আপডেট: অক্টোবর ৩, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৩৫২ বার

দোলার একক এ্যালবাম জল ফড়িং রিলিজ

যশোরের মেয়ে দেবলীনা সুর দোলার একক এ্যালবাম “ জল ফড়িং” এর অড়িও গতকাল সন্ধ্যায় বেইলী রোড়ের হোটেল ক্যফে থ্রিতে রিলিজ হলো। এটি শিল্পীর প্রথম এ্যালবাম. এই এ্যালবামে শিল্পী নিজের লেখা ও সুর করা গান গেয়েছেন। দেবলীনার গানের সার্বিক তত্বাবধায়ন ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ইমন সাহা। স্পন্সার প্রাণ ভিষণ , প্রকাশনায় অগ্নিবীনা”। এ্যালবামটিতে ৭টি গানের ১টি লিখেছেন সুমন সাহা ও একটির সুর করেছেন ইমন সাহা। বাংলাদেশে একজন নবীন শিল্পীর এধরণের কাজ এই প্রথম।

দেবলীনা সুর দোলা যশোর ক্যান্টমেন্ট কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে শান্তি নিকেতন এর বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতে বি-মিউজ অনার্স এ প্রথম বিভাগে ২য় স্থান নিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে কোলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে রবীন্দ্রসঙ্গীতে মাস্টার্স শেষ করে দেশে ফিরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে শিল্পী হিসাবে নিজের দেশবাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন। সেপ্টম্বর মাসেই বাংলাদেশ সরকারের অনুদানে নির্মিত ‘বৃহন্নলা” ছবির মাধ্যমে তার প্রথম অভিষেক হলো প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসাবে। ঐ ছায়াছবির গানটিও দেবলীনা লিখেছেন-“ প্রিয় তোর কিসের অভিমান,/ সঘন শ্রাবণ এলো পায়ে পায়ে / মথুরার পালকি এলো আমার গায়ে/এলনা সে এলনা / অঙ্গিনা হলো সুনসান”।

এখন তার রবীন্দ্রসঙ্গীতের এ্যালবামের কাজ চলছ্ েসেটিও খুব শিঘ্রী রিলিজ হবে। দোলা জানিয়েছেন রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে পড়লেও সবধরনের গানের ভূবনে তিনি বিচরণ করতে চান।তার অনুকরনীয় আইকন শ্রীকান্ত আচার্য ও তারই সঙ্গীত গুরু ইন্দ্রানী সেন।

মাত্র ৬বছর বয়স থেকে যশোরের চাদেঁর হাটে শিশু শিল্পী হিসাবে যোগদান । টাউন হলমাঠে অসংখ্য অনুষ্ঠান করা, ৯ বছর বয়সে চাদের হাটের বিজয়মেলার অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়ে অনুষ্ঠান করে ক্ষুদে নেত্রী হিসাবে তাক লাগিয়েছিলেন সকলকে। বাড়িতে ওস্তাদ অর্ধেন্দু প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দীর্ঘ দিন তালিম নেওয়া মূলত তার কাছেই ভীত রচনা ও গানের ইমারত গাঁথা শুরু। পাশাপাশি সদ্য প্রয়াত: শাহ মো: গোলাম মোর্শেদ, অশোকা দত্ত টিপু সুলতান রুমির কাছে গান শিখেছেন । কোলকাতায় অগ্নিভ বন্দ্যেপাধ্যয়, তৃষিত ঘোষ, ইন্দ্রানী সেন,রাজ্যশ্রী ঘোষ,শান্তি নিকেতনে গোরা সর্বাধিকারি, স্বত্ত্বিকা মূখ্যোপাধ্যায়সহ অসখ্য গুনীর সানিধ্য্যে গান শেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার।

রবীন্দ্রভারতীতে পড়ার সময়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য অধিদপ্তর আয়োজিত “ রজ্য সংগীত প্রতিযোগিতায় দেবলীনা প্রথম স্থান অধিকার করেন। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পুরষ্কার গ্রহন দোলার জীবনের উল্লেখযোগ্য স্মৃতি। এই প্রাপ্তির সুবাদে কোলকাতা রাজ্যসরকারের আয়োজনে “গান মেলায়” নির্মলা মিশ্র, পন্ডিত অজয় চক্রবর্তী, শ্রাবন্তী মজুমদার, কল্যাণ সেন এর মত শিল্পীদের সঙ্গে একই স্টেজে গান গাইবার সুযোগ পান। দোলা ৯৫ এ “ নতুন কুড়ি টেলিভিশন ” পুরষ্কার লাভ করেন । ৯৩ এ জাতীয় পুরষ্কার পান এবং ২০০৭ এ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত “প্রতিভা অন্বেষনে” পুরষ্কৃত হন। দেবলীনার প্রথম ভালবাসা গান, শেষ ভালবাসাও গান তাই দেবলীনা যশোরবাসীর কাছে অর্শিবাদ চেয়েছে আরো ভালো গান যাতে সে গাইতে পারেন।

দেবললীনা সুর তার মা বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রাবণী সুরের মাধ্যমে যশোরবাসীকে শারদীয় শুভেচ্ছা ও ঈদুল অযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj