ব্যাট তৈরি করে ভাগ্য বদলে যাচ্ছে যশোরের নরেন্দ্রপুরবাসীর
ব্যাট তৈরিতে ব্যস্ত মহিলারা
ক্রিকেট ব্যাটের গ্রাম নামে পরিচিত যশোরের নরেন্দ্রপুর। যশোর শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নরেন্দ্রপুরের মিস্ত্রিপাড়া। এখানে শতাধিক পরিবার জড়িয়ে পড়েছে এই ব্যাট তৈরির পেশায়। নারী -পুরুষ, ছেলে-বুড়ো সবাই দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেন এই ব্যাট তৈরিতে।

আগে অনেকে ছুতোর থাকলেও এখন তারা ব্যাট তৈরির পেশা বেছে নিয়েছেন। এর ফলে তারা আর্থিক স্বচ্ছলতা মুখ দেখছেন। আর তাদের দেখাদেখি অনেকেই যারা ছুতোর ছিলেন না তারাও তদের ভাগ্য ফিরাচ্ছেন এই পেশা বেছে নিয়ে।

বিভিন্ন মাপের ভালোমানের ব্যাট তৈরি হয় এখানে। শীতকালে মিস্ত্রিরা কাজ করেন দিন-রাত। পুরুষদের পাশাপশি মহিলারাও কাজ করেন। ব্যাট তৈরির কারিগরদের নানাবিধ সমস্যা আছে। চলাচলের জন্যে গ্রামে এখনো ভালো রাস্তা নেই। বিদ্যুতের অভাবে মেশিনের পরিবর্তে হাতেই কাজ করতে হয় অনেক পরিবারকে।

তারা জানান, একেক জন ব্যাট তৈরী করে মাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা রোজগার করেন। কিন্তু তারা যে দাম পান দোকানদাররা পান তার চেয়ে বেশি। যশোরে নেই এই ব্যাটের পাইকারি বাজার। বাজারজাতের জন্যে তাকিয়ে থাকতে হয় অন্য জেলার ক্রেতার উপর।

সাধারণ ব্যাট প্রতিশত ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা, ছোট ব্যাট প্রতিশত খুব বেশি হলে ৩ হাজার টাকা এবং ভালোমানের কাঠের তৈরি ব্যাট প্রতিশত ২০ হাজার টাকা পান তারা। তবে এর জন্যে পর্যাপ্ত কাঠ কেনা, শ্রম দিয়ে তৈরি করা ছাড়াও নানাবিধ বিনিয়োগ করা লাগে। তারপরও লাভ যা থাকে তা দিয়ে খেয়ে পরে সঞ্চয় থাকে কিছু। আর সরকারি সহযোগিতা, বিদ্যুৎ সমস্যা, রাস্তার সমস্যা, বাজারজাত সমস্যা না থাকলে এটা একটি বড় শিল্পে পরিণত করা সম্ভব হবে।