আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ২৯৪ বার

রাজগঞ্জে সোনিয়া-মুনিয়া কৃষি খামারে উৎপাদন হচ্ছে বিদেশী পাউলোনিয়া গাছের চারা

ডেসটিনি যা করতে পারেনি। তাই করে দেখাচ্ছেন যশোরের রাজগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন। তিনি পাউলোনিয়া গাছের চারা তাঁর কৃষি খামারে উৎপাদন করছেন। ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ এই পাউলোনিয়া গাছের চারা বিক্রির জন্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল। তারপরেও তাদের সেই গাছ দিতে পারেনি। বর্তমানে রাজগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন তাঁর সোনিয়া-মুনিয়া কৃষি খামারে এই বিদেশি প্রজাতির গাছের চারা উৎপাদন করছেন।

সরেজমিনে সোনিয়া-মুনিয়া কৃষি খামারে যেয়ে দেখা গেছে, প্রায় দেড় শতাধিক পাউলোনিয়া গাছ রয়েছে সেখানে। যার বর্তমান বয়স ৫ মাস থেকে ১ বছর। এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক চারা বাটিতে পাতানো রয়েছে। যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রিযোগ্য হবে।

তিনি জানান, রাজশাহী থেকে পাউলোনিয়া গাছের পরিচর্যা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নিয়ে, মাত্র ২৮টি চারা কিনে এনে রোপন করি এবং সেখান থেকে এই গাছের উৎপাদন করে থাকি। ডেসটিনি ওই সময় একটি পাউলোনিয়া গাছের চারা বিক্রি করতো ৫শ’ টাকা করে। সেখানে সোনিয়া-মুনিয়া কৃষি খামার প্রতিটি চারার মূল্য রেখেছে মাত্র ৫০ টাকা বিক্রিও ব্যাপক বলে তিনি বলেন।

তিনি বলেছেন, গত ৬ মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকার পাউলোনিয়ার চারা বিক্রি করা হয়েছে। যা হওয়ার কথা ছিল না। একটি বাড়িতে যদি ১০টি পাউলোনিয়া গাছ থাকে, তাহলে সেই বাড়ীওয়ালা স্বয়ংসমপূর্ণ। কারণ পাউলোনিয়া গাছের গুনাগুন অনেক। যেমন- প্রতিদিন এক ইঞ্চি করে বাড়ে, অল্প সময়ের মধ্যে বিক্রিযোগ্য হয়, কাঠের মূল্য অন্যান্য কাঠের থেকে অনেক বেশি, লম্বা হয় অনেক, অল্প জমিতে অনেক গাছ রোপন করা যায়। সব থেকে আশ্চার্য বিষয় হচ্ছে, এই বিদেশি প্রজাতির কাঠে আগুন লাগেনা। এজন্য বিলাসিতা প্রেমী মানুষদের ফার্নিচার তৈরির প্রথম পছন্দ এই পাউলোনিয়া গাছের কাঠ। যশোর জেলার মধ্যে একমাত্র রাজগঞ্জের চন্ডিপুর গ্রামের সোনিয়া-মুনিয়া কৃষি খামারেই এই চারা উৎপাদন হচ্ছে। তাঁর কৃষি খামারেও এই গাছ রোপন করা রয়েছে। তাতে আলাদা সৌন্দর্য্য বিরাজ করছে। ফারুক হোসেন পাউলোনিয়ার চারা উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি সু-স্বাদু স্ট্রাবেরি ও সুখ সাগর পেয়াঁজও চাষ করে থাকেন।

তথ্যসূত্রঃ