আপডেট: জুন ১২, ২০১৬   ||   ||   মোট পঠিত ২৫৭৮ বার

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনকারী মণিরামপুরের প্রতিবন্ধী কার্তিক করুণা নয় চাকরি চায়

তাজাম্মূল হুসাইন, চিনাটোলা (মণিরামপুর) : মণিরামপুরের প্রতিবন্ধী কার্তিক করুণা নয় চাকরি চায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জনের মধ্যে দিয়ে ইচ্ছা ও মেধাশক্তির কাছে প্রতিবন্ধি কার্তিকের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা হার মানলেও জীবন প্রতিষ্ঠার জন্য চাকরির কাছে হার মানতে হচ্ছে তাকে। করুণা ভিক্ষা নয়, চাকরি চান কার্তিক।

যশোরের মণিরামপুর উপজেলার নিভৃত এক পল্লী দহাকুলা গ্রামের হত-দরিদ্র রামপদ দাস ও মালঞ্চ রানী দাসের ছেলে কার্তিক। জন্মের পর থেকে অষ্টিওলাইস্সি রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গুত্ব হয় কার্তিক। শত চেষ্টা করেও ছেলের রোগ সারাতে পারেননি বাবা-মা। হাঁটু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত শুকিয়ে শীর্ণকায় হয়ে গেছে। মাত্র ৩২ ইঞ্চি উচ্চতার শারীরিক প্রতিবন্ধী কার্তিক ইতিমধ্যে জীবনের ৩০টি বছর পার করেছেন। প্রতিবন্ধী হয়েও দমেননি তিনি। অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে কৃতিত্বের সাথে ২০০৩ সালে এসএসসি ও ২০০৬ সালে এইচএসসি পাশের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধীন মণিরামপুর কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও যশোর সরকারি এমএম কলেজ থেকে ওই বিষয়ে এমএ ডিগ্রী অর্জন করেন। একই সাথে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে কম্পিউটারের উপর ডিপ্লোমা ডিগ্রীও অর্জন করেছেন। কখনো ভ্যানে, কখনোবা অন্যের কোলে চড়ে বাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ নিয়মিত যাতায়াত করে এসএসসি ও এইচএসসি’র পর জীবনের এত পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেও জীবন প্রতিষ্ঠার দ্বার প্রান্তে চাকরির কাছে হার মানতে হচ্ছে তাকে।

কার্তিকের মা মালঞ্চ দাস বলেন, ডাক্তাররা বলেছেন অপারেশন করাইলে কার্তিক কিছুটা শক্তি ফিরে পাবে। কিন্তু আমাদের দিন চলে খেয়ে না খেয়ে, অপারেশন করার টাকা পাবো কোথায়? কার্তিকের বাবা রামপদ দাস বলেন, ছোট বেলা থেকেই তার ছেলের পড়ালেখার প্রতি খুব আগ্রহ। অনেক কষ্ট করে লেখা-পড়া করেছে সে। তার সবচেয়ে বেশি সহায্য করেছে বন্ধু বৈদ্যনাথ দাস। অভাবের সংসারে আজ যদি ও একটা চাকরি পেত তাহলে আমাদের কষ্ট কিছুটা দূর হত। কার্তিকের শিক্ষক অধ্যাপক বাবুল আকতার বলেন, অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে হার মেনেছে প্রতিবন্ধী কার্তিকের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা। সে সমাজসেবা অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ, সিভিল সার্জন অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকুরির আবেদন করেছেন। সরকারি/বেসরকারি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করতে পারলে সে আমাদের বোঝা নয়, বরং সম্পদ হত। কার্তিক বলেন, প্রতিবন্ধী হয়েছি বলে কারো করুণা ভিক্ষা চাই না, চাই সম্মান জনক একটি চাকরি। চাকরি পেয়ে বাবা- মার টানাটানির সংসারের কিছুটা দায়িত্ব নিতে চাই।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj