কালিয়ায় ২শ বছরের পুরনো চড়ক মেলা ও পূজার অজানা কথা
মানুষসহ চড়ক গাছের ঘূর্ণনের দৃশ্য

আবহমানকাল থেকেই বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে গ্রাম্য মেলার রয়েছে এক নিবিড় যোগসূত্র। কখন কার উদ্যোগে মেলা প্রথম শুরু হয়েছিল তা বলা মুশকিল। কিন্তু যুগে যুগে বিভিন্ন উত্থান-পতন অতিক্রম করে মেলা এখনও গ্রামীণ ও শহরের মানুষের জীবনে আনন্দ বিলিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বারোটি মাস ঘুরে ফিরে আসে বৈশাখ, আর বাংলা বছরের ইতি টানে চৈত্র। চৈত্র এলেই গ্রাম বাংলায় বেজে উ ে বাংলা বছরের বিদায়ের করুণ সুর। নতুন বছরের বৈশাখকে নিজেদের মাঝে বরণ করার জন্য মনে জাগে নবচেতনা। প্রাচীনকাল থেকে নতুন বছরের নতুন বৈশাখের ছোঁয়াতে মানুষ উজ্জীবিত হয়ে আসছে। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কালিয়া উপজেলা সদরে াকুরবাড়ি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো চড়ক মেলা ও পূজার কাহিনী নিয়ে লেখা বিশ্লেষণমূলক এ প্রতিবেদন।

চড়কগাছের কথা : চড়কগাছটি প্রায় ৪৫ ফুট লম্বা, মাথায় বাঁশ বেঁধে ৪টি কোণা বা চরকি করা হয়। চরকির চারপাশে চারটি দড়ি বাঁধা হয়। ভারতীয় পঞ্জিকার হিসাবে পহেলা বৈশাখ, বাংলাদেশের হিসাবমতে ২ বৈশাখ বিকালে প্রত্যেক দড়ির সঙ্গে কাপড় বেঁধে বিশেষ কায়দায় ৪ জনের পি ে বাঁধা হয়। দড়ি বাঁধা সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয় চরকি ঘুরানোর কাজ। ২৫-৩০ জন যুবক বাদ্যের তালে তালে নিচ থেকে চরকির সঙ্গে বাঁধা দড়ি বল প্রয়োগ করে ৪ জনকে শূন্যে ঘোরাতে থাকে। এভাবেই প্রায় ১০-১৫ মিনিট করে পর্যায়ক্রমে ৩ বার মোট ১২ জনকে চড়কগাছে ঘুরানোর পর চড়ক ঘুরানো পর্ব শেষ হয়। এবার ১৫ মার্চ চড়কগাছে যারা ঘুরেছেন তারা হলেন গোপাল শীল, গৌর চন্দ্র বিশ্বাস, চন্দ্রকান্ত দাশ, কল্লল বিশ্বাস, পলাশ স্বর্ণকার, মিত্যুন সূত্রধর, শুভ ঘোষ, সঞ্জিত বিশ্বাস, সজল, সরজিৎ ও অভিজিৎ। এভাবেই ২ দিনব্যাপী চড়কপূজা ও মেলা হয়। শতবর্ষ আগে চড়কমেলা শেষ হওয়ার পর ওই চড়কগাছ, মেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত নবগঙ্গা নদীর পানিতে ছেড়ে দেয়া হতো। লোকমুখে শোনা যায়, চৈত্র মাসের শেষ দিন ৮-১০ জন ঢুলি-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে নদীর ঘাটে বাজনা শুরু করলে কিছু সময় পর চড়কগাছ আপনা আপনি মাথা তুলে পানির উপরে ভেসে উ তো। তখন দড়ি বা কাছি দিয়ে টেনে উপরে তোলা হতো। কিন্তু সেই পুরনো চড়কগাছ আর নেই। প্রায় ১০০ বছর ধরে বর্তমান চড়কগাছটি চড়কমেলা শেষ হওয়ার পর াকুরবাড়ির পুকুরে ভিজিয়ে রাখা হয়। এখন আর বাজনার শব্দ শুনে ভেসে ও ে না। তবুও বাজনা বাজানো হয়। পুকুর থেকে দড়ি বা কাছি দিয়ে বেঁধে ৩০-৪০ জন লোক গাছটি টেনে উপরে উ ায়। চৌধুরীবাড়ির মন্দিরের সামনে মা ে চড়কগাছটি রাখা হয়। যথারীতি পূজা-অর্চনার উপযোগী করার জন্য ঘষামাজা করে পরিষ্কার করা হয়। ৩০ চৈত্র চড়কগাছকে পূজা করা হয়।

চড়কপূজা ও মেলার বর্ণনা : কালিয়ার প্রাণকেন্দ্রে সাবেক পৌর ভবনের সামনে এবং বিশ্ববিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর ও সহোদর বিশ্ববরেণ্য সেতার বাদক রবি শংকরের বাড়িসংলগ্ন পূর্ব পাশে াকুরবাড়িতে ২০০ বছর থেকে ৩০ চৈত্র চড়কপূজা ও ২ বৈশাখে চড়কমেলা অনুষ্ িত হয়ে আসছে। ধারাবাহিকভাবে চড়কমেলাকে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও ধরে রেখেছে াকুর পরিবার।