যশোরে দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্টার উদ্যোগ নয় বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি

যশোরের সম্ভাবনাময় শিল্প খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ থমকে গেছে। ২০০৫ সালের পর ৯ বছরে চিঠি চালাচলির একপর্যায়ে প্রাথমিক কাজ শেষ হলেও এখানও চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারেনি দ্বিতীয় শিল্পনগরী। শহর থেকে পঁাঁচ কিলোমিটার পূর্বে যশোর-নড়াইল সড়কের দাইতলা সেতুর পাশে ফতেপুর গ্রামে ৪০ একর সরকারি জমির ওপর এই শিল্পনগরী স্থাপনের এই প্রস্তাব করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাবনার দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় শিল্প উদ্যোক্ততাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে সম্ভাবনাময় শিল্পকে এগিয়ে নেয়া হোক।

সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে যশোরে দ্বিতীয় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব পাঠনোর হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি চালাচালি হয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালের ৮ মে সরকারের কাছে আবারও প্রস্তাব করে যশোর বিসিক কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান কার্যালয় থেকে পরিদর্শনে একটি টিম আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা আর আসেনি। ফলে যশোরে দ্বিতীয় শিল্পনগরী কবে গড়ে উঠবে সেটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয় শিল্পনগরী বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সম্ভাবনায় শিল্প খাত অটোমোবাইল শিল্পকারখানার সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া থমকে গেছে। যশোর শহর ও শহরতলীতে আবাসিক ও অনাবাসিক এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে শতাধিক অটোমোবাইল শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানায় মোটরগাড়ির যন্ত্রাংশ, বাস-ট্রাকের বডি উৎপাদন, অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার সংযোজন এবং মোটরগাড়ি মেরামত করা হয়। তাই একই জায়গায় সমন্বিত অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে কারখানাগুলো গড়ে এনে দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে তোলার দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান বলেন, দ্বিতীয় শিল্প নগরী গড়ে না উঠলে এ অঞ্চলের শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। উদ্যোক্তারা তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। যা যশোরের উদীয়মান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকাকে থামিয়ে দেবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব যশোরে দ্বিতীয় শিল্পনগরী গড়ে তুলতে হবে।

যশোর বিসিকের শিল্পনগরী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষেতি, ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু তারপর চিঠি চালাচালিতে সীমাবদ্ধ ছিল। সর্বশেষ ২০১১ সালের ৮ মে বিভিন্ন সুযোগসহ নানা যৌক্তিকতা তুলে ধরে নয় দফা সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করে জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের মাধ্যমে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়। প্রতিবেদনে শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে যশোর-নড়াইল সড়কের দাইতলা সেতুর পাশে ফতেপুর গ্রামে ৪০ একর জমির ওপর অটোমোবাইল শিল্পাঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। ওই স্থানে শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা হলে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ও শিল্পের কাঁচামাল পরিবহনের জন্য ঢাকা ও বেনাপোলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। এছাড়া অটোমোবাইল করখানার উৎপাদিত পণ্য আমদানি বিকল্প হিসেবে পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক অবদান রাখবে। তেমনি বেকার জনগোষ্ঠী পাবে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ।

শিল্পনগরী কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিসিকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি টিম আসার কথা ছিল সরেজমিন তদন্ত করার জন্য। তারা রিপোর্ট দিলে এটা কার্যকর করা সম্ভব হতো। কিন্তু তারা না আসায় পিছিয়ে গেছে এর অগ্রগতি।

যশোর শহরের পাশেই ঝুমঝুমপুরে ৫০ একর জমির ওপর ১৯৬২ সালে গড়ে ওঠে শিল্পনগরী। এই শিল্পনগরীতে মোট ১২৩টি ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে ১২১টি ইউনিটেই শিল্প-কলকারখানা চালু রয়েছে। এখানে কোনো প্লট ফাঁকা না থাকায় নতুন করে কোনো বিনিয়োগ করতে পারছেন না উদ্যোক্তারা। এজন্য যশোরে দ্বিতীয় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন ব্যবসায়ীদের প্রাণের দাবি।