আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৩০৫ বার

নববর্ষ উদযাপন মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ : বিভিন্ন সংগ নের বর্ণিল আয়োজন প্রাণের ছোয়ায় স্না

প্রণব দাস : বাঙালীর সার্বজনীন উৎসব বাংলাবর্ষবরণে প্রাণের ছোয়ায় স্নাত হয়েছে যশোর। নারী-পুরুষ-শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক মহামিলন মেলায় মেতেছিল নগরবাসী। ধর্ম-বর্ণ, ধনী-গরীব মিলে মিশে একাকার। এ যেন এক হয়ে উৎসব নগরী। আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর আবেগ ভালবাসায় সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ১৪২১ কে স্বাগত জানিয়েছে সবাই। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাদ্য যন্ত্রে, সমৃদ্ধ সুর-মুর্ছণায় সবাই একাকার হয়ে যায়। আর এ সবে সকাল থেকে রাত অবধি মানুষজটের শহরে পরিণত হয় যশোর।

পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপন পূর্ণতা পায় না মঙ্গল শোভাযাত্রা ছাড়া। তাই প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগ নগুলো। আর এ শোভাযাত্রায় বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের ঢল নামে। প্রাণে প্রাণ মেলাতে সকলে একসাথে গেয়ে ও ে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো...’, ‘ঐ নুতনের কেতন ওড়ে কাল বৈশাখীর ঝড় তোরা সব জয়ধ্বনী কর’ এমনি গানসহ বিভিন্ন গান।

কালেক্টরেট চত্বর থেকে সকাল ৮টায় চারুপী , এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজ, চারুতীর্থসহ সকল সাংস্কৃতিক সংগ নের সহযোগিতায় আড়ম্বরপূর্ণ সম্মিলিত মঙ্গল শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এর আগে বেলুন উড়িয়ে এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান।

এ বিশাল ও বর্ণিল মঙ্গল শোভাযাত্রায় ফুল, প্রজাপতি, পাখি, ময়ূর, সিংহ, বাঘ, হাতি, ঘোড়া ইত্যাদির মুখোশ পরে বৈশাখী উপকরণে ঢাক-ঢোল কাঁশির বাদ্যে মুখরিত করে তোলে গোটা শহর। শোভাযাত্রাটি গরীবশাহ সড়কে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের পাশ দিয়ে দড়াটানা হয়ে চৌরাস্তা, মাইক পট্টি, পোস্ট অফিসের সামনের রাস্তা দিয়ে ঈদগাহ ময়দানে এসে শেষ হয়।

সম্মিলিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ছাড়াও বর্ষবরণে যশোরের ঐতিহ্য অনুযায়ী জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগ ন তাদের নিজস্ব আঙ্গিকে বৈচিত্র্যময় নানা অনুষ্ ানের আয়োজন করে। যা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলা ও বাঙালীর প্রধান উৎসব ‘বাংলাবর্ষ বরণ’ পহেলা বৈশাখকে আরো জাঁকজমক, বর্ণিল ও আনন্দময় করে তোলে।

জেলা প্রশাসন ঃ মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলোতে আয়োজন করা হয় বর্ষবরণ উৎসব। অতিথিদের শুভেচ্ছা বিনিময়সহ জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান নিজে আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ঢাক বাজিয়ে এ অনুষ্ ানের উদ্বোধন করেন। এসময় প্রশাসনের পরিবারবর্গের শিশুরা ঢাকের তালে তালে নেচে ও ে। জেলা প্রশাসক পতœী শারমিন মোস্তাফিজের নেতৃত্বে একই নকশার শাড়ী পরিহিত অপরূপ সাজে সুসজ্জিত জেলা ‘লেডিস ক্লাব’ সদস্যদের শাশ্বত আহবান ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ সংগীতে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান। জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে শিশু শিল্পী নুঝাতসহ বিভিন্ন শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন।

এ অনুষ্ ানে সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, যশোর-২ ঝিকরগাছা আসনের এমপি এড. মনিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি মিজানুর রহমান তোতা, সাবেক সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, সহ-সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, গ্রামের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিনসহ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগ নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংগীতানুষ্ ানের পাশাপাশি এখানে মাটির বাসনে পান্তাভাত, ইলিশ ভাজা, আলু ও ডাল ভর্তা, কাঁচা পেয়াজ আর কাঁচ ঝাল, কাসুন্দিসহ বাংলার ঐতিহ্য বাতাসা, কদমা আর খৈ মুড়কীতে আপ্যায়িত হন অতিথিবর্গ। চলে প্রাণখোলা আড্ডা আর শুভেচ্ছা বিনিময়।

উদীচী ঃ ‘বোশেখ মাসের নতুন দিন- নতুন সুরে বাজুক বীণ’- সমস্ত অশুভকে দূরে েলে নতুন দিনের প্রত্যাশায় বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে যশোরবাসীকে উৎসবের আনন্দে মাতিয়ে দেয় যশোরে এ উৎসবের পথিকৃৎ উদীচী যশোর। এ সংগ নের শিশু-কিশোরসহ প্রায় আড়াই শ’ সংগীত, নৃত্য ও অভিনয় শিল্পী বৈচিত্র্যময় নানা আয়োজনে ৩৮ বছরের ধারাবাহিকতার দৃষ্টান্ত রাখতে এবারো যশোরবাসীকে উপহার দেয় চমক দেয়া জমকালো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান। সংগ নের সব শিশুর একই ধরণের জামা, কিশোরীদের লাল সাদা ফ্রক, মেয়েদের স্ক্রীন প্রিন্টের শাড়ী, ছেলেদের লাল-সাদা পাঞ্জাবী পরিহিত এ অনুষ্ ান বর্ণিল হয়ে ও ে।

নববর্ষের প্রথম দিনের শুরুতে পৌর উদ্যানে যশোরবাসীকে মাতাতে এবারও সকাল ৬টা ৩১মিনিট থেকে দুপুর ১টা ১৫মিনিট পর্যন্ত একটানা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান উপহার দেয় উদীচী যশোর। শুরুতে ভৈরবী রাগে আড়বাঁশির সুর মূর্ছণায় নববর্ষকে আহবান করে সংগ নের আড়াই শতাধিক শিল্পী এক সাথে ‘ওরে গৃহবাসী- খোল দ্বার খোল লাগলো যে দোল’ গেয়ে নগরবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানায়। অনুষ্ ানমালায় ছিল গণসংগীত ও দেশাত্ববোধকসহ রবীন্দ্র, নজরুল, দিজেন্দ্র লাল রায়, রজনীকান্ত, রাধারমন, লালন, হাছনরাজা, শাহ আব্দুল করিম, বিজয় সরকার, পান্থ শাহের গান। এছাড়া শিশুদের ছড়া আবৃত্তি, বড়দের বৃন্দ আবৃত্তি, সমবেত নৃত্য। ছিল শিশুদের রূপকথা, জারি ও পাহাড়ী নৃত্য। বরাবরের মত মঞ্চস্থ হয় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় রচিত ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘শাজাহান’। যার নির্দেশনায় ছিলেন আব্দুল আফফান ভিক্টর।

যশোর পৌর উদ্যানে উদীচীর ৩৯তম উৎসব মঞ্চে উপস্থিত হয়ে যশোরবাসীকে শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ, সাবেক পৌর মেয়র এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা, দৈনিক গ্রামের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, উদীচী যশোরের উপদেষ্টা ডা. কাজী রবিউল হক, কাজী আব্দুস শহীদ লাল, উদীচী যশোরের সভাপতি সোমেশ মুখার্জী, সাধারণ সম্পাদক ডিএম শাহিদুজ্জামান শহিদ প্রমুখ। অনুষ্ ানে এবছর ‘রবিউল হক সংস্কৃতি পদক’ প্রদান করা হয় উদীচী যশোরের উপদেষ্টা সোহরাব উদ্দীনকে।

