আপডেট: সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৩৩৮ বার

চৌগাছার কৃষকেরা লাভবান হওয়ায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

যশোরের চৌগাছায় কৃষকেরা শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ মৌসুমে এলাকার কৃষকেরা ১০কোটি টাকার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে শীতকালীন আগাম সবজি উপসা-৩, রহিম ও রুপভান জাতের শিম চাষ হয়েছে ৪শ৫০ হেক্টর জমিতে, কেকে কুরাচ, ট্রাপিক মানপ্লাস ও ৭১২ জাতের বাঁধাকপি চাষ ৩শ ৮০ হেক্টর, মারবেল ও আলয়াগান জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে ২শ ৪৫ হেক্টর, বারি-১, পুষা ও রবি জাতের টমেটা ১শ ৭৫ হেক্টর, বেগা, মনিরামপুরি, শিংনাথ ও স্থানীয় বেগুন ৪শ ৮০ হেক্টর, আরলি, জাপানি, ইন্ডিয়া ও স্থানীয় ৪০/৪৫ জাতের মুলা ২শ ৩০ হেক্টর, মারচিলা, হাজারি, লালতীর ও স্থানীয় জাতের লাউ ২শ ৫০ হেক্টর, সুইট, সুপ্রিমা, লালতীর ও স্থানীয় জাতের মিষ্টি কুমড়া ২শ ৭০ হেক্টর, মাগুরা, ইরি ও চরো ঝাল ২শ৭০ হেক্টর, বানী ও সাধা জাতের পোটল ৪শ ৭৭ হেক্টরসহ বিভিন্ন জাতের মোট ৩ হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৫শ ১৭ মেট্রিক টন এবং মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। বুধবার উপজেলার হাজরাখানা, পেটভরা, চাঁদপাড়া. বুন্দেলীতলা, বাদেখানপুর, বড়খানপুর, হোগরডাঙ্গা, সিংহঝুলি, জগদীশপুর, মির্জাপুর, ইছাপুর, কান্দি, আড়কান্দি, আন্দারকোটা, পাতিবিলা, রোস্তমপুর, সাদিপুর, দেবীপুর, টেঙ্গুরপুর, বেলেমাঠ, পাঁচনামনা, ধুলিয়ানী, পাশাপোল, চারাবাড়ী, খড়িঞ্চা, পুড়াপাড়া, কদমতলা, সলুয়া, পলুয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা গেছে চাষিরা অন্যান্য আবাদ বাদদিয়ে গুরুত্ব সহকারে শীতকালীন আগাম সবজি চাষে মনোনিবেশ করেছে। চাষিরা জানায়, এসব সবজি শীতকালীন ফসল হলেও আর্থিক লাভবান হবার আশায় ঝুঁকি নিয়ে আগেভাগেই চাষ শুরু করা হয়েছে।

তারা জানায় নিজেদের অভিজ্ঞতায় সবজি চাষ শুরু করে। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে শ শ ট্রাক বোঝাই করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ কর হয়। বর্তমান বাজারে এক কেজি শিম ৮০/৯০ টাকা, বেগুন এক কেজি ৬০/৭০ টাকা, মুলা ৩০/৪০ টাকা, ঝাল ৬০/৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। স্বরুপদহ গ্রামের শিম চাষি জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ১০ কাঠা জমিতে রহিম (সাদা রং) ও রুপভান (লাল রং) জাতের শিম চাষ করেছেন যা ইতোমধ্যে উঠা শুরু হয়েছে। বাজারে শিম ৮০/৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ১০ কাঠা জমিতে শিম চাষ করতে ১০/১২ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে মৌসুমে ১০ কাঠায় শিম উৎপাদন হয় ২৫/ ৩০ মণ। গড় ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে ১০কাঠা জমিতে শিম চাষ করে ৭০/৮০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। বিশেষ করে উপজেলার মাঠে মাঠে ব্যাপকভাবে শীতকালীন সবজি চাষ করছে চাষিরা।

পাতিবিলা গ্রামের বেগুন চাষি পান্নু মিয়া জানান, তিনি ১ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন তা উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে ৬০/৭০ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে। দশ বছর আগেও এখানে এক বিঘা জমির মূল্য ছিল ৮/১০ হাজার টাকা। এখন এক বিঘা জমির মূল্য ৫/৬ লাখ টাকা। বেলেমাঠ গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজিদ জানান ৩/৪ বছর আগে থেকে এই এলাকার কৃষকদের নিজস্ব চিন্তা চেতনা থেকে আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করে। কৃষি বিভাগের লোকেরা তেমন খোঁজ খবর রাখে না। সময় মত তাদের পরামর্শ পেলে শীতকালীন সবজি আগাম চাষে আরও উন্নতি করা সম্ভব হতো। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান শীত মৌসুমের সবজি সাধারণত শীতের শুরুতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিখরা ও অতিবৃষ্টি এ চাষে বড় অন্তরায় হলেও ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া শীতের সবজি চাষ শেষ করে একই জমিতে আলু, ইরিঝাল, মিষ্টি কুমড়া ও তরমুজ চাষ করতে পারছে চাষিরা। এতে জমির ব্যবহার বাড়ছে এবং চাষিরা লাভবান হচ্ছে তাই এ এলাকার চাষিরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছে।

তথ্যসূত্রঃ