আপডেট: মে ১৯, ২০১৬   ||   ||   মোট পঠিত ২২৮৩ বার

মণিরামপুরে সংখ্যালঘুদের ২শ’বিঘা জমি দখলের অভিযোগ: আটক ১

রাজগঞ্জ (মণিরামপুর) যশোর :মণিরামপুরে সংখ্যালঘুদের ২শ’বিঘা জমি দখলের অভিযোগমণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ও চালুয়াহাটি ইউনিয়নে সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের প্রায় ২শ’ বিঘা জমি জবর দখলের ঘটনায় ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একটি টিম। পরিদর্শন শেষে ভুক্তভোগীদের দিয়ে মামলা করানোর পাশাপাশি দখলে জড়িত মাহাবুব মেম্বারকে আটক করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে তাকে আটক করা হয়।

এলাকাবাসী বলছেন, গত ২২ মার্চ যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ঝাঁপা ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামসুল হক মন্টু ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর মন্টু ও তার ক্যাডার বাহিনী বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা নির্বাচনে তার বিপক্ষে থাকা মানুষের উপর অত্যাচার শুরু করে। তারই অংশ হিসেবে ঝাঁপা ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী চালুয়াহাটি ইউনিয়নে প্রতিপক্ষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ফসলসহ মাঠের জমি জবর দখল শুরু করে। দখলের এক পর্যায়ে গত ১৩ মে মোবারকপুর মৌজায় প্রায় ২০০ বিঘা জমি দখল করে নেয় মন্টু বাহিনী। এরপর দখল করা জমিতে জোর পূর্বক ঘের তৈরির কাজ শুরু করে তারা।

রবীন্দ্র হাজরা, চিত্র হাজরা, ভগিরত হাজরা, মুকুন্দ হাজরাসহ আরও অনেক জমির মালিক জমি জবর দখলের প্রতিবাদ করেন। কিন্তু মন্টু বাহিনীর লোকজন জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। ওই সময় দখলদাররা জানায়, শামসুল হক মন্টু যত দিন চেয়ারম্যান থাকবে তত দিন এই জমি তাদের। এমনকি জমির মালিকদের দেশ ছেড়ে চলে যেতেও বলে। মণিরামপুরে সংখ্যালঘুদের ২শ’বিঘা জমি দখলের অভিযোগমণিরামপুরে সংখ্যালঘুদের ২শ’বিঘা জমি দখলের অভিযোগ

ঝাঁপা ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ জানান, শামসুল হক মন্টু বাহিনী এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এলাকায় ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই। সব চেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। তিনি বলেন, মন্টু বাহিনী তার ৪৮ শতক জমি দখল করে নিয়েছে। এছাড়া তার গ্রামের আরো ৫০ বিঘা জমি দখল করে ঘের কাটছে মন্টু বাহিনী।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, মন্টু বাহিনী একক আধিপত্য বিস্তার করতে অস্ত্র-বোমা মজুদের পাশাপাশি মহড়া শুরু করে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে নির্যাতনের শিকার মানুষগুলো। যে কারনে ন্যায় বিচারের আশায় তারা গত মঙ্গলবার স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মণিরামপুরে সংখ্যালঘুদের ২শ’বিঘা জমি দখলের অভিযোগএরপর বুধবার ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যান সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা। তিনি এলাকার মানুষকে আশস্ত করেন। তিনি কারো জমি কেউ জোর পূর্বক দখল নিতে পারবে না বলে জানান। এছাড়া তিনি নিজে ভুক্তভোগী দুইজনকে দিয়ে জমি জবর দখল ও নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে অভিযান চালিয়ে বিকেল ৫টার দিকে চন্ডিপুর বাজার থেকে মন্টু বাহিনীর সদস্য মাহাবুর মেম্বারকে আটক করেন তিনি।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা বলেন, ওখানে একটি ঘের করাকে কেন্দ্র করে দুই ধরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘের তৈরির সাথে সম্পৃক্তদের দাবি তারা মৌখিক ডিট করে কাজ শুরু করেছেন। তবে জমিদাতাদের অভিযোগ তারা জমি দিতে চান না।

তিনি বলেন, কেবল সংখ্যালঘু নয়, যে কোন ধরণের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াবে পুলিশ। আমি জমির মালিকদের মামলা দিতে বলেছি। আর মাহাবুর মেম্বারকে আটক করেছি। জমির মালিকরা মামলা দিলে তাকে আটক দেখানো হবে বলে জানান তিনি।

তথ্যসূত্রঃ Gramerkagoj