যশোর ইনসটিটিউট ঃ বর্ষবরণ উদযাপনে যশোর ইনসটিটিউট নাট্যকলা সংসদ সকালে এক ব্যতিক্রমী আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। রংবেরঙের কাগজ দিয়ে সাজানো ঘোড়ার গাড়ীতে বর-বউ, জমিদার, পাইক-পেয়াদার অভিনব সাজে এ শোভাযাত্রা যশোরবাসীর ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আয়োজনের নেতৃত্ব দেন নাট্যকলা সংসদের সম্পাদক আব্দুর রহমান কিনা ও এ সংগ নের নববর্ষ উদযাপন পর্ষদের আহবায়ক সাকির আলী। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে ছিলেন যশোর ইন্সটিটিউটের সাবেক জিএস আলহাজ্ব আলী আকবর ও বর্তমান জিএস শেখ রবিউল আলম। শেষে মিষ্টি মুখের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় নাট্যকলা সংসদের ভূপতি মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানে যাদু প্রদর্শন ও রাতঅবধি চলে জমজমাট আড্ডা।

সুরবিতান সংগীত একাডেমী ঃ ঐতিহ্যের পরম্পরায় সুদীর্ঘ ৬২ বছরের সুপ্রাচীন সাংস্কৃতিক সংগ ন সুরবিতান সংগীত একাডেমী বাংলাবর্ষ বরণে যশোরবাসীকে উৎসবের বন্যায় ভাসায় নববর্ষের প্রথম দিন। আবহমান গ্রাম-বাংলার সাজে সজ্জিত শতাব্দী বটমূলের রওশন আলী মঞ্চে সকাল-বিকাল-রাত তিন অধিবেশনে মনোমুগ্ধকর নানা অনুষ্ ানমালায় ছিল রবীন্দ্র, নজরুল, লালন, তিন কবির গান, হারানো দিনের ও এ প্রজন্মের গানসহ নৃত্যানুষ্ ান। অনুষ্ ানে একাডেমীর দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী শিল্পীসহ বেতার টেলিভিশনের শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। সকালের অনুষ্ ান শেষে আনন্দ শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ শেষে সংগ ন চত্বরে লুচি, বুন্দিয়া আর আলুর তরকারিতে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ ানের তৃতীয় পর্বে সন্ধ্যার পর মঞ্চে এসে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান যশোরবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

সুরধুনী ও বিবর্তন ঃ নববর্ষের প্রথম দিনে যশোরবাসীকে উৎসবের বন্যায় ভাসাতে সুরধুনী সংগীত নিকেতন ও বিবর্তন যশোর নানা আয়োজন করে। এদিন নবকিশলয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ িত নিজস্ব স্বকীয়তার পোশাক পরিহিত শতাধিক শিক্ষার্থী শিল্পী সকাল-বিকাল বর্ণিল ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান উপহার দেয় যশোরবাসীকে। এখানে সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ ান। শিশুদের পরিবেশনায় বৈশাখ বরণ করা হয়। কবিতা, নৃত্য ও সংগীতে শুরু হয় এ বরণানুষ্ ান। এতে বিবর্তনের শিশু অভিনয় শিল্পীরা সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’ নাটক মঞ্চস্থ করে। সকালের এ অনুষ্ ান শেষে সম্মিলিত উদ্যোগে বিচিত্র রঙে রাঙানো বর্ণিল সাজে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে। এ সময় উভয় সংগ নের পক্ষ থেকে বৈশাখী উপকরণে জয় ঢাকে মুখরিত হয়ে শহর প্রদক্ষিণের মাধ্যমে যশোরবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে নিজ নিজ সংগ ন প্রাঙ্গণে লুচি, বুঁন্দিয়া ও আলুর দমে অতিথি আপ্যায়ন ও আড্ডা। বৈকালিক অনুষ্ ানে বড়দের পরিবেশনায় আবৃত্তি, শাস্ত্রীয় ও লোকনৃত্য, পাঁচ কবির গান, লালন, দেশজ লোকজ গান, হারানো দিন ও এ প্রজন্মের গান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান শেষে বিবর্তনের পরিবেশনায় মঞ্চ নাটক ‘পেজগী’ মঞ্চস্থ হয়। সুরধুনী ও বিবর্তন যশোরের এ অনুষ্ ানে বিকেল ৬টায় জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান যশোরবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

পুনশ্চ যশোরঃ রোববার বিকেলে ঐতিহাসিক টাউন হল ময়দানের শতাব্দী বটমূলের রওশন আলী মঞ্চে চারঘন্টাব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের মাধ্যমে বঙ্গাব্দ ১৪২০ কে বিদায় জানানোর পর সোমবার জিলা স্কুল মা ে ১৪২১ কে স্বাগত জানায় নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটক ও শুভেচ্ছা পর্বসহ নানা আয়োজনে। এদিন বিকেলে সমবেত কন্ ে কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ াকুরের ‘আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাঁড়া’ গান গেয়ে পুনশ্চ শিল্পীরা বর্ষবরণের অনুষ্ ানের শুভ সূচনা করে। এরপর বৈশাখকে আহবান জানিয়ে সমবেত কন্ ে ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান শেষে একক ও বৃন্দ আবৃত্তি, একক, দৈত্ব ও সমেবত কন্ ে পাঁচগীতিকবি রবীন্দ্রনাথ াকুর, অতুল প্রসাদ, রজনীকান্ত, দ্বীজেন্দ্রলাল এবং নজরুলের রচিত গান, আধুনিক বাংলা গান, সম্মেলক গান, শিশুদের সমবেত নৃত্য পরপর পরিবেশিত হয়। শেষে হাসির রাজা গোপাল ভাঁড়ের গল্প অবলম্বনে নাটক দর্শকদের হাস্যরসে মাতিয়ে রাখে। এসব পরিবেশনায় অংশ নেন সংগ নের প্রায় সাড়ে তিনশ’ শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ ানে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান যশোরবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এদিন সকালে সংগ ন প্রাঙ্গণে শুভেচ্ছা বিনিময়সহ ‘রাখীবন্ধন’ ও অতিথি আপ্যায়ন হয়। এ সময় শুভেচ্ছা জানাতে সংগ ন প্রাঙ্গণে আসেন যবিপ্রবি’র উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুস সাত্তার, কোলকাতা কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. অলক ব্যানার্জী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৌগত মুখার্জী, যশোর পৌরসভারমেয়র মারুফুল ইসলাম মারুফ, যশোর ইন্সটিটিউটের সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম প্রমুখ।

তির্যক ঃ ‘যা বলার তা বলবই’ এ স্লোগানে উজ্জীবিত হয়ে তির্যক, যশোর বরাবরের মত এবারও তাদের মত করে বাংলার ঐতিহ্যের ধারা বজায় রাখতে নববর্ষের প্রথম দিন উদযাপন করে বর্ণিল অনুষ্ ানমালার। সন্ধ্যায় চিত্রামোড় প্রজন্ম চত্ত্বরে যশোরের ২১জন আলোকিত মানুষ ২১টি মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে এ অনুষ্ ানের উদ্বোধন করেন। নানা অনুষ্ ানের মাধ্যমে যশোরবাসীকে আনন্দের বন্যায় মাতিয়ে তোলে লোকজ সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের মাধ্যমে। যেখানে ছিল শিশুদের পরিবেশনাসহ পাঁচ কবি, লালন, হাসন রাজা, দেশাত্ববোধক গান এবং কবিতা আবৃত্তি। এছাড়া মঞ্চস্থ হয় জীবন রায়ের নির্দেশনায় নাটক প্রাণের মেলা’। এছাড়া সকালে আনন্দ শোভাযাত্রাসহ সংগ ন প্রাঙ্গনে হয় শুভেচ্ছা বিনিময়, আড্ডা ও অতিথি আপ্যায়ন।

