আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৪৪৩ বার

পান্নু’র মাছ বিপ্লব

মাছ উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন পান্নু। পাঙ্গাসসহ অন্যান্য মাছের ১৪ কোটি পোনা উৎপাদন করে দণি-পশ্চিমাঞ্চলে সাড়া জাগিয়েছেন। এখন তিনি বিলুপ্তপ্রায় দেশিয় প্রজাতির মাছ ফিরিয়ে আনার জন্য উ েপড়ে লেগেছেন। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য হাতে কলমে মাছ চাষের প্রশিণ দিচ্ছেন। কয়েক বছর ধরে যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের যুবক সেলিম রেজা পান্নু পাঙ্গাস মাছের পোনা নার্সিং করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। প্রতিবছর তাঁর সেবা যতেœ বেড়ে ও া ৩ কোটি পাঙ্গাসের পোনা কিনে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানের মাছ চাষীরা। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও যাচ্ছে পান্নুর পাঙ্গাস পোনা। পাঙ্গাস পোনার পাশাপাশি প্রতিবছর তাঁর খামারে বেড়ে ও া রুই জাতীয় মাছের ১০ কোটি পোনা, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের ২ লাখ কৈ, যমুনা ও হালদা নদীর প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগৃহীত রেনুর ২ লাখ রুই, কাতলা, মৃগেল, ইলশেবাটা আর দেশি শিং, মাগুর, টেংরা, চিতলের ৫ লাখ পোনা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানের মাছ চাষীদের কাছে। আর ওই পোনা খাবার উপযোগী মাছে পরিণত হয়ে আমিষের ঘাটতি পূরণ করছে। ঝিকরগাছা উপজেলার রাধানগর গ্রামে কাগমারি বিলের পান্নুর ‘মা মনি মৎস্য খামারে’ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের কোটি কোটি পোনা নার্সিং এর পাশাপাশি বছরে উৎপাদিত হচ্ছে ৫ হাজার মণ খাবার উপযোগী মাছ। পান্নুর এই মাছ উৎপাদনের কর্মযজ্ঞে দুইজন মহিলাসহ ৫০ জন সার্বণিক কাজ করছেন। দেশ-বিদেশের প্রতিনিধি দল তাঁর এই মাছের কায়কারবার দেখতে আসছেন।

যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামে বাড়ি সেলিম রেজা পান্নুর। আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়া করতে পারেননি। উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পরই তাকে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। তাঁর মা সালেহা বেগম ধার দেনা করে তাকে ৫শ’ টাকা পুঁজি দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে সেই পুঁজি নিয়ে পান্নু বাঁচার স্বপ্নে ছোট্ট একটি পুকুর লিজ নিয়ে মাছের সঙ্গে সাখ্য গড়ে তোলেন। এরপর রাত দিন পরিশ্রম করে সে শুধু মাছের পোনার দেখভাল করেছেন। আর পেছনে ফেরেননি। একের পর এক পুকুর কিনে কিংবা লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন বড় একটি মৎস্য খামার। ১৬টি পুকুরের ৬৫ একর জলকরের সেই খামারে এখন শুধু মাছ আর মাছ। এই মাছ থেকেই তিনি এখন একটি পরিবহনের মালিক। পান্নু বললেন, ‘আমি ২০০৩ ও ২০০৯ সালে পাঙ্গাস পোনার নার্সারি করে যশোর জেলার শ্রেষ্ পুরষ্কার পেয়েছি। ২০১৩ সালে মনোসেক্স তেলাপিয়ার উৎপাদনে মৎস্য সপ্তাহের আমাকে জেলার শ্রেষ্ পুরষ্কার দেয়া হয়। বছরে আমি ৩ কোটি পাঙ্গাসের পোনা নার্সিং করছি। ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টারের কাছ থেকে এ বছর ১ লাখ ৬০ হাজার ভিয়েতনামের কৈ এর রেনু কিনে নার্সিং করছি। পাশাপাশি ওয়ার্ল্ড ফিস সেন্টার আমাকে হালদা নদীর ২ লাখ রুই জাতীয় মাছের পোনা বিনামূল্যে দিয়েছে। সেই পোনা নার্সিং করে বিক্রি করছি। ভিয়েতনামের কৈ অল্প সময়ের মধ্যেই ৫টিতে এক কেজি হয়। আর হাদলা নদীর রুইয়ের পোনা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এজন্য এসব মাছ আমি সারাদেশে পৌঁছে দিচ্ছি। বিলুপ্তপ্রায় শিং, মাগুর, গুলসা ট্যাংরা, চিতলের পোনা নার্সিং শুরু করেছি। এসব পোনা চাষ করে হারিয়ে যাওয়া মাছ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। অন্যদিকে মাছ চাষীরাও লাভবান হবেন।’ এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রমজান আলী বলেন, ‘পান্নু মাছ চাষে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এজন্য তিনি ৩ বার জেলার শ্রেষ্ মাছ চাষীর পুরষ্কার পেয়েছেন। আমিষের ঘাটতি পূরণে তাঁর উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

তথ্যসূত্রঃ