কাজীপুর ও বর্মণপাড়ায় কৈ-শিং মাগুর চাষে সাফল্যের নজির
পুকুরে কৈ-শিং আর মাগুর মাছ চাষ করে সাফল্য

পুকুরে কৈ-শিং আর মাগুর মাছ চাষ করে সাফল্যর নজির স্থাপন করেছে যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর ও বর্মণপাড়ার গ্রামবাসী। এই দুটি গ্রামের প্রায় সকলেই এখন মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সকলেই যুক্ত হয়ে পড়েছেন কৈ-শিং-মাগুর মাছ চাষে। সংশিষ্টরা জানান, চলতি বছরে শুধু গ্রাম দুটিতে কয়েক কোটি টাকার কৈ, শিং, মাগুর মাছ উৎপাদন হয়েছ। কৈ, শিং, মাগুর মাছ চাষ করে বেকার যুবকসহ অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

যশোর শহর থেকে মাত্র ৪/৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম কাজীপুর ও বর্মণপাড়া। গ্রাম দুটি ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারে ছোট ছোট পুকুরে মাছ চাষ করছেন গ্রামের নারী-পুরুষ। মাছের রেণুপোনার পাশাপাশি তারা যুক্ত হয়েছেন কৈ,শিং আর মাগুর মাছ চাষে। পুরো গ্রামে ডোবা-নালা আর ছোট পুকুরে বৃষ্টি নামার মত দৃশ্য। শুধু শব্দ হচ্ছে বৃষ্টির পড়ার মতো। কৈ মাছ গোটা পুকুর মাথায় করে খেলা করছে। টিনের থালায় করে নারীরা কেউ কেউ মাছের খাবার দিচ্ছেন। নারী-পুরুষ সবাই মিলে মাছের যতœ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় মাছ চাষিরা জানান, এ দুটি গ্রামের ২২০ টি পুকুরে থাই কৈ এর চাষ হচ্ছে। এক বিঘা জলাকরের পুকুরে তিন মাসে উৎপাদন হচ্ছে ১০০ মণ কৈ। বছরে উৎপাদন হচ্ছে ১২ হাজার মণ কৈ মাছ। যার বাজার মূল্যে প্রায় কোটি টাকা। আর এসব কৈ, শিং, মাগুর যশোরসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন বাজারে চলে যাচ্ছে।

মাছ চাষিরা আরো জানান, কৈ মাছ চাষ লাভজনক হলেও ব্যাপক ব্যয়বহুল। প্রতিবিঘা পুকুরে প্রতিদিন ১২ হাজার টাকার খাবার লাগে। খাবারের দামও আগের তুলনায় অনেক বেশি। এজন্য এেেত্র সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে কৈ চাষ আরও লাভজনক ও বিস্তার লাভ করবে বলে চাষিরা জানান।

তবে যশোরের কৈ মাছ চাষকে ইতিবাচক হিসেবে মনে করছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রমজান আলী জানান, যশোরের কাজীপুর বর্মণপাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় যে হারে কৈ চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে হিসেবে ভবিষ্যতে কৈ চাষ গোটা যশোরসহ সারাদেশে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়বে। মাছ চাষিদের মতে, মাছ চাষ শুধু এ অঞ্চলের শ শ মানুষের কর্মসংস্থানই করেনি, এ খাতটি দেশের অর্থনীতিতে রাখছে উলেখযোগ্য অবদান। এজন্য মৎস্য চাষিদের উৎসাহিত করতে সরকার সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করবে এমনটি প্রত্যাশা তাদের।

প্রসঙ্গত : যশোরে হ্যাচারি, নার্সারি ও মাছ চাষ বিকশিত হওয়ায় এখানে সৃষ্টি হয়েছে সম্ভাবনাময় আরো নতুন নতুন কর্মেেত্রর। মাছ চাষকে প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিকায়ন করতে অনেকেই আত্মনিয়োগ করেছেন এ পেশায়। দেশের মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ রেণুপোনাই যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র চাঁচড়া মৎস্যপলীর ৮২টি হ্যাচারিতে গত বছরে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার কেজি রেণু উৎপাদন হয়। প্রতিবছর চৈত্র থেকে মধ্য শ্রাবন রেণুপোনা উৎপাদনের ভরা মৌসুম। এ সময়েই সবচেয়ে বেশি রেণুপোনা উৎপাদিত হয়ে থাকে। তবে ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হয়ে যায় মৌসুমের প্রস্তুতি। তবে বাড়তি শ্রমমূল্য, মৎস্য উপকরণসহ খাদ্য ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চাঁচড়া এলাকার ৪২ টি হ্যাচারি ইতিমধ্যে লোকসানের ভয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। এমনি একটি প্রতিকূল অবস্থায় গৃহায়ন পর্যায়ে মাছের রেণু উৎপাদন করে বর্মণপাড়া ও কাজীপুরবাসী হতাশার মাঝেও আলো জ্বালিয়েছেন, যা মৎস্য বিভাগ খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছে।