই থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে পেয়ার চাষ ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করেছে। সরেজমিন উপজেলার স্বরুপদাহ, বেলেমাঠ, তারনিবাস, টেংগুরপুর, জিওলগাড়ি, আন্দারকোটা, হাজরাখানা, বাটকেমারী গ্রাম এলাকায় গেলে চোখে পড়ে মাঠের পর মাঠ পেয়ারার বাগান। এ সময় কথা হয় জিওয়লগাড়ি গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে পেয়ারা চাষি ভোলা মিয়া (৪৫) এর সাথে। তিনি বলেন, পেয়ারা চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক চাষ। অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে পেয়ারা চাষে পরিশ্রম কম, তাই দিন দিন এ জনপদের চাষিরা পেয়ারা চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের এলাকার মাটির গুণাগুণ বিশেষন করে থাই হাউব্রিড জাতের পেয়ারার চাষ বেশি হচ্ছে। মূলত এ জাতের পেয়ারা রোগ প্রতিরোধ মতা বেশি এবং আকারে বড় হয়। তিনি বলেন, ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পেয়ারার চারা রোপন করা হয়। এর আগে জমিতে জৈব অথবা রাসায়নিক সার দিয়ে তৈরি করে নিতে হয়। থাই জাতের পেয়ারার চারা আমাদের এলাকায় পাওয়া যায় না। তাই রাজশাহী থেকে এর চারা সংগ্রহ করা হয়। রাজশাহী থেকে চারা সংগ্রহটা বেশ কষ্টসাধ্য। চারা ভালভাবে পৌঁছে গেলে আর তেমন কোন সমস্যা হয় না। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে ২শ চারা লাগাতে হয়। েেত চারা রোপনের পর সঠিক পরিচর্যা করলে মাত্র ৪ মাসের মাথায় গাছে ফুল আসে এবং ফলে ভরে যায়। পোকা মাকড়, পাখির উপদ্রপ সর্বোপরি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১ বিঘা জমিতে বছর শেষে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার পেয়ারা বিক্রি করা যায়। তাতে খরচ বাদ দিয়ে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ হয়। পেয়ারার ভরা মৌসুমে ১ কেজি পেয়ারা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। মৌসুম ব্যতিত বছরের প্রায় সময়ই পেয়ারা উঠানো যায়। এ সময় ফলন কম থাকলেও দাম বেশি পাওয়া যায়। ফলে খুব একটা সমস্যা হয় না। তিনি ওই মাঠে ১০ বিঘা জমিতে পেয়ার চাষ করেছেন। সব েেতই পেয়ারা দেয়া শুরু হয়েছে জানান। তার মত উপজেলার বাঘারদাড়ি গ্রামের মোক্তার হোসেন ৪ বিঘা, জিওয়লগাড়ি গ্রামের গোলাম রহমানের ছেরে শামছুল ৫ বিঘা, বেলেমাঠ গ্রামের মান্দার বক্্েরর ছেলে হবিবর ৩ বিঘা, বাঘারদাড়ি গ্রামের কাশেমের ছেলে আমিনুর ৮ বিঘা, তারনিবাস গ্রামের শিতল মন্ডলের ছেলে আজিজুরের ৯ বিঘা, বেলেমাঠ গ্রামের বারিকের ছেলে রবিউলের ৪ বিঘা, হাজরাখানা গ্রামের কামাল হোসেনের ৫ বিঘা, বাটকেমারী গ্রামের শামছুল হকের ২০ বিঘা, একই গ্রামের নুরুল ইসলামের ৩ বিঘা, হায়দার আলীর ১০ বিঘা পেয়ারার বাগান আছে। উপজেলার আন্দারকোটা, হাজরাখানা, জগদীশপুর, মির্জাপুর. পাতিবিলাসহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে এই পেয়ারর চাষ শুরু করেছে। প্রকৃত চাষিদের সাথে সাথে উপজেলার বেকার শিতি যুবকরাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে এই ভাবে পেয়ারার বাগান গড়ে তুলেছে। তারা এখন বেশ স্বাবলম্বী। চাষিরা বলেন, তাদের উৎপাদিত পেয়ারা বর্তমানে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় রফতানি করা হচ্ছে। ভরা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরা এখানে ছুটে আসেন। তারা কখনও বাগান ধরে আবার কখনও পাইকারী হারে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। যে সকল চাষির ব্যাপারীর সাথে বিক্রি মূল্য নিয়ে টানা পোড়েন সৃষ্টি হয়, তারা পেয়ারা তোলার পর কার্টন ভরে পিকআপ ভ্যান অথবা নৈশকোচের মাধ্যমে ঢাকাতে নিয়ে যান। একবার চারা রোপন করলে ৮/১০ বছর অনায়াসে পেয়ারা বিক্রি করা যায়। তারা বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে চাষিরা আরও লাভবান হতো। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান বলেন, আমাদের ফিল্ড অফিসাররা সর্বত্র চাষিদের সাথে যোগাযোগ রা করে চলেন। যে চাষি কোন সমস্যা উপলব্ধি করে সঙ্গে সঙ্গে তার পরামর্শ দিয়ে সমাধান করা হয়।

তথ্যসূত্রঃ