আপডেট: অক্টোবর ২৪, ২০১৪   ||   ||   মোট পঠিত ২৫৮ বার

সারাদেশে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা কাল : যশোরে পরীক্ষার্থী ১৬৯৯

ফয়সল ইসলাম : আগামীকাল যশোর মেডিকেল কলেজসহ দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সুষ্টুভাবে পরীক্ষা গ্রহণের জন্যে কর্তৃপক্ষ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্নসহ আসন বিন্যাস প্রকাশ করেছে। যশোর মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবছর ১৬৯৯ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে বলে নিশ্চিত করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ডাক্তার এএইচএম মাহাবুব-উল-মওলা চৌধুরী।

সূত্র জানিয়েছে, যশোরসহ দেশের ২৯টি সরকারি মেডিকেল কলেজে ৩ হাজার ১৬২, ৫৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার ৩২৫, ৯টি ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে ৫৩২ ও বেসরকারি ২৩ ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে ১হাজার ২৮০টি আসনের বিপরীতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্যে ৬৯ হাজার ৪৭৭ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এক্ষেত্রে মোট ১০ হাজার ২২৭টি আসনের বিপরীতে সব আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ নিলে একটি আসনের জন্যে ৬৭ জন লড়াই করছে বলে প্রতীয়মান হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার এএইচএম মাহাবুব-উল-মওলা চৌধুরী জানান, যশোর মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা মাত্র ৫৫টি। যমেক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ১৬৯৯ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার জন্যে যশোর সরকারি এম এম কলেজকে কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে পরীক্ষার্থীদের আসন বিন্যাস প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট িি.িফমযং.মড়া.নফ ঠিকানায় আসন বিন্যাসের তালিকা যে কেউ দেখে নিতে পারবে। এছাড়াও পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে আসন বিন্যাসের তালিকা টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে। এ বছর ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় পাস নম্বর ২০ থেকে বাড়িয়ে ৪০ করা হয়েছে।

এদিকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার উপলক্ষে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বেশ কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করেছে। ভর্তি পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব মেডিকেল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশনা সোমবার রাত থেকেই কার্যকর হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিযোগ রয়েছে কুচক্রীমহল, প্রতারক ও দুর্নীতিবাজচক্র কোচিং সেন্টারের নামে বা ব্যক্তিগতভাবে অনলাইন ব্যবস্থাপনাকে পুঁজি করে মেডিকেল/ডেন্টাল কলেজে ভর্তির বিষয়ে শতভাগ কমন সাজেশন অথবা কোনভাবে ভর্তি করিয়ে দেবে বলে ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

পরীক্ষার আগের রাতে যে কোন ধরনের গুজব প্রতিহত করতে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আরো একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ক্যালকুলেটর, ব্লুটুথসহ সকল ধরণের ইলেট্রনিক্স ডিভাইস নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের আগে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে কোন ভর্তি পরীক্ষা ছিল না। ভর্তি পরীক্ষা নেয়া শুরু হয় ১৯৮০’র দশকে।

বর্তমান পদ্ধতি অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসির ফল মিলিয়ে অন্তত জিপিএ ৮ থাকলে মেডিকেলে ভর্তির আবেদন করা যায়। এরপর পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীই ভর্তির সুযোগ পান।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj