চৌগাছার তুলা গবেষণা ও বীজ বর্ধন খামার অরক্ষিত, গোচারণ ভূমিতে পরিণত
তুলা গবেষণা ও বীজ বর্ধন খামার অরক্ষিত, গোচারণ ভূমি

যশোরের চৌগাছায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ তুলা গবেষণা ও বীজ বর্ধন খামারটি অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত। খামারটি যে মহৎ উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল তা নানা কারণে আজ ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠালগ্নে খামারের সীমানা প্রাচীর এখন মাটির সাথে মিশে গেছে। এ অবস্থায় গোটা খামার গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। খামারের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ধ্বংস হচ্ছে, আবাসিক ভবনসহ সকল ভবন এখন ব্যবহারের অনুপযোগী। কৃষকরা সে ভাবে এখন আর পাচ্ছেন না প্রশিণ। এমন এক পরিস্থিতিতে অবিলম্বে খামারটির সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে যথাযথ পদপে গ্রহণে সংশিষ্ট কর্তৃপরে হস্তপে কামনা করেছেন।

সূত্র জানায়, আশির দশকে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার রূপকার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আসেন উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে। এই গ্রামের কৃতি সন্তান সাবেক সচিব এম মনিরুজ্জামানের কল্যাণে তিনি ছুটে আসেন জগদীশপুরে। ধু ধু বালুময় এক মাঠে তার বহনকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করে। হেলিকপ্টার থেকে নেমেই রাষ্ট্রপ্রধান পায়ে হেঁটে হেঁটে মাঠ পরিদর্শন করেন। এরপর যোগ দেন স্থানীয় সুধী সমাবেশে। তিনি অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে ঘোষণা দেন এই বালুময় মাঠেই প্রতিষ্ঠিত করা হবে একটি অত্যাধুনিক তুলাবীজ বর্ধন খামার। তার উদ্দেশ্য এ অঞ্চলের অবহেলিত প্রান্তিক চাষিরা এই খামারে প্রশিণ নিয়ে প্রশিণলব্ধ জ্ঞান মাঠের কাজে লাগিয়ে তারা যেমন লাভবান হবেন তেমনি দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে। তার ঘোষণা মেতাবেক জগদীশপুর, মির্জাপুর, কান্দি, আড়কান্দি, স্বর্পরাজপুর, পুড়াহুদা গ্রামাঞ্চলের চাষিদের নিকট থেকে শুরু করা হয় জমি অধিগ্রহণ। প্রতিষ্ঠিত হয় ১শ ৫৭ একর জমির উপর এ অঞ্চল তো বটেই, দণি এশিয়ার সর্ববৃহৎ তুলাবীজ বর্ধন ও গবেষণা খামার। খামারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে অত্যান্ত সাফল্যের সাথে তার সময়কাল পার করতে থাকে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আজ চৌগাছাবাসীর গৌরব এই খামার নানা সমস্যায় তার সকল ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। খামারটি প্রতিষ্ঠার সময় তিনটি প্রবেশপথ রেখে ১ শ ৫৭ একর জমি কাটাতারের বেড়া দিয়ে সংরণ করা হয়। খামারের অভ্যন্তরে অফিস ভবনের পাশাপাশি নির্মিত হয় আবাসিক ভবন, খামারের কাজে ব্যবহৃত যানবাহন রাখার ভবন, কৃষক প্রশিণের ভবনসহ নানা স্থাপনা। কিন্তু প্রতিটি ভবনসহ খামারের অভ্যন্তরের সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সব থেকে নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সীমানা প্রাচীর নিয়ে। যে সীমানা প্রচীর এক সময় খামারের সুরা করতো তা আজ মাটির সাথে মিশে গেছে। সীমানা প্রাচীরের লোহার রড ও তার যে যার মত নিয়ে গেছে। বর্তমানে সম্পূর্ণ অরতি অবস্থায় আছে বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানটি। আগের মত আর হয় না এখন তুলা চাষ, চাষিরা পান না নিয়মিত প্রশিণ। সেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের অনেকেই থাকেন জেলা শহরে। সঠিকভাবে চাষাবাদ না হওয়ায় খামারের বিঘার পর বিঘা জমি পতিত অবস্থায় পড়ে আছে। ঘাস ও লতাপাতার জন্ম নেয়ায় খামার অভ্যন্তরে অহরহ প্রবেশ করছে গবাদি পশু। বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তাতে অনেকে এই খামারকে গো-চারণ ভূমি বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ বিষয়ে খামারের কটন এগ্রোনোমিস্ট আব্দুলাহ আল মামুনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সীমানা প্রাচীর না থাকার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে গবাদি পশু খামার অভ্যন্তরে যাতে কম প্রবেশ করে। তবে আশার কথা হচ্ছে সীমানা প্রাচীরসহ খমারের সকল ভবন পুননির্মাণের জন্য ডিজাইন করে ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি বর্ষা মৌসুম শেষ হলে সকল কাজ শুরু হবে। তখন খামার তার চিরচেনা রূপ ফিরে পাবে।