শেকড় ঃ পহেলা বৈশাখ দুপুর আড়াইটায় পৌর উদ্যানে শেকড়ের সদস্যরা শুরু করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের। চলে রাত অব্দি। ঢাক-ঢোল খোল করতাল মন্দিরা, প্রেমজুড়ি, দোতারায় সম্মিলিত তাল লয়ে হয় বর্ষবরণ। হয় কবিতা, নৃত্য, বাউল গান, পঞ্চকবির গান, পট গান, হারানো দিনের গান। মঞ্চস্থ হয় নিরূপ মিত্রের রচনা এবং দিপক রায়ের নির্দেশনায় রম্য নাটক পাওনা গন্ডা’। এছাড়া হয় ‘রূপবান’র গীতি আলেক্ষ্য। এ অনুষ্ ানে পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম পৌর উদ্যানে উপচে পড়া দর্শকদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। সকালে সম্মিলিত মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণসহ সংগ ন চত্বরে মিষ্টি মুখের আয়োজন করা হয়।

কিংশুক ঃ যা কিছু সুন্দর ও কল্যাণকর তাই যেন আমাদের হয় এ প্রত্যাশা নিয়ে কিংশুক লালদীঘি চত্ত্বরে সকাল-সন্ধ্যা দু’পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের মাধ্যমে বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন করে। সকালের অনুষ্ ান শেষে আনন্দ শোভাযাত্রার পর সংগ ন চত্বরে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়।

নৃত্যবিতান ঃ পহেলা বৈশাখের বিকেলে টাউন হল ময়দানের রওশন আলী মঞ্চে নৃত্যানুষ্ ানের আয়োজন করে। রবীন্দ্র, নজরুল ও লোকসংগীতের সাথে সাথে এ নৃত্যানুষ্ ানে ৪০ জন শিশু নৃত্যশিল্পীসহ শতাধিক নৃত্যশিল্পী অংশ নেয়।

মাইকেল সংগীত একাডেমীঃ যশোরের অন্যতম প্রাচীন এ সংগ ন নববর্ষ ১৪২১ উদযাপনে মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান ও মিষ্টিমুখের আয়োজন করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নববর্ষকে আহবান করে রেলরোডস্থ আদ্ব-দ্বীনের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান শুরু করে তারা। অনুষ্ ানে শিশু-কিশোর-যুবসহ নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে শিল্পীরা রবীন্দ্র-নজরুল, ছড়াগান, লোকজ, আধুনিক গানসহ, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেন করেন। অনুষ্ ান শেষে সংগ ন প্রাঙ্গনে শুভেচ্ছা বিনিময়, অতিথি আপ্যায়ন ও চলে জমজমাট আড্ডা।

স্পন্দন যশোরঃ পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে সকালে বর্ণিল সাজে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণসহ সংগ ন প্রাঙ্গণে হয় শুভেচ্ছা বিনিময় ও অতিথি আপ্যায়ন। বিকেলে চার খাম্বার মোড়ে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান। শুরুতে সমবেত কণ্ ে বৈশাখ বরণের পর সমাজের নানা অসংগতি নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ হয়। এরপর পাঁচমিশালী গান। শেষে যশোরের বাউলশিল্পীরা ভাবসংগীত পরিবেশন করেন।

স্বরলিপি সংগীত একাডেমীঃ ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে সূচি হোক ধরা’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিগত একযুগ ধরে বরাবরের মত এবারও এ সংগ ন বাংলার ঐতিহ্যের ধারা বজায় রাখতে নববর্ষের প্রথম দিন উপহার দেয় বর্ণিল অনুষ্ ান মালায়। তারা বীর শ্রেষ্ নূর মোহাম্মদ ন্যাশনাল ক্যাডেট স্কুলের সাথে যৌথ ভাবে নীলগঞ্জ নড়াইল রোডে একাডেমী চত্ত্বরে সাকাল সাড়ে সাতটায় আনন্দ সমাবেশসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করে। এছাড়া চলে দিনব্যাপী অতিথি আপ্যায়ন, আড্ডা ও মিষ্ িমুখ।

প্রেসক্লাব যশোরঃ নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে সন্ধ্যার পর প্রেসক্লাব যশোরের আয়োজনে বাউল সংগীত পরিবেশিত হয়। প্রেসক্লাব যশোর প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি মিজানুর রহমান তোতা, সাধারণ সম্পাদক আহসান কবির বাবুসহ সাংবাদিকরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

অগ্নিবীণা কেন্দ্রীয় সংসদঃ নজরুল চেতনায় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ ান অগ্নিবীণা বাঙালীর সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষে ‘আসুন মেতে উ ি হৈ চৈ আর আনন্দ উল্লাসে’ এমন আহবান জানিয়ে ২রা বৈশাখ বিকেলে বর্ণাঢ্য অনুষ্ ানের আয়োজন করে। স্থানীয় আইনজীবী ভবন মোড়ে জাতীয় কবি নজরুলের রচনা সমগ্র নিয়ে আবৃত্তি-নৃত্য ও সংগীত পরিবেশিত হয়। শুরুতে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংবাদিক জাহিদ আহমেদ লিটন। আলোচনা করেন প্রতিষ্ াতা সভাপতি এইচ এম সিরাজ, উপদেষ্টা ডক্টর শাহানাজ পারভীন, সহ-সভাপতি বর্ষবরণ উদযাপন পরিষদের আহবায়ক নাঈম নাজমুল, সদস্য সচিব নজরুল ইসলাস বুলবুল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ইফতেখার আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন ও সঞ্চালনা সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোর্শেদ আলম। সংগীত পরিবেশন করেন সঞ্জয় চন্দ ভজন, মণিষা গাঙ্গুলী, পঙ্কজ কান্তি বিশ্বাস, আবৃত্তি করেন শাহরিয়ার সোহেল ও শুভঙ্কর গুপ্ত, নৃত্য পরিবেশন করেন জান্নাতুল ফেরদৌস সুজানা, তাপসী খাতুন পুতুল, আনিকা জাহান অনামিকা, শওকত আলী অংকুর প্রমুখ।

এদিকে শ্রুতি সংগীত একাডেমী বৈশাখের দ্বিতীয় দিন বিকেলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের আয়োজন করে। এতে সংগ নের শিল্পীবৃন্দ রবীন্দ্র, নজরুল, জনপ্রিয় আধুনিক গান, লোকজ গান, ছড়াগান, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

এদিকে গানে গানে বর্ষবরণ করেছে বিসিএমসি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়। ছাত্র-শিক্ষক সম্মিলিতভাবে গান গেয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ ানকে করে তোলে প্রাণবন্ত। এ অনুষ্ ানের মধ্যমনি ছিলেন বিসিএমসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল কবির। সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী এসএম রেজাউল কবীর। অনুষ্ ানে আরো ছিল ‘বিসিএমসির সম্ভাবনা এবং ১লা বৈশাখে আমাদের প্রত্যয়’ শীর্ষক আলোচনা। এতে অংশনেন বিসিএমসির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রকাশিত হয় লিটল ম্যাগাজিন ‘জয়ন্তী’। দুপুরে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রীতিভোজ অনুষ্ িত হয়। এছাড়াও সন্ধ্যায় মিষ্টি বিতরণ হয়।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj