আপডেট: এপ্রিল ৫, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৩৪৯ বার

বাংলা বর্ষবরণ: যশোরের স্বরলিপি-আশাবরী-সপ্তসুরের বর্ণিল অনুষ্ ানমালা

প্রণব দাস : বাংলার আকাশ বাতাসে ধ্বণিত হচ্ছে নববর্ষের আগমনী সুর। পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে জরা-জীর্ণ ছিন্ন করে নতুনের আবাহনে মেতেছে বাঙালী। মেতেছে বাঙালীর সার্বজনীন প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণে। বাংলার শহর, বন্দর গ্রাম-গঞ্জে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সার্বজনীন এ প্রাণের উৎসব উদযাপনে সাজ সাজ রব। ১৪২০ কে বিদায় আর ১৪২১ কে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত যশোরবাসী। সেই সাথে প্রস্তÍতির শেষ আঁচড় চলছে জেলার সাংস্কৃতিক সংগ নে নানা আয়োজন।

বর্ষবরণে যশোরের ঐতিহ্য বজায় রাখতে বর্ণিল অনুষ্ ানমালা সাজাতে বসে নেই স্বরলিপি সংগীত একাডেমী, আশাবরী সংগীত নিকেতন ও সপ্তসুর সংগীত ও চিত্রকর্ম শিক্ষালয়।

‘মুছে যাক গ্লানি ঘুঁচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে সূচি হোক ধরা’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিগত একযুগ ধরে বরাবরের মত এবারও তাদের মত করে বাংলার ঐতিহ্যের ধারা বজায় রাখতে নববর্ষের প্রথম দিন সাজিয়েছে বর্ণিল অনুষ্ ান মালায়। নববর্ষকে বরণ করতে এ সংগ ন বীরশ্রেষ্ নূর মোহাম্মদ ন্যাশনাল ক্যাডেট স্কুলের সাথে যৌথ ভাবে নীলগঞ্জ নড়াইল রোডে একাডেমী চত্ত্বরে আনন্দ সমাবেশসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের আয়োজন করেছে।

অনুষ্ ান সূচিতে রয়েছে সকাল সাড়ে ৭টায় যশোরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ। শোভাযাত্রা শেষে সংগ ন প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান, অতিথি আপ্যায়ন, আড্ডা ও মিষ্টিমুখ। সাংস্কৃতিক আয়োজনে থাকছে দেশজ সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি। অনুষ্ ানে থাকছে শিশুদের পরিবেশনাসহ রবীন্দ্র-নজরুল, লালন, হাসন রাজা, দেশাত্ববোধক গান এবং কবিতা আবৃত্তি। বর্ষবরণের সমস্ত আয়োজন আকর্ষণীয় হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

একাডেমীর অধ্যক্ষ নিবাস মন্ডল জানান, ১৪২১ কে বরণ করতে গানে গানে, কবিতার ছন্দে, নৃত্যের ঝঙ্কারে সকলকে নিয়ে আনন্দের বন্যায় ভাসতে চাই। তিনি স্বরলিপি সংগীত একাডেমী ও বীরশ্রেষ্ নূর মোহাম্মদ ন্যাশনাল ক্যাডেট স্কুলের পক্ষ থেকে যশোরবাসীকে আগাম নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

আশাবরী সংগীত নিকেতনের ডক্টর সবুজ শামীম আহসান জানান, জেলা প্রশাসনের সাথে সম্মিলিতভাবে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে নববর্ষ উদযাপন শুরু করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ ান হবে ৩রা বৈশাখ বুধবার। ল’কলেজের দ্বিতীয় তলায় সংগ নের কার্যালয়ে এ অনুষ্ ানে চিরায়ত বাঙালী ঐতিহ্যকে ধারণ করে নানা আয়োজনে থাকবে রবীন্দ্র-নজরুলসহ পাঁচ কবির গান। এছাড়া দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে লোকজ গান পরিবেশিত হবে। আরো পরিবেশিত হবে আবৃত্তি। এছাড়া নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে হবে আলোচনা সভা। তিনি জানান যশোরের ঐতিহ্য অনুযায়ী নববর্ষে সকলকে আনন্দের বণ্যায় ভাসাতে সাধ্যমত চেষ্টা করা হচ্ছে। এর জন্য সংগ নে চলছে নিয়মিত মহড়া। শিক্ষার্থী ও সদস্যরা তাদের দক্ষতা প্রদর্শনে বদ্ধ পরিকর। নববর্ষে সকলকে আগাম শুভকামনাসহ অনুষ্ ান উপভোগ করার জন্য সকলকে বিনম্র আহবান জানান।

এদিকে, নববর্ষের নানা বর্ণিল আয়োজনে অন্যান্য সংগ নের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সপ্তসুর সংগীত ও চিত্রকর্ম শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থীরা। ‘সবারে করি আহবান, এসো উৎসুক চিত্ত এসো আনন্দিত প্রাণ’ এ আহবান জানিয়ে পহেলা বৈশাখের আমন্ত্রণ পত্রে বৈচিত্র এনেছে এ সংগ ন। লুপ্ত প্রায় মৃৎ শিল্পকে সকলের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ পত্রে থাকছে ‘মাটির কলম দানি’। এ আমন্ত্রণ পত্র দিয়েই নববর্ষে সকলকে আমন্ত্রণ ও শুভেচ্ছা জানাবেন সপ্তসুরের নেতৃবৃন্দ।

এ সংগ নের আয়োজনের মধ্যে থাকছে তাদের সৃজনশীল সংস্কৃতিকর্মের ছোঁয়া। দিনব্যাপী চলবে নানা অনুষ্ ানমালা। পহেলা বৈশাখের সকাল সাতটায় সিটি কলেজ পাড়া সংগ ন কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ ানের মাধ্যমে শুরু হবে সপ্তসুরের বর্ষবরণ উৎসব উদযাপন। এসময় সংগ নের শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র-নজরুল ও লোকজ গান পরিবেশন করবেন। অনুষ্ ান শেষে সকাল আটটায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন সংগ নের শিক্ষার্থীরা। স্বকীয় পোষাক পরিহিত সদস্যরা ঢাক-ঢোলের সুর মূর্ছনায় বর্ণিল সাজে আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে যশোরবাসীকে শুভেচ্ছা জানাবে। এরপর সংগ ন চত্বরে অতিথি আপ্যায়ন ও মিষ্টিমুখ। ৪ া বৈশাখ শুক্রবার সিটি কলেজ প্রাঙ্গণে বিকেল সাড়ে চারটায় হবে বৈশাখী উৎসব। এ উৎসবে সংগ নের শিক্ষার্থীরা নাচ-গান-আবৃতিতে মাতিয়ে দেবে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের।

সংগ নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে মামা রফিক জানান, সীমিত সাধ্যের মধ্যে এ উৎসব সকলের আনন্দ দেবে। সপ্তসুর যশোরের পক্ষ থেকে তিনি সকলকে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj