অভিনব ছাগলের গাড়িতে চেপে ছোট্ট খুকির স্কুলে যাওয়া-আসা
যশোরের চৌগাছার শিক্ষক সামাউল ইসলাম আর তার তৈরি ছাগলের গাড়িতে বসা শিশুকন্যা।

সে এক অভিনব ছাগলের গাড়ি। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার জন্য ক্লাস টু-এর ছাত্রী ছোট্ট জান্নাতুল মাওয়াকে আর হাঁটতে হয় না। বাবার তৈরি সেই অভিনব ছাগলের গাড়িতে চড়ে সে প্রতিদিন স্কুলে যায় আবার ছুটির পর বাড়িতে ফেরে। যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী জান্নাতুল মাওয়ার পোষা ছাগল গাড়ি টেনে প্রতিদিন এক কিলোমিটার পথ যাওয়া-আসা করে। এই অভিনব স্কুল বাহনের প্রচলনে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ছাগলে টানা গাড়ি দেখতে উৎসুক মানুষ জান্নাতুল মাওয়াদের বাড়িতে ও স্কুলে সকাল-বিকাল ভিড় করছে।

অভিনব ছাগলের গাড়ি নির্মাণকারী নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সামাউল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মেয়ের খেলনা গাড়ির সামনে চাকা ভেঙে যাওয়ার পর পোষা ছাগল দিয়ে ওই গাড়ি চালানো শুরু করি। এরপর ছাগলটি গাড়ি টানতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তখন মাথায় আসে ব্যতিক্রমী চিন্তা। নিজেই কাঠ , বাঁশ, সুতা ও পলিথিন দিয়ে তৈরি করি এক্কা গাড়ির মতো একটি ছোট বাহন। প্রায় দেড় বছর ধরে ছাগল দিয়ে ওই গাড়ি চালানো হচ্ছে। মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া নিয়মিত ওই ছাগলের গাড়িতে চড়ে স্কুল যাওয়া-আসা করে। সামাউল ইসলাম আরও জানান, প্রায় ২ বছর আগে ৮ হাজার টাকা দিয়ে খাসি ছাগলটি কিনেছিলেন। তখন ওই ছাগলের বয়স ছিল আনুমানিক এক বছর। গৃহপালিত পশুটি পরিবারের সবার কাছেই খুব প্রিয়। মেয়েটিরও সঙ্গে তার দারুণ ভাব।