যশোরে নদী দখল করে পুকুর!
নদী দখল করে পুকুর
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেতনা নদী দখল করে পুকুর কেটে মাছের চাষ শুরু করেছে প্রভাবশালী একটি চক্র। ফলে বর্ষা মৌসুমে বেতনা পাড়ে জলাবদ্ধতায় ফসলহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। দখলবাজেরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রামবাসী প্রতিবাদও করতে পারছে না।
শার্শা উপজেলার ভারত সীমান্তের নারকেলবাড়িয়া-শিকারপুরের ভেতর দিয়ে বেতনা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। পরে শার্শা উপজেলার ডিহি, নিজামপুর, লক্ষণপুর, শার্শা, ঝিকরগাছার নাভারন, নির্বাসখোলা হয়ে শার্শার উলসি, সামটা হয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কপোতাক্ষ নদে গিয়ে মিশেছে। শার্শা ও ঝিকরগাছার একাংশের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ এই নদী দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে বেদখল হয়েছে।
সরেজমিনে ঝিকরগাছার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের পাঁচপোতা, বেড়ারপানি গ্রামে দেখা গেছে, প্রভাবশালীরা নদীর মধ্যে পুকুর কেটে পাড় উঁচু করে মাছের চাষের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাঁচপোতা ও বেড়ারপানি অংশে নদী দখল করে ২০-২৫টি পুকুর কাটা হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর মধ্যে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে মাছের চাষের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেতনার বেড়ারপানি অংশে লাল মিয়া, মোরব আলী, নুর ইসলাম, গোলাম, মোরশেদ, আনার, জারজিস, জামাল প্রমুখ এবার নতুনভাবে নদীর মধ্যে পুকুর কেটেছে। বেতনার ডুমরের খালের কাছে মাছের চাষ করার জন্য নদী আড়াআড়ি বেঁধে ফেলা হয়েছে। গ্রামবাসী জানায়, গ্রামের লুৎফর, নিছার, জারজিস প্রমুখ মাছের চাষ করার জন্য এখানে বাঁধ দিয়েছে। পাঁচপোতার কাছে নাভারন ইউনিয়নের মধ্যে আগে থেকেই নদীর অংশে দেলোয়ার, আব্দুল কাদের ও মোশতাকের পুকুর রয়েছে। পাঁচপোতা বাজারে নদীর সীমানার মধ্যে অনেকে দোকান ও ঘরবাড়ি তৈরি করেছে।
বেতনার মধ্যে পুকুরকাটার অভিযোগ অস্বীকার করে বেড়ারপানি গ্রামের জারজিস বলেন, তাঁদের জমিতে পুকুর কাটা হচ্ছে। এই জমি তাঁর দাদার নামে রেকর্ড করা আছে। তবে পুকুরে নদীর কিছু জমি থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই কথা বলেন নুরুল ইসলাম।
বেড়ারপানি গ্রামের কৃষক আয়ুব হোসেন জানান, নদীর মধ্যে পুকুর কেটে মাছ চাষ করলে সামনের বর্ষায় পানি বের হতে না পেরে বিল (পাঁচপোতা) পানিতে ডুবে যাবে। এই বিলের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়। গ্রামের সাহাজ উদ্দিন বলেন, ‘প্রভাবশালীরা নদীতে পুকুর কাটছে। আমাদের কথা তারা শুনবে না। এসব দেখারও যেন কেউ নেই।’ পাঁচপোতা বাজারের দোকানদার লাল্টু জানান, এবার যেভাবে নদী দখল করে পুকুর কাটার হিড়িক পড়েছে, তাতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দেবে। বিল পানিতে তলিয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শার্শা উপজেলা প্রশাসন সেনাবাহিনীর সহায়তায় বেতনা থেকে বেশির ভাগ অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করে। গত দুই বছরে আর কেউ নদী দখলের সাহস পায়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দখলবাজেরা আবার সক্রিয় হয়ে উ েছে।
নদী দখলের বিষয়ে জানতে গিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। উপজেলার হাজিরবাগ ইউনিয়নের কুল্লা বাজারে নির্বাসখোলা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকতার হোসেন জানান, বিষয়টি তিনি জানেন না। এমনকি কেউ অভিযোগও করেনি। তবে বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম জানান, উন্মুক্ত জলাশয়ে পুকুর বা বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ কিংবা পানিপ্রবাহে বাঁধা দেওয়া বেআইনি। বেতনা নদীতে পুকুর কেটে মাছ চাষ করার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।