আপডেট: ফেব্রুয়ারী ২৩, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ১৯২ বার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সুস্বাদু স্ট্রবেরির চাষ

এম.শাহজাহান আলী সাজু

টেলিভিশন ও পত্রিকার পাতায় স্ট্রবেরি চাষ নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখে কৌতূহলবশতঃ সুস্বাদু স্ট্রবেরি চাষে নামেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আশরাফ হোসেন স্বপন। ব্যবসার পাশাপাশি কৃষিকাজে অভ্যস্থ তিনি। সফল ফুলচাষি হিসেবে এলাকায় সুনামও আছে তার। ফুল চাষের পাশাপাশি এ বছরে পরীক্ষামূলক স্ট্রবেরির চাষ শুরু করেন। সময় মতো চারা রোপণ করতে না পারায় এ বছর ভালো ফলন না পেলেও লাভের আশা করছেন তিনি। নিজের ক্ষেতের উৎপাদিত স্ট্রবেরি ফল থেকে চারা উৎপাদন করে আগামীতে নিজ এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ ছড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা তার।

স্বপন জানান, কালীগঞ্জ উপজেলার জাফর বীজ ভাণ্ডারের সহযোগিতায় মুনসেন কোম্পানির কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের মাধ্যমে জয়পুরহাট থেকে তিনি স্ট্রবেরির চারা সংগ্রহ করেন। প্রতিটি চারা ২০টাকা দরে ক্রয় করে নিজের ১৭ শতক জমিতে প্রায় ৩ হাজার চারা রোপণ করেছেন। চারা সময়মতো না পাওয়ায় গাছে ফলন এসেছে দেরিতে। বেশি দামে চারা ক্রয় ও দেরিতে চারা রোপণে এবার আশানুরুপ লাভ পাওয়া যাবে না বলে জানান তিনি। জমি তৈরি, চারা রোপন, পানি সেচ, ক্ষেতের বেড়াসহ নানা পরিচর্যায় ১৭ শতক জমিতে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এবার খরচের টাকা উ ে অল্প কিছু লাভ হতে পারে। স্বপন জানান, স্ট্রবেরির চারা সাধারণত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি রোপণ করতে হয়। চারা রোপণের ৩০/৪০দিনের মাথায় ফলন আসে। ৩ মাস ধরে ফল তোলা যায়। এক মৌসুমে প্রতিটি গাছ থেকে প্রায় ১০/১২টি ফল পাওয়া যায়। তিনি আরো জানান, এবারের ফল থেকে চারা তৈরি করবেন। আগামী মৌসুমে নিজের উৎপাদিত চারা দিয়ে ২/৩ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করবেন। সময় মতো চাষ করলে অন্য ফসলের তুলনায় অধিক মুনাফা অর্জন করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। স্বপন জানান, মৌসুমের প্রথমদিকে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। আগামী বছর নিজের উৎপাদিত চারা রোপণে মৌসুমের প্রথম দিকের দাম ধরার ইচ্ছে আছে তার।

স্বপনের দেখাদেখি অনেকে স্ট্রবেরি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে স্ট্রবেরি নার্সারি করার পরিকল্পনা আছে তার। স্ট্রবেরির নার্সারি করে এলাকায় এ ফলের চাষ ছড়িয়ে দিতে চান তিনি। ব্যবসার পাশাপাশি চাষাবাদের মাধ্যমে সফল হওয়া স্বপন এলাকার বেকার যুবকদের কৃষিকাজে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্বপন জানান, স্ট্রবেরি ফল চাষের কারণে অচিরেই এলাকার অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে।

এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন জানান, কালীগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা ও বেজপাড়া নারিশ পোল্ট্রি ফিডে স্ট্রবেরির চাষ করা হচ্ছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি জানান, চাষিরা স্ট্রবেরি চাষে এগিয়ে আসলে উপজেলা কৃষি অফিস চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে।

তথ্যসূত্রঃ