আপডেট: জানুয়ারী ১৭, ২০১৬   ||   ||   মোট পঠিত ২১৮ বার

যশোরে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা সমাপ্ত

তরুণ উদ্ভাবকদের ব্যপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যশোরে তিন দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা সমাপ্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এবং যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট চত্বরে শনিবার বিকেলে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে এ মেলা সমাপ্ত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান (এনআই খান) বলেছেন আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তি এক কার্যকর কর্মসূচি। যা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। ডিজিটাল প্রযুক্তি কাজে লাগাতে এডভান্স স্বপ্ন দেখতে হবে, তবেই এর সফলতা দ্রুত পাওয়া যাবে। ডিজিটাল জয়যাত্রা যশোর থেকেই শুরু হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এনআই খান আরো বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণ করতে শুধুমাত্র মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।

মেলা প্রাঙ্গণে এ সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মজিদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও জেলা মিডিয়া রিসার্স সেলের আহবায়ক পারভেজ হাসান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক আহসান হাবীব পারভেজ।

মেলায় আটটি ক্যাটাগরিতে ১৪টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। শ্রেষ্ট ডিজিটাল সেন্টার হিসেবে পুরস্কার অর্জন করে যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, চৌগাছা উপজেলার ফুলসারা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যথাক্রমে যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যশোর কালেক্টরেট স্কুল, যশোর জিলা স্কুল, শ্রেষ্ঠ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পারভেজ হাসান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সকিনা খাতুন, শ্রেষ্ঠ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাটাগরিতে ঝিকরগাছা উপজেলার আব্দুল জলিল, শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবক যথাক্রমে যশোর টিটিসি’র সিনিয়র ইন্সট্রাকটর নেওয়াজ শরীফ, যশোর শার্শা উপজেলার মিজানুর রহমান, যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী শেখ নাইম হোসেন মুন, শ্রেষ্ঠ স্টল ক্যাটাগরিতে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, শ্রেষ্ঠ ই সেবা প্রদানকারী দপ্তর সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও শ্রেষ্ঠ পোর্টাল দপ্তর রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ)।

আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে অতিথিবৃন্দ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এবং যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট চত্বরে ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে মেলা শুরু হয়। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

এ মেলায় বিষয় ভিত্তিক প্যাভিলিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্ভাবনী কার্যাক্রম প্রদর্শিত হয়েছে। ১ নম্বর প্যাভিলিয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ই-সেবা সমূহ, ২ নম্বর প্যাভিলিয়নে শিক্ষা, ৩ নম্বর প্যাভিলিয়নে ই-কর্মাস ও ৪ নম্বর প্যাভিলিয়নে তরুণ উদ্ভাবকদের মোট ৫২টি স্টলে প্রদর্শনী হয়।

এদিকে, মেলা উপলক্ষে বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের এক নম্বর সভাকক্ষে ‘নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন : আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও জেলা মিডিয়া রিসার্স সেলের আহবায়ক পারভেজ হাসান। অনুষ্ঠানে ঝিকরগাছা উপজেলার ইউএনও আব্দুল জলিল ও সদর উপজেলা এসিল্যান্ড আসিফুর রহমান ইনোভেশন প্রজেক্ট উপস্থাপন করেন।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj