আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬   ||   ||   মোট পঠিত ৩০৪০ বার

আসছে নতুন মেগা প্রকল্প:  পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু

চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি আরও নতুন মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। পদ্মাপাড়ে অত্যাধুনিক বিমানবন্দর নির্মাণ, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, দুটি এলএনজি টার্মিনাল, ঢাকা মেট্রো সার্কুলার রোড ও এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেন করাসহ প্রায় এক ডজন নতুন মেগা প্রকল্প রয়েছে এই তালিকায়। পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে কয়েকটি প্রকল্প দ্রুত একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। এ ছাড়া আইটি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে জেলায় জেলায় আইটি পার্ক করা হচ্ছে। পরিবহন সেক্টরের জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২০ বছর মেয়াদি একটি পরিবহন পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), আউটার রিং রোড, ছয়টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি টার্মিনাল ও ঢাকার চারপাশে সার্কুলার ওয়াটারওয়ে করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর ২৫০টি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দেয়। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৫৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুমোদন দেওয়া হয় ২৮০টি প্রকল্প। এদিকে সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়ন, কৃষি থেকে শিল্প অর্থনীতিতে উত্তরণ, নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তর এবং অর্থনীতিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এজন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কাজও শুরু হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে (২০১৬-২০) এই পরিকল্পনার অধীনে কর্মসংস্থানের টার্গেট রাখা হয়েছে ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষের। একইভাবে ২০১৬-তে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ। ২০১৭ অর্থবছরে ৭.২ শতাংশ, ২০১৮ অর্থবছরে ৭.৪ শতাংশ, ২০১৯ অর্থবছরে ৭.৬ শতাংশ এবং পরিকল্পনার শেষ বছর ২০২০ অর্থবছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের টার্গেট রয়েছে। নতুন মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। একান্ত সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেছেন, ‘মেগা প্রকল্পের মধ্যে আমাদের হাতে রয়েছে সাসেক সড়ক প্রকল্প-২। এই প্রকল্পে এলেঙ্গা থেকে শুরু করে হাটিকুমরুল-রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেন করা হবে। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় হবে সাড়ে ১১ হাজার কোটি থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। এটাই সড়কের জন্য সর্ববৃহত্ প্রকল্প।’ ইতিমধ্যে সাসেক-১ নম্বর প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘১৯০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য হবে এই চার লেন সড়কের। আমরা আশা করছি দ্রুত একনেকে এই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য দিতে পারব। হাতে যে প্রকল্পগুলো আছে তা শেষ হওয়ার পর আরেকটি প্রকল্প আসছে। সেটি হলো— আমাদের ঢাকা মেট্রো সার্কুলার লেন, মিড সার্কুলার লেন, ইনার সার্কুলার লেন— এই তিনটি সার্কুলার লেন করা হবে এবং কিছু অংশ আন্ডারগ্রাউন্ড থাকবে। এর জন্য একটি রূপরেখা দাঁড় হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদনও হয়েছে এর। এটা আমাদের বড় প্রকল্প। এজন্য বরাদ্দ থাকবে অনেক।’ তিনি বলেন, ‘লন্ডনে যে আন্ডারগ্রাউন্ড তা প্রথমে শুরু হয়েছিল সার্কেল রোড দিয়ে। তৃতীয় প্রকল্প হলো পদ্মা সেতু হয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় পদ্মা সেতু আমাদের পরিকল্পনায় আছে ভবিষ্যত্ প্রকল্প হিসেবে। এ ছাড়া চতুর্থ প্রকল্প হচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটা হবে অত্যাধুনিক। পৃথিবীর সর্বশেষ টেকনোলজি ব্যবহার করা হবে। এটা পদ্মার পাড়ে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা কয়েকটি জায়গা নিয়ে স্টাডি করছি, মাটি পরীক্ষা হচ্ছে।’ এ ছাড়া মন্ত্রী বলেন, ‘এলএনজি (লিকুইফায়েড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনাল আরও দুটি হবে। আমরা কয়েকটি দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা ও জার্মানি চারটি দেশ জড়িত আছে এলএনজি টার্মিনালে। একটি টার্মিনালের কাজ চলছে।’ আইটি সেক্টরের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় আমরা আইটি পার্ক করছি। সামনে আমাদের সক্ষমতার জায়গাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সক্ষমতার জায়গা হবে আইসিটি খাত। একদিকে এটি আমাদের শিক্ষিত করে তুলবে, অন্যদিকে মানবসম্পদ তৈরি করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। নিজেরা আয় করার সুযোগ তৈরি হবে। ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করবে। আউটসোর্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দেশ ও বিদেশের জন্য এটা উপযুক্ত।’ মন্ত্রী বলেন, ‘আইসিটির মার্কেট দেশেও অনেক বড়। আমরা চেষ্টা করছি পেপারলেস প্রশাসন করার। আবার জায়গাজমির কাগজপত্র ডিজিটাল হচ্ছে। তখন এসব ক্ষেত্রে আইটির গুরুত্বও অনেক বেড়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর প্রায় ২১ লাখ মানুষ মানুষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। প্রতি বছর আমরা ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন মানুষকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করব এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করব। চলতি বছর কমপক্ষে ৬-৭ লাখ মানুষ বিদেশ যাবে। আমার ধারণা, ১৫-১৬ মিলিয়ন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’


দ্বিতীয় পদ্মা সেতু : পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পয়েন্টে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকার নীতিগতভাবে এ প্রস্তাবিত সেতুর প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) অনুমোদন করেছে এবং এটা বিল্ড, ওউন, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফারের (বিওওটি) ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় নির্মাণের চিন্তা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর সঙ্গে যশোর, কুষ্টিয়া, মাগুরা, ঝিনাইদহ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অন্য জেলাগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য এই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিম ও দেশের অন্যান্য এলাকার ব্যবসা এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে। সৃষ্টি হবে বাড়তি কর্মসংস্থানের সুযোগ, যা দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১১ সালে অনুমোদিত পিডিপিপি অনুযায়ী এই সেতু নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার (১৩ হাজার ১২১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা)। এর আগে ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর মন্ত্রিসভার অর্থনীতিবিষয়ক কমিটি সরকারি- বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) আওতায় বিওওটির ভিত্তিতে এই দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করে।

তথ্যসূত্রঃ bdpratidin