দমদম পীরস্থান প্রায় ৭ ফুট উচু ঢিবি। পাশ দিয়ে গেলে দমদম আওয়াজ শোনা যায়। যুগ যুগ ধরে মানুষ এমন আওয়াজ শোনেন বলে কথিত আছে। মানুষ স্বপ্নে দেখতেন সেখানে বাস করেন একজন পীর। তাই স্থানটির নামও হয়ে যায় দমদম পীরস্থান। লোকজন এক সময় মানত করতো সেখানে গিয়ে। সেই উচু ঢিবি খনন করে পাওয়া যাচ্ছে দেড় হাজার বছর আগের নানা জিনিষ। আর এই দমদম পীরস্থানে অবস্থান হলো যশোরের মনিরামপুরের দোনা গ্রামে। বর্তমান খুলনা প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতর এখানে খনন কাজ চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে খনন কাজ চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে গনেশ মুর্তি, মাটির তৈরি নানা মুর্তি, অলংকৃত ইট, হাড়ি-পাতিল, কালির দোয়াত। প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কর্মকর্তারা প্রথমিক পর্যায়ে ধারনা করছেন এ গুলো প্রায় ১ হাজার ১শ থেকে ১ হাজার ৫শ বছরের পুরাতন।
মনিরামপুর উপজেলার ভোজগাতি ইউনিয়নের দোনার গ্রামের একটি স্থানকে স্থানীয় লোকজন বলেন দমদম পীরস্থান। স্থানটি বেশ উচু। মনিরামপুর বাজার থেকে যশোরর দিকে আসার পথে রাস্তার পাশে দোনার দীঘি সংলগ্ন সেগুন বাগানের মধ্যে ওই ঢিবি। দীর্ঘকাল ধরে মানুষ এটিকে তীর্থভুমি বলে জেনে আসছেন। ওই প্রবীন ব্যাক্তি আক্কাস আলি(৭০) বলেন, তাঁরা বাব-দাদার আমল থেকে শুনে আসছেন, ওই ঢিবির পাশ দিয়ে হেটে গেলে দমদম আওয়াজ পাওয়া যায়। আর মুরুব্ববীরা স্বপ্নে দেখতেন এখানে এক পীর বসবাস করেন। সে জন্যই নাকি তার নাম হয়েছে দমদম পীরস্থান। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়। ফলে খুলনার প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ দমদম পীরস্থানটি খননের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯৬ সালে এই স্থানটি সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী উল্লেখিত স্থানে খাস জমির পরিমান ৯ একর ৯ শতক। কিন্তু অধিকাংশ জমি গেছে বেহাত হয়ে। গত ৭ জুন থেকে খনন কাজ শুরু হয়েছে। প্রতœতত্ত¡ বিভাগ ৪৫ শতক জমি নিয় খনন কাজ চালাচ্ছে। খনন কাজের তত্ত বধান করছেন প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের ফিল্ড অফিসার মীর্জা মোহাম্মদ আবুল বাসার। এ ছাড়া ৭ সদস্যের একটি টিম ২০ জন শ্রমিকের কাজে সাহায্য করছেন। দমদম পীর স্থানের ৪টি স্থান নির্ধারন করে প্রায় ৭ ফুট গভীর পর্যন্ত খননের পর তিন ফুট ৯ ইঞ্চি চওড়া একটি প্রাচীর পাওয়া গেছে। এটি নির্মানে ২৬x২৭ সেন্টিমিটার ইট ব্যবহার করা হয়েছে। গত ১৫ দিনে খনন করে সেখানে পাওয়া গেছে মাটির তৈরির বিভিন্ন ধরনের মুর্তি, হাড়ি পাতিল (মাটির), মাটির কালির দোয়াত, মাটির তৈরি থালা, যা নানা ধরনের নকশা আঁকা। উদ্ধারকৃত সকল জিনিষ পরিস্কার করার পর দেখা যাচ্ছে তা স্বচ্ছ রয়েছে।
প্রতœতত্ত¡ বিভাগের ফিল্ড অফিসার মীর্জা মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, ৬ষ্ঠ শতকের বৌদ্ধ বিহারের কাঠামোর সাথে এর মিল রয়েছে। খনন কাজের সময় মঙ্গলবার উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্তবিদ গোলাম ফেরদৌস। তিনি বলেন, প্রথমে ধারনা করা হয়েছিল এটা সুলতানী আমলের নির্দশন। কিন্তু খননের পর সে ভুল ভাঙ্গছে। কারন সুলতানী আমলে বাড়ি তৈরির জন্য যে ইট ব্যবহার করা হতো তার ২০x২১ সেন্টিমিটার। আর ৬ষ্ঠ শতকের বাড়িতে ব্যবহার করা হয়েছে ২৬x২৭ সেন্টিমিটার ইট। এখানে পাওয়া গেছে ২৬x২৭ সেন্টিমিটার ইট। তাই সহজেই ধরে নেয়া যায় এটা ৬ষ্ঠ শতকের। তার পরও এর ইতিহাস বের করতে আরও কিছু খনন করা দরকার। কারন বের হয়ে আসতে পারে নতুন নতুন তথ্য। তার জন্য আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।