আপডেট: ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৩৬৯ বার

ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ‘ফুলের রাজধানী’

তরিকুল ইসরাম, ঝিকরগাছা (যশোর) বসন্তবরন উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আর ভাষা দিবসকে সামনে রেখে ফুল সরবরাহে ব্যাপক তোড়জোড় চলছে যশোরের গদখালিতে। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ফুলের সাম্রাজ্য হিসেবে খ্যাত ফুলের রাজধানী যশোরের গদখালি। ফুল উৎপাদন, চাহিদা ও দাম সবই বেশী হওয়ায় এবার প্রায় সাত কোটি টাকার ফুল বিক্রি হবে বলে আশা করছেন গদখালি ফুল চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম।

প্রতিদিন সূর্য ও ার আগে থেকেই চাষী, পাইকার, শ্রমিকদের হাঁক-ডাকে মুখর হয়ে উ ছে জেলা শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমে যশোর বেনাপোল মহাসড়কের পাশের ছোট্টবাজার গদখালি। দূরদূরান্ত থেকে পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ছুটে আসছেন ফুল সংগ্রহ করতে। সকাল থেকেই বিভিন্ন রুটের বাসের ছাদে স্তুপ করে ফুল সাজানো হচ্ছে, পা ানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের ফুল যাচ্ছে ট্রাক-পিকআপ ভ্যানবোঝাই হয়ে।

এবার দাম এবং বেচাকেনা দুটোই ভাল হওয়ায় তারা দারুণ যশোরের খুশি ফুল ব্যবসায়ীরা। তাই এই অঞ্চলের ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। গত কয়েক দিন ধরে সারা দেশের পাইকাররা ফুল কিনতে আসছেন গদখালিতে।

বর্তমানে প্রতি দিনের ফুল বিকিকিনি অর্ধকোটি টাকার উপরে উল্লেখ করে আব্দুর রহিম জানান, সারা দেশে বসন্তবরন উৎসব, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের যে ফুল বেচাকেনা হয় তার অন্তত ৭৫ শতাংশই যশোরে উৎপাদিত হয়। তবে এবারের চাহিদা অন্যান্য যে কোন সময়ের তুলনায় অনেক বেশী। ফলে শহর ও নগরের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ফুলের যোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছেন গদখালির চাষিরা।

ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি মো. জিন্নাহ জানান, তিনি ছয় বিঘা জমিতে গোলাপ, জবা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাসের পাশাপাশি এবার ইউরোপের অপূর্ব জারবেরা ফুলও চাষ করেছেন। এবার আবহাওয়াও ভালো থাকায় বাগানে আগের চেয়ে বেশি ফুল হয়েছে। ফুল বেঁচে চার-পাচ লাখ টাকা ঘরে আনতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। জারবেরা ফুল এবার সবার কাছে বিশেষ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। চাহিদা বেশী থাকায় মূল্যবান এই ফুলটি বিক্রি করে চাষীরা বেশী লাভবান হবেন বলে আশা করছেন গদখালি ফুল চাষি কল্যাণ সমিতির সচিব আ. আলিম।

যশোরের গদখালি এলাকায় রজনীগন্ধা, গোলাপ, গাঁদা, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, ক্যালেন্ডেলা, ডালিয়া, লিলিয়াম, চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুলের চাষ হচ্ছে বলে জানান কানারালি গ্রামের আব্দুর রহমান। ঝিকরগাছার পানিসারা গ্রামের ফুলচাষি ফারুক হোসেন জানান, তিনদিনে তিনি দুই লাখ টাকার জারবেরা, গ্লাডিওলাস ও গোলাপ ফুল বিক্রি করেছেন।

ঝিকরগাছার কানারালি গ্রামের ফুলচাষি মহসিন আলি জানান, দুদিনে তিনি দেড় লাখ টাকার জারবেরা ও গোলাপফুল বিক্রি করেছেন। গদখালি বাজারে ফুল কিনতে আসা খুলনার ফুল ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান বলেন, “৫০ হাজার টাকার ফুল কিনতে গদখালি এসেছি। এসে দেখি ফুলের বাজার খুব চড়া।” বাজার ঘুরে দেখা গেছে জারবেরা ফুলের প্রতিটি স্টিক বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকায়, গোলাপ ছয় থেকে আট টাকায়, গ্লাডিওলাস রং ভেদে তিন টাকা থেকে ১০ টাকা, গাঁদা প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ৩৫০টাকায়।

ঝিকরগাছার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাইদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের তত্ত্বাবধানে যশোর সদর, শার্শা ও ঝিকরগাছার ৪০টি গ্রামের প্রায় পাঁচশ’ ফুলচাষি এই এলাকায় ফুলের চাষ করেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফুলের উৎপাদনও হয়েছে বেশী।” এই বছর বাজারে চাষিরা এক বিঘা জমি থেকে গড়ে ৬০ থেকে ৭০হাজার টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্যসূত্রঃ