মুক্তিযুদ্ধকালের বোমা সংরক্ষণের দাবি
কেশবপুর উপজেলার কোমরপোলের পরে চালুয়াহটি গ্রামের মোড়লবাড়ির সামনে বোমাটি পাকা মেঝের ওপর রডের বেষ্টনী দিয়ে রাখা হয়েছে।

.১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১। যশোরের মনিরামপুরের চালুয়াহাটি গ্রামের আকাশ দিয়ে উড়ে যায় দুটি যুদ্ধবিমান। বিমান থেকে ফেলা হয় দুটি বোমা। এর একটি বিস্ফোরিত হয়নি। অবিস্ফোরিত বোমাটি আজও রয়েছে ওই গ্রামে।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেশবপুর উপজেলার কোমরপোলের পরে চালুয়াহটি গ্রাম। গ্রামের মোড়লবাড়ির সামনে বোমাটি পাকা মেঝের ওপর রডের বেষ্টনী দিয়ে রাখা হয়েছে।

বোমাটি পড়ে গ্রামের মোড়লপাড়ার ইসাহাক ফকিরের পারিবারিক কবরস্থানে। ইসাহাক ফকির (৭০) বলেন, ‘সকালের দিকে আমি বাড়ির পাশের জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দুটি প্লেন পর পর উড়ে এল। একটা সোজা চলে গেল পশ্চিম দিকে আর পরেরটা ফিরে গেল। পশ্চিম দিকে যে প্লেনটা গেল, মনে হলো সেটা ভেঙে পড়ছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কবরস্থান ধোঁয়ায় ভরে গেল। বাঁশের একটি ঝাড় উড়ে গেল। আমিসহ কয়েকজন অনেক পরে ভয়ে ভয়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, একটা বোমা পড়ে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, যেখানে বোমাটি পড়েছিল সেখানে বড় গর্ত হয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক বছর পর গ্রামের তৎকালীন মাতব্বর মৌলভী মফিজ উদ্দীন আমাদের বললেন, বোমাটি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিতে। সেই থেকে বোমাটি ওখানে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বলেন, বোমার কভারে লেখা ছিল ‘ইউএসএসআর’। চালুয়াহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দীন বলেন, ৬ ডিসেম্বর যশোর পাকিস্তানি বাহিনী মুক্ত হলেও এ এলাকায় রাজাকারেরা ঘাঁটি গেড়েছিল। হয়তো ভারতীয় মিত্র বাহিনী রাজাকারদের ঘাঁটি ধ্বংস করতে বোমাটি ফেলেছিল।

বোমা দেখতে প্রতিদিন বহু লোক এ গ্রামে আসে। তাই গ্রামবাসী বোমাটি সংরক্ষণের জন্য গ্রামেই একটা স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএএনও) বলেন, ‘আমি চালুয়াহটি গ্রামে যাব এবং আমার পক্ষে সম্ভব সবই করব।’