আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৬   ||   ||   মোট পঠিত ১১৪ বার

যশোরের ৩ সরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তিযুদ্ধ ।। আসনের বিপরীতে প্রায় তিনগুণ আবেদন

রুহুল আমিন : যশোরের তিনটি সরকারি কলেজে অনার্সে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা যশোরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের শেষ ভরসা এমএম কলেজ, সিটি কলেজ ও মহিলা কলেজে ভর্তি হতে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এ তিন সরকারি কলেজে মোট আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় তিনগুণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য আবেদন জমাদানের সময়সীমা অতিক্রমের পর এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে কোন শিক্ষার্থী তার পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে না পারলে ছাড়পত্র গ্রহণ করে অন্যত্র ভর্তি হতে পারবেন। এদিকে, দিনদিন বাড়তে থাকা ভর্তিচ্ছুদের জন্য আসন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ভর্তিতে এ বছরও কোন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। যশোরে সরকারি তিন কলেজে ৫ হাজার ৭শ’ ৪০টি আসনের বিপরীতে ১৩ হাজার ২শ’ ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ফরম জমা দিয়েছেন। কলেজগুলো হচ্ছে যশোর সরকারি এম এম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি সিটি কলেজ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে ভর্তি ফরম পূরণ শুরু হয়। ভর্তি ফরম পূরণের শেষ তারিখ ছিল ২০ অক্টোবর। আর জমাদানের শেষ তারিখ ছিল ২৩ অক্টোবর। সূত্রমতে জানা গেছে, সরকারি এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ৩ হাজার ৩শ’ ৫৫ আসনের বিপরীতে ভর্তি ফরম জমা পড়েছে ৮ হাজার ১শ’ ৪৩টি। এর মধ্যে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে জমা পড়েছে ৪ হাজার ১শ’ ২৬টি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে জমা পড়েছে ১ হাজার ৯শ’ ৪৯টি ও বিজ্ঞান অনুষদে জমা পড়েছে ২ হাজার ৬৮ টি। আর মোট আসনের মধ্যে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ১ হাজার ৯শ’ ৩৫টি আসন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে রয়েছে ৭শ’ ২০ আসন ও বিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ৭শ’ আসন। সরকারি সিটি কলেজে ১ হাজার ৩শ’ ৫৫টি আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ৯শ’ ১১টি ভর্তি ফরম জমা পড়েছে। এর মধ্যে কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৪শ’ ৫৫টি, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে জমা পড়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৭৫টি ও বিজ্ঞান অনুষদে জমা পড়েছে ৮১ টি। আর কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ৯শ’ ৮০টি আসন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে রয়েছে ৩শ’ ২৫টি আসন ও বিজ্ঞান অনুষদে রয়েছে ৮১টি আসন। সরকারি মহিলা কলেজে ১ হাজার ৩০ আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৬৪১টি ভর্তি ফরম জমা পড়েছে। কলেজটিতে শুধুমাত্র কলা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ছাড়া অন্য কোন অনুষদে অনার্স চালু নেই। কলেজটির অধ্যক্ষ প্রফেসর সেলিনা ইয়াসমিন বলেন, পরপর এই দু’বছর ফলাফলের ভিত্তিতে অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। ফলাফল হল একজন শিক্ষার্থীর মূল চাবিকাঠি। সেশনজট কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্রাস প্রোগ্রামের আওতায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে এই দু’বছরে সেশনজট নেই বললেই চলে। তবে পরীক্ষা হচ্ছে না বলে এম এম কলেজে শিক্ষার্থীদের চাপ বেশি। ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেলে শিক্ষার্থীরা অন্য কলেজে রিলিজ স্লিপ নিতে পারবে। আমাদের কলেজে তুলনামূলক ভর্তি ফরম কম বিক্রি হয়েছে। এমএম কলেজের ভর্তি কমিটির সদস্য ভূগোলের শিক্ষক নিতীশ চন্দ্র কর্মকার বলেন, এ বছর গত বছরের তুলনায় ৫০০ শিক্ষার্থী বেশি ভর্তি ফরম পূরণ করেছে। তবে যারা এমএম কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেনা, আসন খালি থাকলে তারা অন্য কলেজে ভর্তি হতে পারবে। আর এখন অনেক কলেজেই অনার্স চালু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য বেশি প্রতিযোগিতা করে। প্রতিযোগিতায় না থাকতে পারলে পরেতো অন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে সরকারি এসব কলেজে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে অনেকে জানান, বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে হলে তাদের পড়ালেখা বন্ধও হয়ে যেতে পারে। কারণ সেখানে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয় তা বহন করার সামর্থ্য তাদের পরিবারের নেই। পাশাপাশি আরো অনেক জটিলতার কথা তুলে ধরে তারা আসন বৃদ্ধির দাবি জানান।

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha