আপডেট: এপ্রিল ৩, ২০১৫   ||   ||   মোট পঠিত ৩৪২ বার

বাংলাবর্ষ বিদায় ও বরণ করতে প্রস্তুত হচ্ছে যশোরবাসী বর্ষবরণের পথিকৃৎ চারূপীঠ ও চারুতীর্থে চলছে

প্রণব দাস : বাঙালীর অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আবহ্মান বাংলার সার্বজনীন প্রাণের উৎসব ‘বাংলাবর্ষ বরণ’। চিরায়ত নিয়মে নতুনকে জায়গা দিতে আর মাত্র ১৪দিন পর কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে বাংলাবর্ষ ১৪২১। শুরু হবে নতুন বছর ১৪২২ বঙ্গাব্দ। তাই শ্বাশত কালের ধারায় প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে পুরাতনকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানাতে আবহমানকালের ধারায় প্রস্তুত যশোর। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় স্বকীয়তা বজায় রাখতে প্রত্যেক সংগঠন নতুন বছরের প্রথম দিন তাদের নিজস্ব ভাবনায় উপহার দেবে ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন। তারই প্রস্তুতিতে দিন রাতকে একাকার করে ফেলেছেন যশোরের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আর বাংলাবর্ষ বরণে কারা কি করছে তা নিয়ে আজ থেকে থাকছে ধারবাহিক প্রতিবেদন।

বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে বর্ষবরণের পথিকৃৎ চারূপীঠ যশোরেও চলছে প্রস্তুতির কাজ। যুগোপযোগী সহজবহনযোগ্য ও সাশ্রয়ী উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের পাপেট ও উজ্জ্বল রঙের মুখোশ ও মুকুট তৈরিতে ব্যস্তসময় পার করছেন শিল্পীরা। যা বরাবরের মত এবারও যশোরবাসীকে মুগ্ধ করবে ও উপহার দেবে নববর্ষের আনন্দঘন দিন।

১৪২১ কে বিদায় আর ১৪২২ কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছে আবেগপ্রবণ ও উৎসবপ্রিয় আপামর বাঙালী। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখে বর্ণিল সাজে ঢাক-ঢোলের বাদ্যে উৎসবে মাতাতে জেলা প্রশাসনসহ যশোরের সকল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো প্রতিবছর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারেও বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে শহরের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বসবে মানুষের মিলন মেলা। ঐতিহ্য অনুযায়ী সাংস্কৃতিক সংগঠনে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। চলতি বছরের শেষ অর্থাৎ ৩০ চৈত্র ও নতুন বছরের প্রথম দিনটি কে কিভাবে স্বাগত জানাবে তার জন্য আগে ভাগেই শুরু হয়ে গেছে মহড়া ও সাজ সজ্জা।

নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রার স্বপ্নদ্রষ্টা যশোর চারূপীঠের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ চারু-কারু শিল্পী মাহবুব জামাল শামীম বলেন, যশোরের চারূপীঠ ১৯৮৫ সালে প্রথম বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। এর উদ্যোক্তা ছিলেন তিনিসহ চারূপীঠের হিরন্ময় চন্দ, ছোট শামীম এবং আরো কয়েকজন। এর আগে এই উপমহাদেশে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শোভাযাত্রার কোনো ইতিহাস নেই। সেদিনের সে আয়োজনের পর তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয় নববর্ষের এ আয়োজন। পরবর্তীতে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’র নামকরণ হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’।

মাহবুব জামাল শামীম বলেন, চারূপীঠের পর ১৯৮৯ সালে চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা ঢাকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেন। ১৯৯০ সালে বরিশাল ও ময়মনসিংহ শহরে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। এর চার বছর পর ১৯৯৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও শহরে ও শান্তিনিকেতনে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। গত কয়েক বছর ধরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হচ্ছে।

মাহবুব জামাল শামীম বলেন, যশোরের সেই শোভাযাত্রায় ছিল পাপেট, বাঘের প্রতিকৃতি, পুরানো বাদ্যসহ আরো অনেক শিল্পকর্ম। যশোরের সেই শোভাযাত্রা সারা দেশে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও থাকছে নানা আয়োজন। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পথিকৃৎ চারূপীঠের শিল্পীরা তাদের মনের মাধুরি মিশিয়ে সৃষ্টি করছেন নানা শিল্পকর্ম। যুগোপযোগী সহজবহনযোগ্য ও সাশ্রয়ী উপকরণ দিয়ে বিভিন্ন ধরণের পাপেট ও উজ্জ্বল রঙের মুকুট তৈরিতে ব্যস্তসময় পার করছেন শিল্পীরা। যা বরাবরের মত এবারও যশোরবাসীকে মুগ্ধ করবে ও উপহার দেবে নববর্ষের আনন্দঘন দিন। প্রতিক্ষা শুধু আর মাত্র কয়েকটি দিনের। তিনি মঙ্গল শোভাযাত্রায় সকলকে অংশগ্রহণের জন্য আহবান জানিয়েছেন।

এদিকে চারুতীর্থ যশোর মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বর্ণিল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সংগঠনের শিক্ষক ও চারু-কারু শিল্পী সজল ব্যাণার্জী ও বিষ্ণু দাস জানান, মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বর্ণাঢ্য ও বর্ণিল করতে চারুতীর্থের শিক্ষার্থীরা তৈরি করছে ২৫ফিট লম্বা অজগর ও বিশাল বড় মোরগ। এছাড়া শোলা দিয়ে তৈরি রং বে রঙের রাজা, রাণী, ফুল, পাখী, প্রজাপতি, পেঁচা এবং কাগজের মুকুট। যা মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ভিন্ন মাত্রা এনে দেবে। চারুতীর্থ’র পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্রেও থাকছে ব্যতিক্রমের ছোঁয়া। মাটির সরায় পটশিল্পীর আঁকা সুদৃশ্য আবহমান গ্রামবাংলার দৃশ্য ও আল্পনায় আমন্ত্রণ জানানো হবে অতিথিদের। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠন প্রাঙ্গনে হবে মিষ্টিমুখ। চারুতীর্থ’র সভাপতি কাজী ইমদাদুল হক দুলাল সকলকে আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে চারুতীর্থ’র সব অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj