আপডেট: ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ৭৩৫ বার

চৌগাছায় সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ কার্যক্রমের উদ্বোধন : কৃষি ক্ষেত্রে নবদিগন্তের সূচনা কৃষিকাজে সাশ্রয়ী মূল্যে সেচ দিতে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে যশোরের চৌগাছায়। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপের আওতায় সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (ইডকল) এর অর্থায়নে তিনটি গ্রামের মা ে ৭টি পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে স্থাপিত এসব পাম্পের আনুষ্ ানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগকে চাষিদের জন্য নবদিগন্তের সূচনা বলে মনে করছেন এ অঞ্চলের মানুষ।
ফসলি জমিতে সেচ ছাড়া চাষাবাদ করা এখন ভাবাই যায় না। তাই এখন মা ে মা ে অসংখ্য গভীর ও অগভীর নলকূপের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। কিন্তু এতে ফসল উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার জ্বালানি তেল সংকটের কারণে সময়মত সেচ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ-এর আওতায় সরকার মালিকানাধীন কোম্পানি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (ইডকল) এর অর্থায়নে খুলনা বিভাগে প্রথম আর্স বাংলাদেশ ৫ লাখ লিটারের উর্দ্ধে পানি উত্তোলন ক্ষমতা সম্পন্ন সৌর বিদ্যুত চালিত ৭টি পাম্প চৌগাছা উপজেলাতে স্থাপন করেছে। পাম্প স্থাপনের কাজে সহযোগিতা করেছে রহিম আফরোজ রিনিউএবল এনার্জী লিমিটেড ও ইলেকট্রো সোলার পাওয়ার লিমিটেড।
আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামসুল আলম জানান, সৌর বিদুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ কিন্তু ব্যয়বহুল। সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ব্যয়বহুল হলেও দীর্ঘ মেয়াদী ব্যবহারে অত্যন্ত সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য শক্তি। এর ব্যবহারে বায়ু ও শব্দ দূষন হয় না এবং এটি পরিবেশ বান্ধব।
তিনি বলেন, ১১ দশমিক ৮৪ কিলোওয়াট শক্তি সম্পন্ন একটি সোলার প্যানেল ও সাবমারসিবল এসি পাম্প স্থাপনে মোট খরচ হচ্ছে ২৯ থেকে ৩০ লাখ টাকা। প্রতিটি সেচ পাম্প থেকে সূর্য ও া থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত ৭ থেকে ৯ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব। যা দিয়ে বোরো মৌসুমে ৮০ থেকে ৯০ বিঘা এবং আমন মৌসুমে ৯০ থেকে ১২০ বিঘা পর্যন্ত জমিতে নিরবিচ্ছিন্ন সেচ দেওয়া সম্ভব।
এছাড়া স্থাপিত পাম্প গুলো অটো ও ম্যানুয়াল দু’ভাবে পরিচালিত করা সম্ভব। এমনকি দুরবর্তীস্থানে বসেই মোবাইলের মাধ্যে চালু, বন্ধ ও পাম্প সম্পর্কে সার্বিক তথ্য জানা সম্ভব।
তিনি বলেন, সেচ উপযোগী ও স িক সময়ে পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও সেচ খরচ সহনীয় মাত্রায় রেখে কৃষকদের অধিক ফসল ফলানো এবং লাভবান করার লক্ষ্যে পাম্পগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের অধিক সুবিধা প্রদানে তাদের মতামতের ভিত্তিতে সেচ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শামছুল আলম আরো জানান, উপজেলার সাঞ্চডাঙ্গা গ্রামের মা ে ৪ টি, স্বরূপদাহ গ্রামের মা ে একটি ও আড়কান্দি মা ে ২ টি পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি পাম্পের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট পানি ব্যবস্থাপনা ও সেচমূল্য আদায় তদারকী কমিটি গ ন করা হয়েছে। ৫ জনের মধ্যে সংস্থার প্রকৌশলী, একজন কর্মকর্তা, পাম্প অপারেটর ও ৩ জন স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক ইসমাইল হোসেন, কুরমান আলী ও সালাউদ্দিন জানান, আগে বছরে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন সূর্যওয়ালা পানি দিতে খরচ হবে ৪ হাজার টাকা। বছরের আমন, ইরি, বোরো ও রবি শস্য চাষে পানি সেচ দেবে বলে চুক্তি হয়েছে। এতে করে তাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা হলেও কমবে বলে জানান তারা।
প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান জানান, নবায়নযোগ্য বিদ্যুত ব্যবহারে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর চাপ কমবে। এছাড়া যে পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ সেচ প্রকল্প করা হয়েছে তাতে পানির অপচয় রোধ হবে। এছাড়া কৃষকরা ৪০ শতাংশ সাশ্রয়ী মূল্যে সেচের পানি পাবেন। একইসাথে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌর বিদ্যুৎ সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হলো। ডিজেলের ব্যবহার রোধ ও পানির অপচয় রোধ কল্পে এই সৌর শক্তি ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু কাজটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। একইসাথে ব্যয় বহুল। আর্স বাংলাদেশ এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি হাতে নিয়ে একটি মডেল স্থাপন করেছে।
তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পটি কৃষকদের কাজে আসলে জেলার সব মা েই এ সেচ ব্যবস্থা চালু করতে উদ্যোগী হবেন।
মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের মা ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ ানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুষমা সুলতানা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান, স্বরুপদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর, উপকার ভোগী কৃষক আবু সামা, রফিকুল ইসলাম মাস্টার, ইলেকট্রো সোলার পাওয়ার লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার প্রকৌশলী মুশফিকুর রহমান, রহিম আফরোজ কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আরিফ হোসেন প্রমুখ।
এছাড়া যশোরস্থ আইএফআইসি ব্যাংকের ম্যানেজার ফজলুর রহমান, এবি ব্যাংকের ম্যানেজার মাহমুদুল কুদ্দুস, এনসিসি ব্যাংকের ম্যানেজার ফজলে মাহমুদ, প্রফেসর আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শতাধিক কৃষক উদ্বোধনী অনুষ্ ানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ ানে সভাপতিত্ব করেন আর্স বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক শামছুল আলম।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj