অকালে তরমুজ ফলিয়ে মনিরামপুরে খলিলের চমক
তরমুজ চাষী মনিরামপুরে খলিল

অদম্য ইচ্ছা শক্তি সব বাধা-বিপত্তির পরাজয় ঘটিয়ে মণিরামপুরের খলিল অকালে জাপানি জেসমিন (বেবি) তরমুজ ফলিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন। উপজেলার পৌরশহর লাগোয়া তাহেরপুর গ্রামে এবারই প্রথম তরমুজের চাষ হয়েছে। শুধু মণিরামপুর উপজেলা নয়, যশোর জেলার আর কোথাও এর আবাদ হয়নি কিংবা হয় না বলেই দাবি করেছেন এই সফল কৃষক। ফলনও হয়েছে বেশ। খেতে দারুন সু-স্বাদু, দেশের বড় শহরের ফল বাজারের ব্যবসায়ীসহ সাধারনের কাছে ফলের চাহিদা রয়েছে আকাশ চুম্বি। ক্ষেত থেকেই তরমুজ নিয়ে যাচ্ছে পাইকার ক্রেতারা।

পৌরশহরের রাজগঞ্জ সড়ক ধরে তাহেরপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে চলাচলকৃত রাস্তার পূর্বপার্শ্বে খলিলের বাড়ি। তার বাড়ির সামনে রাস্তার পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় ১৭ কাঠা জমিতে তিনি আবাদ করেছেন তরমুজের। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় খলিল তার তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি কাজে বিরতি দিয়ে কাছে এগিয়ে আসেন। কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে সবজির (তরকারি) ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসায়ীক কাজের সুবাদে তিনি বছর ৫ আগে চুয়াডাঙ্গায় যান। সেখানে তিনি কয়েকজনকে তরমুজের আবাদ করতে দেখেন। মূলতঃ এরপর থেকেই তিনি তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু তার অধির আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তরমুজের বীজ সংগ্রহে ব্যর্থ হন। চুয়াডাঙ্গায় যারা তরমুজের আবাদ করছেন তাদের কেউ তাকে বীজ দেয়া তো দূরের কথা এটির চাষের ব্যাপারে কোন তথ্য দিয়ে সহায়তা দিতে অনাগ্রাহ দেখান। পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় বীজ ডিলার কাদের দি মনি কোম্পানির মাধ্যমে জাপান থেকে ওই তরমুজের বীজ এনে দেন চাষেিদর কাছে। খলিল ডিলার কাদেরের কাছে দীর্ঘদিন ধর্না দিলেও বীজ নিতে পারেননি। এক পর্যায় খলিলের আগ্রহের কাছে হার মেনে ওই কোম্পানির মাধ্যমে সরাসরি মণিরামপুরে তার কাছে বীজ এনে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। খলিল আরো জানায়, ৫হাজার৫শ’ টাকায় ১শ’ গ্রাম বীজ কিনে তরমুজ চাষের উপযোগী করে ১৭ কাঠা জমিতে তিনি বীজ বোপন করেন। চৈত্র মাসের প্রথম থেকে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে এর বীজ বোপণ করতে হয়। এরআগে জমি বিশেষভাবে তৈরী করা হয়। ভারত থেকে আনা ভিন্ন ধরনের পলিথিন দিয়ে মাটি ভরাট করে এর মধ্যে সামান্য জায়গায় মান্দা করে প্রতি ১ হাত অন্তর একটি বীজ বোপন করা হয়। বীজ বোপনের ৩ দিনের মধ্যে চারা গাছ গজায়। এরপর ৪০ দিনের মধ্যে গাছে ফল আসা শুরু করে। সবমিলিয়ে ৯০ দিন পর্যন্ত গাছ থেকে ফল পাওয় যায়। তারপর গাছ আপনা-আপনি মারা যায়। কিন্তু ছোট মাচান করে তার উপর গাছ তুলে না দিলে ফলন ভাল হবে না। খলিল ১৭ কাঠা জমি থেকে প্রায় ১শ’ ৫০ মন ফল পাওয়ার আশা করছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার পিচ ফল বিক্রি করা হয়েছে। এখনো দেড় হাজার পিচ ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন। যশোর, ঢাকা ও খুলনার ফল বাজারের পাইকার ব্যবসায়ীরা ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি ফল ৫৪ টাকা করে নিয়ে যাচ্ছে। তার ১৭ কাঠা জমিতে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচ বাদ দিয়ে তিনি দেড় লাখ টাকা লাভ করবেন বলে আশা করছেন। তবে স্থানীয় কৃষি অফিসের কাছে তরমুজ চাষের সহযোগীতা চাইলে খলিলকে কোন সহযোগীতা করা হয়নি। বরং তাকে নানভাবে তাচ্ছিল্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই কৃষক। মণিরামপুর কৃষি অফিস জানায়, আজ পর্যন্ত এটি সাধারনত কাউকে চাষ করতে দেখা যায়নি। এছাড়া এটি চাষের ব্যাপারেও কোন অভিজ্ঞতা তাদের নেই। যেকারণে তাকে কোন ধরনের সহযোগীতা দেয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এত কিছুর পরও খলিলের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে সব বাঁধা-বিপত্তির পরাজয় ঘটেছে। আত্মতৃপ্তির এখন খলিলসহ তার পরিবারের মুখে।