মাগুরা
মানচিত্র মাগুরা জেলা


মাগুরা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। ১৯৪৫ সালে মাগুরা মহকুমার সৃষ্টি হয়। ১৯৮৪ সালে মাগুরা তা জেলায় উন্নীত হয়।
মাগুরা জেলা ২৩ ডিগ্রী ২৯ মিনিট উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৯ ডিগ্রী ২৬ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। মাগুরা জেলা সমুদ্র সমতল হতে ২৬ ফুট উচ্চে অবস্থিত।
আয়তন ১,০৩৯.১০ (বর্গকিলোমিটার) ৪০১.০০ (বর্গমাইল), পূর্বে ফরিদপুর, পশ্চিমে ঝিনাইদহ, উত্তরে রাজবাড়ী ও দক্ষিণে যশোর ও নড়াইল।

ভূ-প্রকৃতি
মাগুরা বাংলাদেশের সম্প্রতিককালের গর্বিত প্রাবন সমভূমির অমত্মর্গত জেলা। বাংলাদেশের অন্যান্য সূত্রের মত মাগুরা জেলাও নবীন ভূতাত্ত্বিক যুগে অর্থাৎ সত্তর হাজার বছর আগে সৃষ্ ি হয়েছে। মূলত পক্ষ নদীর পলি সঞ্চয়নের দ্বারা এ বদ্বীপ অঞ্চল গর্বিত হয়েছিল। এখানকার নদীগুলোর উৎস পক্ষ তাই এ এলাকা পলি আছে। পূর্বভাগের মহম্মদপুর উপজেলা এ জেলার নীচু এলাকা।

ভূ-তাত্ত্বিক গ ন
মাগুরা জেলার পূর্ব অঞ্চল ব্যতীত প্রায় সমগ্র অংশ সমান উচ্চতা বিশিষ্ট। ৪র্থ মহাযুগীয় পলল সঞ্চয় দ্বারা মাগুরা জেলা গ িত। অভদ্ভুয় সমভূমি। এ জেলার মৃত্তিকার পর্যালোচনায় দেখা যায় উপরের সত্মরে কাদা পলি এবং শুষ্ক পলি রয়েছে। এ সত্মর ৫০ ফুট হতে ১৫০ ফুট পর্যন্ত গভীর। এর পরবর্তী সত্মরে শুষ্ক পলির সাথে মধ্যমাকৃতির মোটা বালিকনা রয়েছে। মাগুরা জেলায় সমভূমি গ নে পদ্মা এবং তার দুটি প্রধান শাখা নদী মাথা ভাঙ্গা এর গড়াই মধুমতির বিশেষ অবদান রেখেছে।

নৃ-তাত্ত্বিক
মাগুরায় বসবাস রত জনগোষ্ ির নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের তেমন সুস্পষ্ট পরিচয় পাওযা যায় না। ধারণা করা হচ্ছে এখানকার র্থ, দ্রাবিড়, মঙ্গোলীয়, অস্ট্রালয়েড, জনগোষ্ ীয় মিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ ীর মতই এ জেলায় মানুষের গাত্র, বর্ণ, দৈহিক, আকার, চুল, চোখ প্রভৃতি।

মৃত্তিকা
পদ্মা ও তার শাখা নদী দ্বারা বাহিত হিমালয় পর্বতের পলল দ্বারা মাগুরার মৃত্তিকা গ িত। এ মৃত্তিকায় উপরের সত্মর সুক্ষ্ম বালুকণা পলি এবং কাদা দ্বারা গ িত। এর নীচের সত্মর অপেক্ষাকৃত মোটা বালুকণা দ্বারা সমৃদ্ধ। মৃত্তিকার গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্য এবং আদি শিলার উপর ভিত্তি করে মাগুরা জেলার মৃত্তিকাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ-
ক) পস্নাবন ভূমির চুনযুক্ত গাঢ় ধূসর মৃত্তিকা যা জেলার পূর্বাঞ্চলে দেখা যায়।
খ) পস্নাবন ভূমির চুনযুক্ত বাদিমী মৃত্তিকা যা জেলার পশ্চিমভাবে দেখা যায়।
গ) পিট মৃত্তিকা যা জেলার নিম্ন অঞ্চলে দেখা যায়।

জলবায়ু
মাগুরার জলবায়ু সমভাবাপন্ন। এখানকার শীতকাল শুষ্ক এবং গ্রীষ্মকাল, উষ্ণ ও আর্দ। গ্রীষ্মকালে এ জেলার উপর দিয়ে মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয় এবং তখন সর্বাধিক আদ্রতা পরিলক্ষিত হয়। এ সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। মাঝে মধ্যে নভেম্বর-ডিসেম্বরে এখানে বঙ্গোপসাগর থেকে আগত ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়। গ্রীষ্মকালে কাল বৈশাখির প্রভাব এখানে স্পষ্ট।

এই জেলার প্রধান নদী: গড়াই-মধুমতি, কুমার, চিত্রা, নবগঙ্গা, ফটকী ও মুচিখালি।
একসময় আরাফানী মগ দস্যুরা এ সব নদীবক্ষেই মাগুরাতে এসেছিল লুণ্ ন করতে।
নৌকা ও জাহাজে করে দেশী ও বিদেশী পণ্যসামগ্রী আমদানি ও রপ্তানী করত।
তাই সহজেই অনুমেয় একসময় এসব নদীসমূহ প্রবাহমান ছিল। বর্তমানে প্রতিটি নদীই তার নাব্যতা হারিয়েছে।

মাগুরা জেলায় ৪টি উপজেলা রয়েছে। এগুলো হলো: ১) মাগুরা সদর উপজেলা, ২) মোহাম্মদপুর উপজেলা, ৩) শালিখা উপজেলা, ৪) শ্রীপুর উপজেলা
এই জেলার ইউনিয়ন:৩৬টি, মৌজা :৫১০টি, গ্রাম:৭১১টি, পৌরসভা:১টি মাগুরা সদর, পৌর ওয়ার্ড:৯টি, পৌরমহল্লা:৬১টি

জেলাই শিক্ষার হার ৫০.৬% এর মধ্যে পুরুষ ৫২.৯%, মহিলা ৪৮.৫%।

প্রত্নসম্পদ ও প্রাচীন নিদর্শন: নদের চাঁদের ঘাট, পীর মুকাররম আলীর মাযার, গরীব শাহের মাযার, রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, রাজা শত্রুজিৎ রায়ের রাজবাড়ি, দেবল রাজার গড়, শ্রীপুরের বিরাট রাজার রাজবাড়ির স্মৃতিচিহ্ন, গোপালগ্রামের মুঘল আমলের মসজিদ, আ ার খাদার সিদ্ধেশ্বরী ম এবং ন্যাংটা বাবার আশ্রম ও সাতদোহা আশ্রম উল্লেখযোগ্য।