আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৩৭০ বার

দেশে এলো ক্যাবল ছাড়া টিভি দেখার ডিটিএইচ প্রযুক্তি

মিজানুর রহমান সোহেল: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এলো ক্যাবল ছাড়া টিভি দেখার ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে দেশ বিদেশের সব টেলিভিশন দেখা যাবে। ফলে ডিস লাইনের একচেটিয়া দৌরাত্ত্বের অবসান হতে চলছে। সরকার গত বছর ক্যাবল অপারেটরদের ব্যাপক বাধা সত্ত্বেও দেশের দুটি বড় কোম্পানীকে ডিটিএইচ সেবার অনুমতি দিয়েছিল। দৈনিক জনকণ্ঠ সূত্রে এ খবর জানা গেছে।


পত্রিকাটি বলছে, রাশিয়া ও ভারতের এই প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে দেশের কয়েকটি কোম্পানি। রাশিয়া থেকে ডিরেক্ট টু হোম (ডিটিএইচ) প্রযুক্তি গ্রাহকযন্ত্র (ডিশ) এনেছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি। সম্প্রতি বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স লিমিটেডের সঙ্গে রাশিয়ার জিএস কোম্পানির এমন একটি চুক্তি সই হয়েছে। এর বাইরে বিচ্ছিন্নভাবে ভারতের টাটা স্কাই কোম্পানির গ্রাহকযন্ত্র (ডিশ) এনেছে কয়েকজন ব্যবসায়ী। তবে টাটা স্কাই কোম্পানির ডিশ থেকে দেশীয় চ্যানেল দেখা যায় না। অন্যসব দেশের চ্যানেল দেখা যায়। দেশীয় চ্যানেল দেখতে হলে আলাদা একটি যন্ত্র স্থাপন করতে হয়।


এদিকে বিডি নিউজ বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স সূত্রে জানিয়েছে, এ বছর শেষের দিকে তারা এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিকভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করবে। প্রতি বছর ৪ লাখ নতুন গ্রাহকের কাছে সেবা পৌঁছানোর প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কোম্পানিটি। প্রথম বছরেই ৩ লাখ গ্রাহক সুবিধা দেবে তাঁরা। পরের বছর থেকে ৪ লাখ নতুন গ্রাহক গ্রাহকযন্ত্র তারা বিক্রি করতে পারবে। তাঁদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব রয়েছে রাশিয়ার জিএস গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ডিটিএইচ সুবিধা পেতে গ্রাহককে সম্প্রচার কোম্পানি একটি ডিশ ও রিসিভার সেট প্রদান করবে। এই ডিশের মাধ্যমে সিগন্যাল গ্রহণ করে রিসিভিং সেটের সাহায্যে বিভিন্ন চ্যানেল টেলিভিশন সেটে দেখা যাবে।


জানা গেছে, গ্রাহক পছন্দ করা চ্যানেলগুলো বাছাই করতে পারবেন। ক্যাবল সংযোগের মাধ্যমে পাওয়া ছবির চেয়ে এই ডিশ সংযোগের ছবির মান হবে উন্নত। কেবলের মাধ্যমে টিভি দেখার সময় মাঝে মধ্যে সিগন্যাল চলে যায়। কিন্তু ডিটিএইচ প্রযুক্তিতে সিগন্যাল কখনও চলে যাবে না। তাছাড়া এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রাহকরা বর্তমানের চেয়ে অনেক কম খরচে স্যাটেলাইট টেলিভিশন দেখতে পারবেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে গ্রাহকদের যন্ত্রটি কিনতে খরচ হবে এরপর প্রতিমাসে সামান্য খরচে বিশ্বের সব দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেল দেখতে পারবেন। তবে যেসব চ্যানেল টাকা দিয়ে কিনে দেখতে হয় সেগুলোর জন্য যথারীতি টাকা দিতে হবে।


দৈনিক মানবজমিন জানিয়েছে, ডিটিএইচ প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভি দর্শক তার বাড়িতে একটি রিসিভার ইন্সটলের মাধ্যমে সরাসরি সিগন্যাল গ্রহণ করতে পারবেন। ব্রডকাস্টিং কোম্পানিগুলোকে আলাদা তারের মাধ্যমে প্রতিটি টিভি সেটে সংযোগ দেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এ বিষয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ. রহমান বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোন বৈধ ডিটিএইচ অপারেটর নেই। টিভি দর্শকদের কয়েকটি ক্যাবল অপারেটর ও টিরেস্ট্রিয়াল টেলিভিশন চ্যানেলের ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশী দর্শকদের কোন স্থানীয় টিভি অনুষ্ঠান উপহার না দিয়ে ভারতীয় ডিটিএইচ অপারেটররা অবৈধভাবে ডিটিএইচ সিগন্যাল ব্রডকাস্ট করছে। তিনি আরও বলেন, মানসম্মত বৈধ টিভি সার্ভিস নিয়ে যদিও তেমন কোন আলোচনা নেই। কিন্তু ১৬ কোটির বেশি মানুষের দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক পাবে বলে প্রত্যাশা করছে বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লিমিটেড।


একনজরে নতুন এ পদ্ধতি:

ডিটিএইচ সেবার মাধ্যমে একটি স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার করে সরাসরি গ্রাহকের আঙ্গিনায় টিভি সিগন্যাল পৌঁছে দিয়ে মাল্টি-চ্যানেল টিভি প্রোগ্রাম দেখার সুযোগ করে দেয়া হবে। ডিটিএইচ সংযোগ দিতে ব্রডকাস্টিং কোম্পানি গ্রাহককে একটি ডিশ ও রিসিভার সেট প্রদান করবে যা, ডিশের মাধ্যমে সিগন্যাল গ্রহণ করে রিসিভিং সেটের সাহায্যে দর্শকরা টিভিতে বিভিন্ন চ্যানেল দেখতে পারবেন। ওই সেটের মাধ্যমেই শুধু গ্রাহকেরা কাঙিক্ষত চ্যানেলগুলো দেখার সুযোগ পাবেন। ডিটিএইচ’র অনেকগুলো সুবিধার একটি হচ্ছে গ্রাহকরা নিজেরাই পছন্দনীয় চ্যানেলগুলো বাছাই করতে পারবেন। কেবল অপারেটরের পছন্দে চ্যানেল দেখতে হবে না। কেবল সংযোগের মাধ্যমে এখন গ্রাহকেরা যে মানের ছবি দেখে থাকেন তার চেয়ে এর মান হবে অনেক উন্নত। বর্তমানে আমরা যে কেবলের মাধ্যমে টিভি দেখি তাতে সিগন্যাল ব্রেক হয়। অপরদিকে ডিটিএইচ প্রযুক্তিতে সিগন্যাল ব্রেক হয় না বলে উন্নতমানের সেবা পাওয়া যায়। গ্রাহক শুধু তার পছন্দমতো চ্যানেলগুলো ক্রয় করে মাসিক খরচের পরিমাণও কমিয়ে আনতে পারেন।


বেক্সিমকো গ্রুপ:

বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান প্রায় ৭৫ শতাংশ আর দেশের শিল্প জগতে বৃহত্তম বেসরকারি গ্রুপ হলো বেক্সিমকো। টেক্সটাইল, ট্রেডিং, সামুদ্রিক খাদ্য, আবাসন, হসপিটালিটি, ইমারত নির্মাণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, সিরামিকস, বিমান, ওষুধ শিল্প, অর্থনৈতিক সেবা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেক্সিকোর বিনিয়োগ ও কার্যক্রম রয়েছে। বেসরকারি খাতে বেক্সিমকো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চাকরির ক্ষেত্র এবং বিশ্বজুড়ে তাদের ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন।


জিএস গ্রুপ:

একটি বিনিয়োগ ও শিল্প প্রতিষ্ঠান, টেলিযোগাযোগ ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে তাদের বিশেষত্ব রয়েছে। মূল কার্যক্রমসমূহ: আন্তর্জাতিক ব্রডকাস্টিং প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, আর অ্যান্ড ডি ও নেনোটেকনোলজি হিসেবে এসব ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন, মাইক্রোইলেকট্রনিকস; টেকনোপলিস জিএস ইনোভেশন সেন্টারের নির্মাণ ও উন্নয়ন; কাঠ প্রক্রিয়াজাতকরণ; যৌথ প্রকল্পে বিনিয়োগ; মিডিয়া কন্টেন্ট তৈরি ও ব্যবস্থাপনা, সফটওয়্যার পণ্যের নকশা ও সমন্বয়, বিজ্ঞাপন, লজিস্টিক ও ট্রেড।


সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, বিডি নিউজ, দৈনিক মানবজমিন।

তথ্যসূত্রঃ priyo